উচ্ছৃঙ্খল (uchchhingkhal)

          এ মুখের পানে চাহিয়া রয়েছ

                কেন গো অমন করে?

তুমি    চিনিতে নারিবে, বুঝিতে নারিবে মোরে।

আমি    কেঁদেছি হেসেছি, ভালো যে বেসেছি

                এসেছি যেতেছি সরে

                কী জানি কিসের ঘোরে।

          কোথা হতে এত বেদনা বহিয়া

                এসেছে পরান মম।

          বিধাতার এক অর্থবিহীন

                প্রলাপবচন-সম।

          প্রতিদিন যারা আছে সুখে দুখে

                আমি তাহাদের নই--

আমি    এসেছি নিমেষে, যাইব নিমেষ বই।

আমি    আমারে চিনি নে, তোমারে জানি নে,

                আমার আলয় কই!

          জগৎ বেড়িয়া নিয়মের পাশ,

                অনিয়ম শুধু আমি।

          বাসা বেঁধে আছে কাছে কাছে সবে,

          কত কাজ করে কত কলরবে,

          চিরকাল ধরে দিবস চলিছে

                দিবসের অনুগামী--

শুধু     আমি নিজবেগ সামালিতে নারি

                ছুটেছি দিবসযামী।

          প্রতিদিন বহে মৃদু সমীরণ,

                প্রতিদিন ফুটে ফুল।

          ঝড় শুধু আসে ক্ষণেকের তরে

                সৃজনের এক ভুল--

          দুরন্ত সাধ কাতর বেদনা

                ফুকারিয়া উভরায়

          আঁধার হইতে আঁধারে ছুটিয়া যায়।

          এ আবেগ নিয়ে কার কাছে যাব,

                নিতে কে পারিবে মোরে!

          কে আমারে পারে আঁকড়ি রাখিতে

                দুখানি বাহুর ডোরে!

আমি          কেবল কাতর গীত!

          কেহ বা শুনিয়া ঘুমায় নিশীথে,

                কেহ জাগে চমকিত।

          কত-যে বেদনা সে কেহ বোঝে না,

                কত-যে আকুল আশা,

          কত-যে তীব্র পিপাসাকাতর ভাষা।

ওগো         তোমরা জগৎবাসী,

          তোমাদের আছে বরষ বরষ

                দরশ-পরশ-রাশি--

          আমার কেবল একটি নিমেষ,

                তারি তরে ধেয়ে আসি।

          মহাসুন্দর একটি নিমেষ

                ফুটেছে কাননশেষে,

আমি    তারি পানে ধাই, ছিঁড়ে নিতে চাই,

          ব্যাকুল বাসনা-সংগীত গাই

          অসীমকালের আঁধার হইতে

                বাহির হইয়া এসে।

শুধু     একটি মুখের এক নিমেষের

                একটি মধুর কথা,

          তারি তরে বহি চিরদিবসের

                চিরমনোব্যাকুলতা।

          কালের কাননে নিমেষ লুটিয়া

                কে জানে চলেছি কোথা!

ওগো,  মিটে না তাহাতে মিটে না প্রাণের ব্যথা।

                অধিক সময় নাই।

          ঝড়ের জীবন ছুটে চলে যায়

                শুধু কেঁদে "চাই চাই"--

          যার কাছে আসি তার কাছে শুধু

                হাহাকার রেখে যাই।

          ওগো, তবে থাক্‌, যে যায় সে যাক--

                তোমরা দিয়ো না ধরা।

                আমি চলে যাব ত্বরা।

মোরে   কেহ কোরো ভয়, কেহ কোরো ঘৃণা,

                ক্ষমা কোরো যদি পারো!

          বিস্মিত চোখে ক্ষণেক চাহিয়া

                তার পরে পথ ছাড়ো!

          তার পরদিনে উঠিবে প্রভাত,

                ফুটিবে কুসুম কত,

          নিয়মে চলিবে নিখিল জগৎ

                প্রতিদিবসের মতো।

          কোথাকার এই শৃঙ্খল-ছেঁড়া

                সৃষ্টি-ছাড়া এ ব্যথা

          কাঁদিয়া কাঁদিয়া গাহিয়া গাহিয়া,

          অজানা আঁধার-সাগর বাহিয়া,

                মিশায়ে যাইবে কোথা!

          এক রজনীর প্রহরের মাঝে

                ফুরাবে সকল কথা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

47
Verses
I.102. tarvar ek mul bin thada
THERE IS A strange tree, which stands without roots and bears fruits without blossoming;
It has no branches and no leaves, it is lotus all over.
Two birds sing there; one is the Guru, and the other the disciple:
The disciple chooses the manifold fruits of life and tastes them, and the Guru beholds him in joy.
What Kabir says is hard to understand: 'The bird is beyond seeking, yet it is most clearly visible. The Formless is in the midst of all forms. I sing the glory of forms.'
আরো দেখুন
স্রোত
Verses
জগৎ-স্রোতে ভেসে চলো, যে যেথা আছ ভাই!
চলেছে যেথা রবি শশী চল্‌ রে সেথা যাই।
কোথায় চলে কে জানে তা, কোথায় যাবে শেষে,
জগৎ-স্রোত বহে গিয়ে কোন্‌ সাগরে মেশে।
অনাদি কাল চলে স্রোত অসীম আকাশেতে,
উঠেছে মহা কলরব অসীমে যেতে যেতে।
উঠিছে ঢেউ, পড়ে ঢেউ, গনিবে কেবা কত!
ভাসিছে শত গ্রহ তারা, ডুবিছে শত শত।
ঢেউয়ের 'পরে খেলা করে আলোকে আঁধারেতে,
জলের কোলে লুকাচুরি জীবনে মরণেতে--।
শতেক কোটি গ্রহ তারা যে স্রোতে তৃণপ্রায়
সে স্রোত-মাঝে অবহেলে ঢালিয়া দিব কায়,
অসীম কাল ভেসে যাব অসীম আকাশেতে,
জগৎ- কলকলরব শুনিব কান  পেতে।
দেখিব ঢেউ--উঠে ঢেউ, দেখিব মিশে যায়,
জীবন-মাঝে উঠে ঢেউ মরণ-গান গায়।
দেখিব চেয়ে চারি দিকে, দেখিব তুলে মুখ--
কত-না আশা, কত হাসি, কত-না সুখ দুখ,
বিরাগ দ্বেষ ভালোবাসা, কত-না হায়-হায়--
তপন ভাসে, তারা ভাসে, তা'রাও ভেসে যায়।
কত-না যায়, কত চায়, কত-না কাঁদে হাসে--
আমি তো শুধু ভেসে যাব, দেখিব চারি পাশে।
অবোধ ওরে, কেন মিছে করিস "আমি আমি'।
উজানে যেতে পারিবি কি সাগরপথগামী?
জগৎ-পানে যাবি নে রে, আপনা-পানে যাবি--
সে যে রে মহামরুভূমি, কী জানি কী যে পাবি।
মাথায় করে আপনারে, সুখ-দুখের বোঝা,
ভাসিতে চাস প্রতিকূলে-- সে তো রে নহে সোজা ।
অবশ দেহ, ক্ষীণ বল, সঘনে বহে শ্বাস,
লইয়া তোর সুখ-দুখ এখনি পাবি নাশ।
জগৎ হয়ে রব আমি, একেলা রহিব না।
মরিয়া যাব একা হলে একটি জলকণা।
আমার নাহি সুখ দুখ, পরের পানে চাই--
যাহার পানে চেয়ে দেখি তাহাই হয়ে যাই।
তপন ভাসে, তারা ভাসে, আমিও যাই ভেসে--
তাদের গানে আমার গান, যেতেছি এক দেশে।
প্রভাত সাথে গাহি গান, সাঁঝের সাথে গাই,
তারার সাথে উঠি আমি--তারার সাথে যাই।
ফুলের সাথে ফুটি আমি, লতার সাথে নাচি,
বায়ুর সাথে ঘুরি শুধু ফুলের কাছাকাছি।
মায়ের প্রাণে স্নেহ হয়ে শিশুর পানে ধাই,
দুখীর সাথে কাঁদি আমি সুখীর সাথে গাই।
সবার সাথে আছি আমি, আমার সাথে নাই,
জগৎ-স্রোতে দিবানিশি ভাসিয়া চলে যাই।
আরো দেখুন
45
Verses
I HAVE thanked the trees that have made my-life fruitful
but have failed to remember the grass
that has ever kept it green.
আরো দেখুন