৭১ (ei aboron khoy hobe go)

এই আবরণ ক্ষয় হবে গো ক্ষয় হবে,

এ দেহ মন ভূমানন্দময় হবে।

      চোখে আমার মায়ার ছায়া টুটবে গো,

      বিশ্বকমল প্রাণে আমার ফুটবে গো,

             এ জীবনে তোমারি নাথ, জয় হবে।

রক্ত আমার বিশ্বতালে নাচবে যে,

হৃদয় আমার বিপুল প্রাণে বাঁচবে যে।

      কাঁপবে তোমার আলো-বীণার তারে সে,

      দুলবে তোমার তারা-মণির হারে সে,

           বাসনা তার ছড়িয়ে গিয়ে লয় হবে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

তীর্থযাত্রী
Verses
কন্‌কনে ঠাণ্ডায় আমাদের যাত্রা--
    ভ্রমণটা বিষম দীর্ঘ, সময়টা সব চেয়ে খারাপ,
        রাস্তা ঘোরালো, ধারালো বাতাসের চোট,
           একেবারে দুর্জয় শীত।
ঘাড়ে ক্ষত, পায়ে ব্যথা, মেজাজ-চড়া উটগুলো
           শুয়ে শুয়ে পড়ে গলা বরফে।
        মাঝে মাঝে মন যায় বিগড়ে
যখন মনে পড়ে পাহাড়তলিতে বসন্তমঞ্জিল, তার চাতাল,
    আর শর্বতের পেয়ালা হাতে রেশমি সাজে যুবতীর দল।
এ দিকে উটওয়ালারা গাল পাড়ে, গন্‌গন্‌ করে রাগে,
        ছুটে পালায় মদ আর মেয়ের খোঁজে।
    মশাল যায় নিভে, মাথা রাখবার জায়গা জোটে না।
        নগরে যাই, সেখানে বৈরিতা; নগরীতে সন্দেহ।
           গ্রামগুলো নোংরা, তারা চড়া দাম হাঁকে।
কঠিন মুশকিল।
           শেষে ঠাওরালেম চলব সারারাত,
               মাঝে মাঝে নেব ঝিমিয়ে
           আর কানে কানে কেউ বা গান গাবে--
                   এ সমস্তই পাগলামি।
                   ভোরের দিকে এলেম, যেখানে মিঠে শীত সেই পাহাড়ের খদে;
সেখানে বরফ-সীমার নীচেটা ভিজে-ভিজে, ঘন গাছ-গাছালির গন্ধ।
নদী চলেছে ছুটে, জলযন্ত্রের চাকা আঁধারকে মারছে চাপড়।
দিগন্তের গায়ে তিনটে গাছ দাঁড়িয়ে,
বুড়ো সাদা ঘোড়াটা মাঠ বেয়ে দৌড় দিয়েছে।
পৌঁছলেম শরাবখানায়, তার কপাটের মাথায় আঙুরলতা।
দুজন মানুষ খোলা দরোজার কাছে পাশা খেলছে টাকার লোভে,
        পা দিয়ে ঠেলছে শূন্য মদের কুপো।
           কোনো খবরই মিলল না সেখানে,
               চললেম আরো আগে।
                   যেতে যেতে সন্ধে হল;
        সময় পেরিয়ে যায় যায়, তখন খুঁজে পেলেম জায়গাটা--
           বলা যেতে পারে ব্যাপারটা তৃপ্তিজনক।
    মনে পড়ে এ-সব ঘটেছে অনেক কাল আগে,
           আবার ঘটে যেন এই ইচ্ছে, কিন্তু লিখে রাখো--
এই লিখে রাখো-- এত দূরে যে আমাদের টেনে নিয়েছিল
        সে কি জন্মের সন্ধানে না মৃত্যুর।
           জন্ম একটা হয়েছিল বটে--
               প্রমাণ পেয়েছি, সন্দেহ নেই।
এর আগে তো জন্মও দেখেছি, মৃত্যুও--
        মনে ভাবতেম তারা এক নয়।
কিন্তু এই-যে জন্ম এ বড়ো কঠোর--
দারুণ এর যাতনা, মৃত্যুর মতো, আমাদের মৃত্যুর মতোই।
এলেম ফিরে আপন আপন দেশে, এই আমাদের রাজত্বগুলোয়
    আর কিন্তু স্বস্তি নেই সেই পুরানো বিধিবিধানে
যার মধ্যে আছে সব অনাত্মীয় আপন দেবদেবী আঁকড়ে ধ'রে।
           আর-একবার মরতে পারলে আমি বাঁচি।
আরো দেখুন
আর্তস্বর
Verses
শ্রাবণে গভীর নিশি              দিগ্বিদিক আছে মিশি
           মেঘেতে মেঘেতে ঘন বাঁধা,
কোথা শশী কোথা তারা           মেঘারণ্যে পথহারা
             আঁধারে আঁধারে সব আঁধা।
জ্বলন্ত বিদ্যুৎ-অহি                   ক্ষণে ক্ষণে রহি রহি
             অন্ধকারে করিছে দংশন।
কুম্ভকর্ণ অন্ধকার                   নিদ্রা টুটি বার বার
             উঠিতেছে করিয়া গর্জন।
শূন্যে যেন স্থান নাই,                 পরিপূর্ণ সব ঠাঁই,
             সুকঠিন আঁধার চাপিয়া।
ঝড় বহে, মনে হয়              ও যেন রে ঝড় নয়,
           অন্ধকার দুলিছে কাঁপিয়া।
মাঝে মাঝে থরথর              কোথা হতে মরমর
           কেঁদে কেঁদে উঠিছে অরণ্য।
নিশীথসমুদ্র-মাঝে                 জলজন্তু-সম রাজে
           নিশাচর যেন রে অগণ্য।
কে যেন রে মুহুর্মুহু        নিশ্বাস ফেলিছে হু হু,
           হু হু করে কেঁদে কেঁদে ওঠে,
সূদূর অরণ্যতলে            ডালপালা পায়ে দ'লে
           আর্তনাদ করে যেন ছোটে।
এ অনন্ত অন্ধকারে     কে রে সে, খুঁজিছে কারে,
           তন্ন তন্ন আকাশগহ্বর।
তারে নাহি দেখে কেহ,             শুধু শিহরায় দেহ
           শুনি তার তীব্র কণ্ঠস্বর।
তুই কি রে নিশীথিনী             অন্ধকারে অনাথিনী
           হারাইলি জগতেরে তোর?
অনন্ত আকাশ-'পরি         ছুটিস রে হা হা করি,
           আলোড়িয়া অন্ধকার ঘোর।
তাই কি রে থেকে থেকে      নাম ধরে ডেকে ডেকে
           জগতেরে করিস আহ্বান।
শুনি আজি তোর স্বর             শিহরিত কলেবর,
           কাঁদিয়া উঠিছে কার প্রাণ।
কে আজি রে তোর সাথে     ধরি তোর হাতে হাতে
           খুঁজিতে চাহিছে যেন কারে।
মহাশূন্যে দাঁড়াইয়ে          প্রান্ত হতে প্রান্তে গিয়ে
           কে চাহে কাঁদিতে অন্ধকারে!
আঁধারেতে আঁখি ফুটে           ঝটিকার 'পরে ছুটে
           তীক্ষ্নশিখা বিদ্যুৎ মাড়ায়ে
হু হু করি নিশ্বাসিয়া               চলে যাবে উদাসিয়া
           কেশপাশ আকাশে ছড়ায়ে।
উলঙ্গিনী উন্মাদিনী                  ঝটিকার কণ্ঠ জিনি
           তীব্র কণ্ঠে ডাকিবে তাহারে,
সে বিলাপ কেঁপে কেঁপে       বেড়াবে আকাশ ব্যেপে
           ধ্বনিয়া অনন্ত অন্ধকারে।
ছিঁড়ি ছিঁড়ি কেশপাশ            কভু কান্না কভু হাস
           প্রাণ ভ'রে করিবে চীৎকার,
বজ্র-আলিঙ্গন দিয়ে              বুকে তোরে জড়াইয়ে
           ছুটিতে গিয়েছে সাধ তার।
আরো দেখুন
22
Verses
THIS AUTUMN morning is tired with excess of light, and if your songs grow fitful and languid give me your flute awhile.
I shall but play with it as the whim takes me,-now take it on my lap, now touch it with my lips, now keep it by my side on the grass.
But in the solemn evening stillness I shall gather flowers, to deck it with wreaths, I shall fill it with fragrance; I shall worship it with the lighted lamp.
Then at night I shall come to you and give you back your flute.
You will play on it the music of midnight when the lonely crescent moon wanders among the stars.
আরো দেখুন