লেখন (146)

১৪৬

১৪৬

শিশিরসিক্ত বনমর্মর

ব্যাকুল করিল কেন।

ভোরের স্বপনে অনামা প্রিয়ার

কানে-কানে-কথা যেন॥  

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

জয়ী
Verses
রূপহীন, বর্ণহীন, চিরস্তব্ধ, নাই শব্দ সুর,
মহাতৃষ্ণা মরুতলে মেলিয়াছে আসন মৃত্যুর;
          সে মহানৈঃশব্দ-মাঝে বেজে ওঠে মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
আস্ফালিছে লক্ষ লোল ফেনজিহ্বা নিষ্ঠুর নীলিমা--
তরঙ্গতাণ্ডবী মৃত্যু, কোথা তার নাহি হেরি সীমা;
          সে রুদ্র সমুদ্রতটে ধ্বনিতেছে মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
আদিতম যুগ হতে অন্তহীন অন্ধকার পথে
আবর্তিছে বহ্নিচক্র কোটি কোটি নক্ষত্রের রথে;
          দুর্গম রহস্য ভেদি সেথা উঠে মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
          অণুতম অণুকণা আকাশে আকাশে নিত্যকাল
বর্ষিয়া বিদ্যুৎবিন্দু রচিছে রূপের ইন্দ্রজাল;
          নিরুদ্ধ প্রবেশদ্বারে উঠে সেথা মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
চিত্তের গহনে যেথা দুরন্ত কামনা লোভ ক্রোধ
আত্মঘাতী মত্ততায় করিছে মুক্তির দ্বার রোধ
          অন্ধতার অন্ধকারে উঠে সেথা মানবের বাণী
                   "বাধা নাহি মানি'।
আরো দেখুন
9
Verses
মোর চেতনায়
আদিসমুদ্রের ভাষা ওঙ্কারিয়া যায়;
অর্থ তার নাহি জানি,
আমি সেই বাণী।
শুধু ছলছল কলকল;
শুধু সুর, শুধু নৃত্য, বেদনার কলকোলাহল;
শুধু এ সাঁতার--
কখনো এ পারে চলা, কখনো ও পার,
কখনো বা অদৃশ্য গভীরে,
কভু বিচিত্রের তীরে তীরে।
ছন্দের তরঙ্গদোলে
কত যে ইঙ্গিত ভঙ্গি জেগে ওঠে, ভেসে যায় চলে।
স্তব্ধ মৌনী অচলের বহিয়া ইশারা
নিরন্তর স্রোতোধারা
অজানা সম্মুখে ধায়, কোথা তার শেষ
কে জানে উদ্দেশ।
আলোছায়া ক্ষণে ক্ষণে দিয়ে যায়
ফিরে ফিরে স্পর্শের পর্যায়।
কভু দূরে কখনো নিকটে
প্রবাহের পটে
মহাকাল দুই রূপ ধরে
পরে পরে
কালো আর সাদা।
কেবলি দক্ষিণে বামে প্রকাশ ও প্রকাশের বাধা
অধরার প্রতিবিম্ব গতিভঙ্গে যায় এঁকে এঁকে,
গতিভঙ্গে যায় ঢেকে ঢেকে।
আরো দেখুন
আকাশের চাঁদ
Verses
          হাতে তুলে দাও আকাশের চাঁদ--
                এই হল তার বুলি।
         দিবস রজনী যেতেছে বহিয়া,
                কাঁদে সে দু হাত তুলি।
         হাসিছে আকাশ, বহিছে বাতাস,
                পাখিরা গাহিছে সুখে।
         সকালে রাখাল চলিয়াছে মাঠে,
                বিকালে ঘরের মুখে।
         বালক বালিকা ভাই বোনে মিলে
                খেলিছে আঙিনা-কোণে,
         কোলের শিশুরে হেরিয়া জননী
                হাসিছে আপন মনে।
         কেহ হাটে যায় কেহ বাটে যায়
                চলেছে যে যার কাজে--
         কত জনরব কত কলরব
                উঠিছে আকাশমাঝে।
         পথিকেরা এসে তাহারে শুধায়,
                "কে তুমি কাঁদিছ বসি।'
         সে কেবল বলে নয়নের জলে,
                "হাতে পাই নাই শশী।'
         সকালে বিকালে ঝরি পড়ে কোলে
                অযাচিত ফুলদল,
         দখিন সমীর বুলায় ললাটে
                দক্ষিণ করতল।
         প্রভাতের আলো আশিস-পরশ
                করিছে তাহার দেহে,
         রজনী তাহারে বুকের আঁচলে
                ঢাকিছে নীরব স্নেহে।
         কাছে আসি শিশু মাগিছে আদর
                কণ্ঠ জড়ায়ে ধরি,
         পাশে আসি যুবা চাহিছে তাহারে
                লইতে বন্ধু করি।
         এই পথে গৃহে কত আনাগোনা,
                কত ভালোবাসাবাসি,
         সংসারসুখ কাছে কাছে তার
                কত আসে যায় ভাসি,
         মুখ ফিরাইয়া সে রহে বসিয়া,
                কহে সে নয়নজলে,
         "তোমাদের আমি চাহি না কারেও,
                শশী চাই করতলে।'
         শশী যেথা ছিল সেথাই রহিল,
                সেও ব'সে এক ঠাঁই।
         অবশেষে যবে জীবনের দিন
                আর বেশি বাকি নাই,
         এমন সময়ে সহসা কী ভাবি
                চাহিল সে মুখ ফিরে
         দেখিল ধরণী শ্যামল মধুর
                সুনীল সিন্ধুতীরে।
         সোনার ক্ষেত্রে কৃষাণ বসিয়া
                কাটিতেছে পাকা ধান,
         ছোটো ছোটো তরী পাল তুলে যায়,
                মাঝি বসে গায় গান।
         দূরে মন্দিরে বাজিছে কাঁসর,
                বধূরা চলেছে ঘাটে,
         মেঠো পথ দিয়ে গৃহস্থ জন
                আসিছে গ্রামের হাটে।
         নিশ্বাস ফেলি রহে আঁখি মেলি,
                কহে ম্রিয়মাণ মন,
         "শশী নাহি চাই যদি ফিরে পাই
                 আর বার এ জীবন।'
         দেখিল চাহিয়া জীবনপূর্ণ
                সুন্দর লোকালয়
         প্রতি দিবসের হরষে বিষাদে
                চির-কল্লোলময়।
         স্নেহসুধা লয়ে গৃহের লক্ষ্মী
                ফিরিছে গৃহের মাঝে,
         প্রতি দিবসেরে করিছে মধুর
                প্রতি দিবসের কাজে।
         সকাল বিকাল দুটি ভাই আসে
                ঘরের ছেলের মতো,
         রজনী সবারে কোলেতে লইছে
                নয়ন করিয়া নত।
         ছোটো ছোটো ফুল, ছোটো ছোটো হাসি,
                ছোটো কথা, ছোটো সুখ,
         প্রতি নিমেষের ভালোবাসাগুলি,
                ছোটো ছোটো হাসিমুখ
         আপনা-আপনি উঠিছে ফুটিয়া
                মানবজীবন ঘিরি,
         বিজন শিখরে বসিয়া সে তাই
                দেখিতেছে ফিরি ফিরি।
         দেখে বহুদূরে ছায়াপুরী-সম
                অতীত জীবন-রেখা,
         অস্তরবির সোনার কিরণে
                নূতন বরনে লেখা।
         যাহাদের পানে নয়ন তুলিয়া
                চাহে নি কখনো ফিরে,
         নবীন আভায় দেখা দেয় তারা
                স্মৃতিসাগরের তীরে।
         হতাশ হৃদয়ে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
                পুরবীরাগিণী বাজে,
         দু-বাহু বাড়ায়ে ফিরে যেতে চায়
                ওই জীবনের মাঝে।
         দিনের আলোক মিলায়ে আসিল
                তবু পিছে চেয়ে রহে--
         যাহা পেয়েছিল তাই পেতে চায়
                তার বেশি কিছু নহে।
         সোনার জীবন রহিল পড়িয়া
                কোথা সে চলিল ভেসে।
         শশীর লাগিয়া কাঁদিতে গেল কি
                রবিশশীহীন দেশে।
আরো দেখুন