লেখন (147)

১৪৭

১৪৭

দিনান্তের ললাট লেপি'

       রক্ত-আলো-চন্দনে

দিগ্বধূরা ঢাকিল আঁখি

       শব্দহীন ক্রন্দনে॥

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বিদায়রীতি
Verses
হায় গো রানী, বিদায়বাণী
       এমনি করে শোনে?
ছি ছি, ওই-যে হাসিখানি
       কাঁপছে আঁখিকোণে!
এতই বারে বারে কি রে
মিথ্যা বিদায় নিয়েছি রে,
ভাবছ তুমি মনে মনে
       এ লোকটি নয় যাবার--
দ্বারের কাছে ঘুরে ঘুরে
       ফিরে আসবে আবার।
আমায় যদি শুধাও তবে
       সত্য করেই বলি--
আমারো সেই সন্দেহ হয়
       ফিরে আসব চলি।
বসন্তদিন আবার আসে,
পূর্ণিমা-রাত আবার হাসে,
বকুল ফোটে রিক্ত শাখায়--
       এরাও তো নয় যাবার।
সহস্র বার বিদায় নিয়ে
এরাও ফেরে আবার।
একটুখানি মোহ তবু
       মনের মধ্যে রাখো,
মিথ্যেটারে একেবারেই
       জবাব দিয়ো নাকো।
ভ্রমক্রমে ক্ষণেক-তরে
       এনো গো জল আঁখির 'পরে
আকুল স্বরে যখন কব
       "সময় হল যাবার'।
তখন নাহয় হেসো, যখন
       ফিরে আসব আবার।
আরো দেখুন
অনন্ত প্রেম
Verses
তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
        শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।
    চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
        গাঁথিয়াছে গীতহার,
    কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,
        নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
যত শুনি সেই অতীত কাহিনী,
        প্রাচীন প্রেমের ব্যথা,
    অতি পুরাতন বিরহমিলনকথা,
অসীম অতীতে চাহিতে চাহিতে
        দেখা দেয় অবশেষে
    কালের তিমিররজনী ভেদিয়া
        তোমারি মুরতি এসে,
চিরস্মৃতিময়ী ধ্রুবতারকার বেশে।
    আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি
        যুগল প্রেমের স্রোতে
অনাদিকালের হৃদয়-উৎস হতে।
    আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা
        কোটি প্রেমিকের মাঝে
    বিরহবিধুর নয়নসলিলে,
        মিলনমধুর লাজে--
পুরাতন প্রেম নিত্যনূতন সাজে।
    আজি সেই চিরদিবসের প্রেম
        অবসান লভিয়াছে
রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে।
    নিখিলের সুখ, নিখিলের দুখ,
        নিখিল প্রাণের প্রীতি,
    একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে
        সকল প্রেমের স্মৃতি--
    সকল কালের সকল কবির গীতি।
আরো দেখুন
প্রশ্ন
Verses
মা গো, আমায় ছুটি দিতে বল্‌,
        সকাল থেকে পড়েছি যে মেলা।
এখন আমি তোমার ঘরে ব'সে
        করব শুধু পড়া-পড়া খেলা।
তুমি বলছ দুপুর এখন সবে,
        নাহয় যেন সত্যি হল তাই,
একদিনও কি দুপুরবেলা হলে
        বিকেল হল মনে করতে নাই?
আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনে
        সুয্যি ডুবে গেছে মাঠের শেষে,
বাগ্‌দি-বুড়ি চুবড়ি ভরে নিয়ে
        শাক তুলেছে পুকুর-ধারে এসে।
আঁধার হল মাদার-গাছের তলা,
        কালি হয়ে এল দিঘির জল,
হাটের থেকে সবাই এল ফিরে,
        মাঠের থেকে এল চাষির দল।
মনে কর্‌-না উঠল সাঁঝের তারা,
        মনে কর্‌-না সন্ধে হল যেন।
রাতের বেলা দুপুর যদি হয়
        দুপুর বেলা রাত হবে না কেন।
আরো দেখুন