পদ্মায় (podmay)

আমার নৌকো বাঁধা ছিল পদ্মানদীর পারে,

হাঁসের পাঁতি উড়ে যেত মেঘের ধারে ধারে--

জানিনে মন-কেমন-করা লাগত কী সুর হাওয়ার

আকাশ বেয়ে দূর দেশেতে উদাস হয়ে যাওয়ার।

কী জানি সেই দিনগুলি সব কোন্‌ আঁকিয়ের লেখা,

ঝিকিমিকি সোনার রঙে হালকা তুলির রেখা।

বালির 'পরে বয়ে যেত স্বচ্ছ নদীর জল,

তেমনি বইত তীরে তীরে গাঁয়ের কোলাহল--

ঘাটের কাছে, মাঠের ধারে, আলো-ছায়ার স্রোতে;

অলস দিনের উড়্‌নিখানার পরশ আকাশ হতে

বুলিয়ে যেত মায়ার মন্ত্র আমার দেহে-মনে।

       তারই মধ্যে আসত ক্ষণে ক্ষণে

            দূর কোকিলের সুর,

         মধুর হত আশ্বিনে রোদ্‌দুর।

    পাশ দিয়ে সব নৌকো বড়ো বড়ো

পরদেশিয়া নানা খেতের ফসল ক'রে জড়ো

পশ্চিমে হাট বাজার হতে, জানিনে তার নাম,

পেরিয়ে আসত ধীর গমনে গ্রামের পরে গ্রাম

              ঝপ্‌ঝপিয়ে দাঁড়ে।

খোরাক কিনতে নামত দাঁড়ি ছায়ানিবিড় পাড়ে।

            যখন হত দিনের অবসান

গ্রামের ঘাটে বাজিয়ে মাদল গাইত হোলির গান।

ক্রমে রাত্রি নিবিড় হয়ে নৌকো ফেলত ঢেকে,

একটি কেবল দীপের আলো জ্বলত ভিতর থেকে।

শিকলে আর স্রোতে মিলে চলত টানের শব্দ;

       স্বপ্নে যেন ব'কে উঠত রজনী নিস্তব্ধ।

পুবে হাওয়ায় এল ঋতু, আকাশ-জোড়া মেঘ;

ঘরমুখো ওই নৌকোগুলোয় লাগল অধীর বেগ।

  ইলিশমাছ আর পাকা কাঁঠাল জমল পারের হাটে,

  কেনাবেচার ভিড় লাগল নৌকো-বাঁধা ঘাটে।

  ডিঙি বেয়ে পাটের আঁঠি আনছে ভারে ভারে,

  মহাজনের দাঁড়িপাল্লা উঠল নদীর ধারে।

  হাতে পয়সা এল, চাষি ভাব্‌না নাহি মানে,

  কিনে নতুন ছাতা জুতো চলেছে ঘর-পানে।

  পরদেশিয়া নৌকোগুলোর এল ফেরার দিন,

  নিল ভরে খালি-করা কেরোসিনের টিন;

  একটা পালের 'পরে ছোটো আরেকটা পাল তুলে

  চলার বিপুল গর্বে তরীর বুক উঠেছে ফুলে।

  মেঘ ডাকছে গুরু গুরু, থেমেছে দাঁড় বাওয়া,

  ছুটছে ঘোলা জলের ধারা, বইছে বাদল হাওয়া।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

116
Verses
THE EARTH hums to me to-day in the sun, like a woman at her spinning, some ballad of the ancient time in a forgotten tongue.
আরো দেখুন
অঞ্চলের বাতাস
Verses
পাশ দিয়ে গেল চলি চকিতের প্রায়,
অঞ্চলের প্রান্তখানি ঠেকে গেল গায়,
শুধু দেখা গেল তার আধখানি পাশ--
শিহরি পরশি গেল অঞ্চলের বায়।
অজানা হৃদয়-বনে উঠেছে উচ্ছ্বাস,
অঞ্চলে বহিয়া এল দক্ষিণ বাতাস,
সেথা যে বেজেছে বাঁশি তাই শুনা যায়,
সেথায় উঠিছে কেঁদে ফুলের সুবাস।
কার প্রাণখানি হতে করি হায় হায়
বাতাসে উড়িয়া এল পরশ-আভাস।
ওগো কার তনুখানি হয়েছে উদাস।
ওগো কে জানাতে চাহে মরম বারতা।
দিয়ে গেল সর্বাঙ্গের আকুল নিশ্বাস,
বলে গেল সর্বাঙ্গের কানে কানে কথা॥
আরো দেখুন
হারাধন
Verses
      বিধি যেদিন ক্ষান্ত দিলেন
           সৃষ্টি করার কাজে
      সকল তারা উঠল ফুটে
           নীল আকাশের  মাঝে।
      নবীন সৃষ্টি সামনে রেখে
           সুরসভার তলে
      ছায়াপথে দেবতা সবাই
           বসেন দলে দলে।
      গাহেন তাঁরা, 'কী আনন্দ!
           এ কী পূর্ণ ছবি!
      এ কী মন্ত্র, এ কী ছন্দ,
           গ্রহ চন্দ্র রবি!'
      হেনকালে সভায় কে গো
           হঠাৎ বলি উঠে,
      'জ্যোতির মালায় একটি তারা
           কোথায় গেছে টুটে!'
ছিঁড়ে গেল বীণার তন্ত্রী,
           থেমে গেল গান,
      হারা তারা কোথায় গেল
           পড়িল সন্ধান।
      সবাই বলে, 'সেই তারাতেই
           স্বর্গ হতে আলো--
      সেই তারাটাই সবার বড়ো,
           সবার চেয়ে ভালো।'
      সেদিন হতে জগৎ আছে
           সেই তারাটির খোঁজে--
      তৃপ্তি নাহি দিনে, রাত্রে
           চক্ষু নাহি বোজে।
      সবাই বলে, 'সকল চেয়ে
           তারেই পাওয়া চাই।'
      সবাই বলে, 'সে গিয়েছে
           ভুবন কানা তাই!'
      শুধু গভীর রাত্রিবেলায়
           স্তব্ধ তারার দলে--
      'মিথ্যা খোঁজা, সবাই আছে'
           নীরব হেসে বলে।
আরো দেখুন