২১ (baahir hoite dekho naa eman kore)

বাহির হইতে দেখো না এমন করে,

     আমায় দেখো না বাহিরে।

আমায় পাবে না আমার দুখে ও সুখে,

আমার বেদনা খুঁজো না আমার বুকে,

আমায় দেখিতে পাবে না আমার মুখে

    কবিরে খুঁজিছ যেথায় সেথা সে নাহি রে।

 

                সাগরে সাগরে কলরবে যাহা বাজে,

                মেঘগর্জনে ছুটে ঝঞ্ঝার মাঝে,

                নীরব মন্দ্রে নিশীথ-আকাশে রাজে

                      আঁধার হইতে আঁধারে আসন পাতিয়া--

                আমি সেই এই মানবের লোকালয়ে

                বাজিয়া উঠেছি সুখে দুখে লাজে ভয়ে,

                গরজি ছুটিয়া ধাই জয়ে পরাজয়ে

                      বিপুল ছন্দে উদার মন্দ্রে মাতিয়া।

 

যে গন্ধ কাঁপে ফুলের বুকের কাছে,

ভোরের আলোকে যে গান ঘুমায়ে আছে,

শারদ-ধান্যে যে আভা আভাসে নাচে

      কিরণে কিরণে হসিত হিরণে হরিতে,

সেই গন্ধই গড়েছে আমার কায়া,

সে গান আমাতে রচিছে নূতন মায়া,

সে আভা আমার নয়নে ফেলেছে ছায়া--

      আমার মাঝারে আমারে কে পারে ধরিতে।

 

            নর-অরণ্যে মর্মতান তুলি,

            যৌবনবনে উড়াই কুসুমধূলি,

            চিত্তগুহায় সুপ্ত রাগিণীগুলি,

                  শিহরিয়া উঠে আমার পরশে জাগিয়া।

            নবীন উষার তরুণ অরুণে থাকি

            গগনের কোণে মেলি পুলকিত আঁখি,

            নীরব প্রদোষে করুণ কিরণে ঢাকি

                  থাকি মানবের হৃদয়চূড়ায় লাগিয়া।

 

তোমাদের চোখে অঁখিজল ঝরে যবে

আমি তাহাদের গেঁথে দিই গীতরবে,

লাজুক হৃদয় যে কথাটি নাহি কবে

      সুরের ভিতরে লুকাইয়া কহি তাহারে।

নাহি জানি আমি কী পাখা লইয়া উড়ি,

খেলাই ভুলাই দুলাই ফুটাই কুঁড়ি,

কোথা হতে কোন্‌ গন্ধ যে করি চুরি

      সন্ধান তার বলিতে পারি না কাহারে।

 

            যে আমি স্বপন-মুরতি গোপনচারী,

            যে আমি আমারে বুঝিতে বুঝাতে নারি,

            আপন গানের কাছেতে আপনি হারি,

                  সেই আমি কবি। কে পারে আমারে ধরিতে।

     মানুষ-আকারে বদ্ধ যে জন ঘরে,

     ভূমিতে লুটায় প্রতি নিমেষের ভরে,

     যাহারে কাঁপায় স্তুতিনিন্দার জ্বরে,

           কবিরে পাবে না তাহার জীবনচরিতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নিধু বলে আড়চোখে
Verses
নিধু বলে আড়চোখে, 'কুছ নেই পরোয়া।'--
স্ত্রী দিলে গলায় দড়ি বলে, 'এটা ঘরোয়া।'
          দারোগাকে হেসে কয়,
          'খবরটা দিতে হয়'--
পুলিস যখন করে ঘরে এসে চড়োয়া।
          বলে, 'চরণের রেণু
          নাহি চাহিতেই পেনু।'--
এই ব'লে নিধিরাম করে পায়ে-ধরোয়া।
নিধু বাঁকা ক'রে ঘাড় ওড়নাটা উড়িয়ে
বলে, 'মোর পাকা হাড়, যাব নাকো বুড়িয়ে।
          যে যা খুশি করুক-না,
          মারুক-না, ধরুক-না,
তাকিয়াতে দিয়ে ঠেস দেব সব তুড়িয়ে।'
          গালি তারে দিল লোকে
          হাসে নিধু আড়চোখে;
বলে, 'দাদা, আরো বলো, কান গেল জুড়িয়ে।'
পিসে হয় কুলদার, ভুলুদার কাকা সে--
আড়চোখে হাসে আর করে ঘাড় বাঁকা সে।
          যবে গিয়ে শালিখায়
          সাহেবের গালি খায়,
'কেয়ার করিনে' ব'লে তুড়ি মারে আকাশে।
          যেদিন ফয়জাবাদে
          পত্নী ফুঁপিয়ে কাঁদে,
'তবে আসি' ব'লে হাসি চলে যায় ঢাকা সে।
আরো দেখুন
29
Verses
JEWEL-LIKE the immortal
does not boast of its length of years
but of the scintillating point of its moment
আরো দেখুন
কলুষিত
Verses
শ্যামল প্রাণের উৎস হতে
                      অবারিত পুণ্যস্রোতে
                         ধৌত হয় এ বিশ্বধরণী
                             দিবসরজনী।
          হে নগরী, আপনারে বঞ্চিত করেছ সেই স্নানে,
               রচিয়াছ আবরণ কঠিন পাষাণে।
                    আছ নিত্য মলিন অশুচি,
               তোমার ললাট হতে গেছে ঘুচি
                    প্রকৃতির স্বহস্তে লিখা
                   আশীর্বাদটিকা।
                         উষা দিব্যদীপ্তিহারা
               তোমার দিগন্তে এসে। রজনীর তারা
          তোমার আকাশদুষ্ট জাতিচ্যুত, নষ্ট মন্ত্র তার,
                   বিক্ষুব্ধ নিদ্রার
          আলোড়নে ধ্যান তার অস্বচ্ছ আবিল,
                   হারালো সে মিল
          পূজাগন্ধী নন্দনের পারিজাত-সাথে
                   শান্তিহীন রাতে।
                             হেথা সুন্দরের কোলে
                         স্বর্গের বীণার সুর ভ্রষ্ট হল বলে
                   উদ্ধত হয়েছে ঊর্ধ্বে বীভৎসের কোলাহল,
                          কৃত্রিমের কারাগারে বন্দীদল
                                   গর্বভরে
                              শৃঙ্খলের পূজা করে।
                          দ্বেষ ঈর্ষা কুৎসার কলুষে
          আলোহীন অন্তরের গুহাতলে হেথা রাগে পুষে
                          ইতরের অহংকার--
                             গোপন দংশন তার;
                          অশ্লীল তাহার ক্লিন্ন ভাষা
                             সৌজন্যসংযমনাশা।
                          দুর্গন্ধ পঙ্কের দিয়ে দাগা
                   মুখোশের অন্তরালে করে শ্লাঘা;
                          সুরঙ্গ খনন করে,
          ব্যাপি দেয় নিন্দা ক্ষতি প্রতিবেশীদের ঘরে ঘরে;
                       এই নিয়ে হাটে বাটে বাঁকা কটাক্ষের
                             ব্যঙ্গভঙ্গি, চতুর বাক্যের
                                  কুটিল উল্লাস,
                                      ক্রূর পরিহাস।
                             এর চেয়ে আরণ্যক তীব্র হিংসা সেও
                                      শতগুণে শ্রেয়।
                                     ছদ্মবেশ-অপগত
                            শক্তির সরল তেজে সমুদ্যত দাবাগ্নির মতো      
                                      প্রচণ্ড নির্ঘোষ;
                                    নির্মল তাহার রোষ,
                                      তার নির্দয়তা
                             বীরত্বের মাহাত্ম্যে উন্নতা।
                                   প্রাণশক্তি তার মাঝে
                                         অক্ষুণ্ন বিরাজে।
স্বাস্থ্যহীন বীর্যহীন যে হীনতা ধ্বংসের বাহন
                   গর্তখোদা ক্রিমিগণ
                      তারি অনুচর,
              অতি ক্ষুদ্র তাই তারা অতি ভয়ংকর;
                  অগোচরে আনে মহামারী,
                   শনির কলির দত্ত সর্বনাশ তারি।
          মন মোর কেঁদে আজ উঠে জাগি
                   প্রবল মৃত্যুর লাগি।
রুদ্র, জটাবন্ধ হতে করো মুক্ত বিরাট প্লাবন,
          নীচতার ক্লেদপঙ্ক করো রক্ষা ভীষণ! পাবন!
                   তাণ্ডবনৃত্যের ভরে
দুর্বলের যে গ্লানিরে চূর্ণ করো যুগে যুগান্তরে,
       কাপুরুষ নির্জীবের সে নির্লজ্জ অপমানগুলি
              বিলুপ্ত করিয়া দিক উৎক্ষিপ্ত তোমার পদধূলি।
আরো দেখুন