স্রোত (srot)

জগৎ-স্রোতে ভেসে চলো, যে যেথা আছ ভাই!

চলেছে যেথা রবি শশী চল্‌ রে সেথা যাই।

কোথায় চলে কে জানে তা, কোথায় যাবে শেষে,

জগৎ-স্রোত বহে গিয়ে কোন্‌ সাগরে মেশে।

অনাদি কাল চলে স্রোত অসীম আকাশেতে,

উঠেছে মহা কলরব অসীমে যেতে যেতে।

উঠিছে ঢেউ, পড়ে ঢেউ, গনিবে কেবা কত!

ভাসিছে শত গ্রহ তারা, ডুবিছে শত শত।

ঢেউয়ের 'পরে খেলা করে আলোকে আঁধারেতে,

জলের কোলে লুকাচুরি জীবনে মরণেতে--।

শতেক কোটি গ্রহ তারা যে স্রোতে তৃণপ্রায়

সে স্রোত-মাঝে অবহেলে ঢালিয়া দিব কায়,

অসীম কাল ভেসে যাব অসীম আকাশেতে,

জগৎ- কলকলরব শুনিব কান  পেতে।

দেখিব ঢেউ--উঠে ঢেউ, দেখিব মিশে যায়,

জীবন-মাঝে উঠে ঢেউ মরণ-গান গায়।

দেখিব চেয়ে চারি দিকে, দেখিব তুলে মুখ--

কত-না আশা, কত হাসি, কত-না সুখ দুখ,

বিরাগ দ্বেষ ভালোবাসা, কত-না হায়-হায়--

তপন ভাসে, তারা ভাসে, তা'রাও ভেসে যায়।

কত-না যায়, কত চায়, কত-না কাঁদে হাসে--

আমি তো শুধু ভেসে যাব, দেখিব চারি পাশে।

অবোধ ওরে, কেন মিছে করিস "আমি আমি'।

উজানে যেতে পারিবি কি সাগরপথগামী?

জগৎ-পানে যাবি নে রে, আপনা-পানে যাবি--

সে যে রে মহামরুভূমি, কী জানি কী যে পাবি।

মাথায় করে আপনারে, সুখ-দুখের বোঝা,

ভাসিতে চাস প্রতিকূলে-- সে তো রে নহে সোজা ।

অবশ দেহ, ক্ষীণ বল, সঘনে বহে শ্বাস,

লইয়া তোর সুখ-দুখ এখনি পাবি নাশ।

জগৎ হয়ে রব আমি, একেলা রহিব না।

মরিয়া যাব একা হলে একটি জলকণা।

আমার নাহি সুখ দুখ, পরের পানে চাই--

যাহার পানে চেয়ে দেখি তাহাই হয়ে যাই।

তপন ভাসে, তারা ভাসে, আমিও যাই ভেসে--

তাদের গানে আমার গান, যেতেছি এক দেশে।

প্রভাত সাথে গাহি গান, সাঁঝের সাথে গাই,

তারার সাথে উঠি আমি--তারার সাথে যাই।

ফুলের সাথে ফুটি আমি, লতার সাথে নাচি,

বায়ুর সাথে ঘুরি শুধু ফুলের কাছাকাছি।

মায়ের প্রাণে স্নেহ হয়ে শিশুর পানে ধাই,

দুখীর সাথে কাঁদি আমি সুখীর সাথে গাই।

সবার সাথে আছি আমি, আমার সাথে নাই,

জগৎ-স্রোতে দিবানিশি ভাসিয়া চলে যাই।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

36
Verses
MY FETTERS, you made music in my heart. I played with you all day long and made you my ornament. We were the best of friends, my fetters. There were times when I was afraid of you, but my fear made me love you the more. You were companions of my long dark night, and I make my bow to you, before I bid you good-bye, my fetters.
আরো দেখুন
সাত
Verses
অনেক হাজার বছরের
মরু-যবনিকার আচ্ছাদন
যখন উৎক্ষিপ্ত হল,
দেখা দিল তারিখ-হারানো লোকালয়ের
বিরাট কঙ্কাল;--
ইতিহাসের অলক্ষ্য অন্তরালে
ছিল তার জীবনক্ষেত্র।
তার মুখরিত শতাব্দী
আপনার সমস্ত কবিগান
বাণীহীন অতলে দিয়েছে বিসর্জন।
আর, যে-সব গান তখনো ছিল অঙ্কুরে, ছিল মুকুলে,
যে বিপুল সম্ভাব্য
সেদিন অনালোকে ছিল প্রচ্ছন্ন
অপ্রকাশ থেকে অপ্রকাশেই গেল মগ্ন হয়ে--
যা ছিল অপ্রজ্বল ধোঁওয়ার গোপন আচ্ছাদনে
তাও নিবল।
যা বিকাল, আর যা বিকাল না,--
দুই-ই সংসারের হাট থেকে গেল চলে
একই মূল্যের ছাপ নিয়ে।
কোথাও রইল না তার ক্ষত,
কোথাও বাজল না তার ক্ষতি।
ঐ নির্মল নিঃশব্দ আকাশে
অসংখ্য কল্প-কল্পান্তরের
হয়েছে আবর্তন।
নূতন নূতন বিশ্ব
অন্ধকারের নাড়ি ছিঁড়ে
জন্ম নিয়েছে আলোকে,
ভেসে চলেছে আলোড়িত নক্ষত্রের ফেনপুঞ্জে;
অবশেষে যুগান্তে তারা তেমনি করেই গেছে
যেমন গেছে বর্ষণশান্ত মেঘ,
যেমন গেছে ক্ষণজীবী পতঙ্গ।
মহাকাল, সন্ন্যাসী তুমি।
তোমার অতলস্পর্শ ধ্যানের তরঙ্গ-শিখরে
উচ্ছ্রিত হয়ে উঠছে সৃষ্টি
আবার নেমে যাচ্ছে ধ্যানের তরঙ্গতলে।
প্রচণ্ড বেগে চলেছে ব্যক্ত অব্যক্তের চক্রনৃত্য,
তারি নিস্তব্ধ কেন্দ্রস্থলে
তুমি আছ অবিচলিত আনন্দে।
হে নির্মম, দাও আমাকে তোমার ঐ সন্ন্যাসের দীক্ষা।
জীবন আর মৃত্যু, পাওয়া আর হারানোর মাঝখানে
যেখানে আছে অক্ষুব্ধ শান্তি
সেই সৃষ্টি-হোমাগ্নিশিখার অন্তরতম
স্তিমিত নিভৃতে
দাও আমাকে আশ্রয়।
আরো দেখুন
19
Verses
ঝড়ে          যায় উড়ে যায় গো
আমার        মুখের আঁচলখানি।
ঢাকা          থাকে না হায় গো,
তারে         রাখতে নারি টানি।
আমার        রইল না লাজলজ্জা,
আমার        ঘুচল গো সাজসজ্জা
তুমি          দেখলে আমারে
এমন          প্রলয়মাঝে আনি,
আমায়        এমন মরণ হানি।
                হঠাৎ         আকাশ উজলি'
                কারে        খুঁজে কে ওই চলে।
                চমক         লাগায় বিজলি
                আমার       আঁধার ঘরের তলে।
                তবে         নিশীথ-গগন জুড়ে
                আমার       যাক সকলি উড়ে,
                এই           দারুণ কল্লোলে
                বাজুক        আমার প্রাণের বাণী
                কোনো       বাঁধন নাহি মানি।
আরো দেখুন