আগন্তুক (agantuk)

ওগো সুখী প্রাণ, তোমাদের এই

     ভব-উৎসব-ঘরে

অচেনা অজানা পাগল অতিথি

     এসেছিল ক্ষণতরে।

ক্ষণেকের তরে বিস্ময়-ভরে

     চেয়েছিল চারি দিকে

বেদনা-বাসনা-ব্যাকুলতা-ভরা

     তৃষাতুর অনিমিখে।

উৎসববেশ ছিল না তাহার,

     কন্ঠে ছিল না মালা,

কেশপাশ দিয়ে বাহিরিতেছিল

     দীপ্ত অনলজ্বালা।

তোমাদের হাসি তোমাদের গান

     থেমে গেল তারে দেখে,

শুধালে না কেহ পরিচয় তার,

     বসালে না কেহ ডেকে।

কী বলিতে গিয়ে বলিল না আর,

     দাঁড়ায়ে রহিল দ্বারে--

দীপালোক হতে বাহিরিয়া গেল

     বাহির-অন্ধকারে।

তার পরে কেহ জান কি তোমরা

     কী হইল তার শেষে?

কোন্‌ দেশ হতে এসে চলে গেল

     কোন্‌ গৃহহীন দেশে!

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

জাগ্রত স্বপ্ন
Verses
আজ        একেলা বসিয়া, আকাশে চাহিয়া,
         কী সাধ যেতেছে, মন!
    বেলা চলে যায়-- আছিস কোথায়?
         কোন্‌ স্বপনেতে নিমগন?
    বসন্তবাতাসে আঁখি মুদে আসে,
         মৃদু মৃদু বহে শ্বাস,
    গায়ে এসে যেন এলায়ে পড়িছে
         কুসুমের মৃদু বাস।
যেন       সুদূর নন্দনকাননবাসিনী,
    সুখঘুমঘোরে মধুরহাসিনী,
    অজানা প্রিয়ার ললিত পরশ
         ভেসে ভেসে বহে যায়,
অতি    মৃদু মৃদু লাগে গায়।
বিস্মরণমোহে আঁধারে আলোকে
            মনে পড়ে যেন তায়,
     স্মৃতি-আশা-মাখা মৃদু সুখে দুখে
            পুলকিয়া উঠে কায়।
     ভ্রমি আমি যেন সুদূর কাননে,
            সুদূর আকাশতলে,
     আনমনে যেন গাহিয়া বেড়াই
            সরযূর কলকলে।
     গহন বনের কোথা হতে শুনি
            বাঁশির স্বর-আভাস,
     বনের হৃদয় বাজাইছে যেন
            মরমের অভিলাষ।
     বিভোর হৃদয়ে বুঝিতে পারি নে
            কে গায় কিসের গান,
     অজানা ফুলের সুরভি মাখানো
            স্বরসুধা করি পান।
     যেন রে কোথায় তরুর ছায়ায়
            বসিয়া রূপসী বালা,
     কুসুমশয়নে আধেক মগনা,
     বাকল-বসনে আধেক মগনা,
     সুখদুখগান গাহিছে শুইয়া
            গাঁথিতে গাঁথিতে মালা।
     ছায়ায় আলোকে, নিঝরের ধারে,
     কোথা কোন্‌ গুপ্ত গুহার মাঝারে,
     যেন হেথা হোথা কে কোথায় আছে
            এখনি দেখিতে পাব--
     যেন রে তাদের চরণের কাছে
            বীণা লয়ে গান গাব।
     শুনে শুনে তারা আনত নয়নে
          হাসিবে মুচুকি হাসি,
     শরমের আভা অধরে কপোলে
          বেড়াইবে ভাসি ভাসি।
     মাথায় বাঁধিয়া ফুলের মালা
          বেড়াইব বনে বনে।
     উড়িতেছে কেশ, উড়িতেছে বেশ,
     উদাস পরান কোথা নিরুদ্দেশ,
     হাতে লয়ে বাঁশি মুখে লয়ে হাসি,
          ভ্রমিতেছি আনমনে।
     চারি দিকে মোর বসন্ত হসিত,
     যৌবনকুসুম প্রাণে বিকশিত,
     কুসুমের 'পরে ফেলিব চরণ
          যৌবনমাধুরীভরে।
     চারি দিকে মোর মাধবী মালতী
          সৌরভে আকুল করে।
     কেহ কি আমারে চাহিবে না?
     কাছে এসে গান গাহিবে না?
     পিপাসিত প্রাণে চাহি মুখপানে
          কবে না প্রাণের আশা?
     চাঁদের আলোতে দখিন বাতাসে
     কুসুমকাননে বাঁধি বাহুপাশে
     শরমে সোহাগে মৃদুমধুহাসে
          জানাবে না ভালোবাসা?
     আমার যৌবনকুসুমকাননে
          ললিত চরণে বেড়াবে না?
     আমার প্রাণের লতিকা-বাঁধন
          চরণে তাহার জড়াবে না?
     আমার প্রাণের কুসুম গাঁথিয়া
          কেহ পরিবে না গলে?
     তাই ভাবিতেছি আপনার মনে
          বসিয়া তরুর তলে।
আরো দেখুন
42
Verses
IT MAYBE THAT your loved ones will forsake you, but mind it not, my heart.
It may be that the creeper of your hope will be laid low in the
dust all torn, its fruits wasted,but mind it not, my heart
It may be that the dark night will overtake you before you reach
the gate, and your attempts will ever be in vain to light your lamp.
When you tune your harp, the birds and the beasts of the
wilderness will flock around you. It may be that your brothers will remain unmoved,
but mind it not, my heart.
The walls are of stones, the doors barred. It may be that you
will knock oft and again, yet it will not open, but mind it not, my heart.
আরো দেখুন
অনবসর
Verses
ছেড়ে গেলে হে চঞ্চলা,
     হে পুরাতন সহচরী!
ইচ্ছা বটে বছর কতক
     তোমার জন্য বিলাপ করি,
সোনার স্মৃতি গড়িয়ে তোমার
     বসিয়ে রাখি চিত্ততলে,
একলা ঘরে সাজাই তোমায়
     মাল্য গেঁথে অশ্রুজলে--
              নিদেন কাঁদি মাসেকখানেক
                   তোমায় চির-আপন জেনেই--
              হায় রে আমার হতভাগ্য!
                   সময় যে নেই, সময় যে নেই।
বর্ষে বর্ষে বয়স কাটে,
     বসন্ত যায় কথায় কথায়,
বকুলগুলো দেখতে দেখতে
     ঝ'রে পড়ে যথায় তথায়,
মাসের মধ্যে বারেক এসে
     অস্তে পালায় পূর্ণ-ইন্দু,
শাস্ত্রে শাসায় জীবন শুধু
     পদ্মপত্রে শিশিরবিন্দু--
              তাঁদের পানে তাকাব না
                   তোমায় শুধু আপন জেনেই
              সেটা বড়োই বর্বরতা--
                   সময় যে নেই, সময় যে নেই ।
এসো আমার শ্রাবণ-নিশি,
     এসো আমার শরৎলক্ষ্ণী,
এসো আমার বসন্তদিন
     লয়ে তোমার পুষ্পপক্ষী,
তুমি এসো, তুমিও এসো,
     তুমি এসো, এবং তুমি,
প্রিয়ে, তোমরা সবাই জান
     ধরণীর নাম মর্তভূমি--
              যে যায় চলে বিরাগভরে
                   তারেই শুধু আপন জেনেই
              বিলাপ করে কাটাই, এমন
                   সময় যে নেই, সময় যে নেই।
ইচ্ছে করে বসে বসে
     পদ্যে লিখি গৃহকোণায়
"তুমিই আছ জগৎ জুড়ে'--
     সেটা কিন্তু মিথ্যে শোনায়।
ইচ্ছে করে কোনোমতেই
     সান্ত্বনা আর মান্‌ব না রে,
এমন সময় নতুন আঁখি
     তাকায় আমার গৃহদ্বারে--
              চক্ষু মুছে দুয়ার খুলি
                   তারেই শুধু আপন জেনেই,
              কখন তবে বিলাপ করি?
                   সময় যে নেই, সময় যে নেই।
আরো দেখুন