প্রণতি (pronoti)

          কত ধৈর্য ধরি

ছিলে কাছে দিবসশর্বরী।

                   তব পদ-অঙ্কনগুলিরে

কতবার দিয়ে গেছ মোর ভাগ্যপথের ধূলিরে।

                                      আজ যবে

                             দূরে যেতে হবে

                                      তোমারে করিয়া যাব দান

                                                তব জয়গান।

কতবার ব্যর্থ আয়োজনে

                                      এ জীবনে

হোমাগ্নি উঠেনি জ্বলি,

                                      শূন্যে গেছে চলি

                   হতাশ্বাস ধূমের কুণ্ডলী।

                   কতবার ক্ষণিকের শিখা

                             আঁকিয়াছে ক্ষীণ টিকা

                   নিশ্চেতন নিশীথের ভালে।

লুপ্ত হয়ে গেছে তাহা চিহ্নহীন কালে।

এবার তোমার আগমন

                             হোমহুতাশন

                                      জ্বেলেছে গৌরবে।

                   যজ্ঞ মোর ধন্য হবে।

          আমার আহুতি দিনশেষে

করিলাম সমর্পণ তোমার উদ্দেশে।

          লহো এ প্রণাম--

                             জীবনের পূর্ণ পরিণাম।

                                                এ প্রণতি'-পরে

স্পর্শ রাখো স্নেহভরে।

          তোমার ঐশ্বর্য-মাঝে

সিংহাসন যেথায় বিরাজে,

                             করিয়ো আহ্বান,

সেথা এ প্রণতি মোর পায় যেন স্থান।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পদ্মায়
Verses
আমার নৌকো বাঁধা ছিল পদ্মানদীর পারে,
হাঁসের পাঁতি উড়ে যেত মেঘের ধারে ধারে--
জানিনে মন-কেমন-করা লাগত কী সুর হাওয়ার
আকাশ বেয়ে দূর দেশেতে উদাস হয়ে যাওয়ার।
কী জানি সেই দিনগুলি সব কোন্‌ আঁকিয়ের লেখা,
ঝিকিমিকি সোনার রঙে হালকা তুলির রেখা।
বালির 'পরে বয়ে যেত স্বচ্ছ নদীর জল,
তেমনি বইত তীরে তীরে গাঁয়ের কোলাহল--
ঘাটের কাছে, মাঠের ধারে, আলো-ছায়ার স্রোতে;
অলস দিনের উড়্‌নিখানার পরশ আকাশ হতে
বুলিয়ে যেত মায়ার মন্ত্র আমার দেহে-মনে।
       তারই মধ্যে আসত ক্ষণে ক্ষণে
            দূর কোকিলের সুর,
         মধুর হত আশ্বিনে রোদ্‌দুর।
    পাশ দিয়ে সব নৌকো বড়ো বড়ো
পরদেশিয়া নানা খেতের ফসল ক'রে জড়ো
পশ্চিমে হাট বাজার হতে, জানিনে তার নাম,
পেরিয়ে আসত ধীর গমনে গ্রামের পরে গ্রাম
              ঝপ্‌ঝপিয়ে দাঁড়ে।
খোরাক কিনতে নামত দাঁড়ি ছায়ানিবিড় পাড়ে।
            যখন হত দিনের অবসান
গ্রামের ঘাটে বাজিয়ে মাদল গাইত হোলির গান।
ক্রমে রাত্রি নিবিড় হয়ে নৌকো ফেলত ঢেকে,
একটি কেবল দীপের আলো জ্বলত ভিতর থেকে।
শিকলে আর স্রোতে মিলে চলত টানের শব্দ;
       স্বপ্নে যেন ব'কে উঠত রজনী নিস্তব্ধ।
পুবে হাওয়ায় এল ঋতু, আকাশ-জোড়া মেঘ;
ঘরমুখো ওই নৌকোগুলোয় লাগল অধীর বেগ।
  ইলিশমাছ আর পাকা কাঁঠাল জমল পারের হাটে,
  কেনাবেচার ভিড় লাগল নৌকো-বাঁধা ঘাটে।
  ডিঙি বেয়ে পাটের আঁঠি আনছে ভারে ভারে,
  মহাজনের দাঁড়িপাল্লা উঠল নদীর ধারে।
  হাতে পয়সা এল, চাষি ভাব্‌না নাহি মানে,
  কিনে নতুন ছাতা জুতো চলেছে ঘর-পানে।
  পরদেশিয়া নৌকোগুলোর এল ফেরার দিন,
  নিল ভরে খালি-করা কেরোসিনের টিন;
  একটা পালের 'পরে ছোটো আরেকটা পাল তুলে
  চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।
  মেঘ ডাকছে গুরু গুরু, থেমেছে দাঁড় বাওয়া,
  ছুটছে ঘোলা জলের ধারা, বইছে বাদল হাওয়া।
আরো দেখুন
পথে
Verses
গাঁয়ের পথে চলেছিলেম
            অকারণে,
বাতাস বহে বিকালবেলা
            বেণুবনে।
ছায়া তখন আলোর ফাঁকে
লতার মতন জড়িয়ে থাকে,
একা একা কোকিল ডাকে
            নিজমনে।
আমি কোথায় চলেছিলেম
            অকারণে।
জলের ধারে কুটিরখানি
            পাতা-ঢাকা,
দ্বারের 'পরে নুয়ে পড়ে
            নিম্বশাখা।
ওই যে শুনি মাঝে মাঝে
না জানি কোন্‌ নিত্যকাজে
কোথায় দুটি কাঁকন বাজে
গৃহকোণে।
যেতে যেতে এলেম হেথা
            অকারণে।
দিঘির জলে ঝলক ঝলে
            মানিক হীরা,
সর্ষেখেতে উঠছে মেতে
            মৌমাছিরা।
এ পথ গেছে কত গাঁয়ে
কত গাছের ছায়ে ছায়ে
কত মাঠের গায়ে গায়ে
            কত বনে।
আমি শুধু হেথায় এলেম
            অকারণে।
আরেক দিন সে ফাগুন মাসে
            বহু আগে
চলেছিলেম এই পথে সেই
মনে জাগে।
আমের বোলের গন্ধে অবশ
বাতাস ছিল উদাস অলস,
ঘাটের শানে বাজছে কলস
            ক্ষণে ক্ষণে।
সে-সব কথা ভাবছি বসে
            অকারণে।
দীর্ঘ হয়ে পড়ছে পথে
            বাঁকা ছায়া,
গোষ্ঠঘরে ফিরছে ধেনু
            শ্রান্তকায়া।
গোধূলিতে খেতের 'পরে
ধূসর আলো ধূ ধূ করে,
বসে আছে খেয়ার তরে
            পান্থজনে।
আবার ধীরে চলছি ফিরে
            অকারণে।
আরো দেখুন
এই আবরণ ক্ষয় হবে গো
Verses
এই আবরণ ক্ষয় হবে গো ক্ষয় হবে,
এ দেহ মন ভূমানন্দময় হবে।
      চোখে আমার মায়ার ছায়া টুটবে গো,
      বিশ্বকমল প্রাণে আমার ফুটবে গো,
             এ জীবনে তোমারি নাথ, জয় হবে।
রক্ত আমার বিশ্বতালে নাচবে যে,
হৃদয় আমার বিপুল প্রাণে বাঁচবে যে।
      কাঁপবে তোমার আলো-বীণার তারে সে,
      দুলবে তোমার তারা-মণির হারে সে,
           বাসনা তার ছড়িয়ে গিয়ে লয় হবে।
আরো দেখুন