তোমার আমার মাঝে ঘন হল কাঁটার বেড়া এ কখন সহসা রাতারাতি-- স্বদেশের অশ্রুজলে তারেই কি তুলিবে বাড়ায়ে ওরে মূঢ়, ওরে আত্মঘাতী? ওই সর্বনাশটাকে ধর্মের দামেতে কর দামী, ঈশ্বরের কর অপমান-- আঙিনা করিয়া ভাগ দুই পাশে তুমি আর আমি পূজা করি কোন্ শয়তান! ও কাঁটা দলিতে গেলে দুই দিকে ধর্মধ্বজী দলে ধিক্কারিবে তাহে ভয় নাই-- এ পাপ আড়ালখানা উপাড়ি ফেলিব ধূলিতলে, জানিব আমরা দোঁহে ভাই। দুই হাত মেলে নাই এত কাল ধরে তাই বার বার বিধাতার দান ব্যর্থ হল--অবশেষে আশীর্বাদ কাছে এসে অভিশাপে হল অবসান। তবুও মানবদ্রোহে স্পর্ধাভরে সমারোহে চল যদি অন্ধতার পথে, এই কথা জেনে যেয়ো বাঁচাবে যে মূঢ়কেও হেন শক্তি নাই এ জগতে।
কেমন করে তড়িৎ-আলোয় দেখতে পেলেম মনে তোমার বিপুল সৃষ্টি চলে আমার এই জীবনে। সে সৃষ্টি যে কালের পটে লোকে লোকান্তরে রটে, একটু তারি আভাস কেবল দেখি ক্ষণে ক্ষণে। মনে ভাবি, কান্নাহাসি আদর অবহেলা সবই যেন আমায় নিয়ে আমারি ঢেউ-খেলা। সেই আমি তো বাহনমাত্র, যায় সে ভেঙে মাটির পাত্র-- যা রেখে যায় তোমার সে ধন রয় তা তোমার সনে। তোমার বিশ্বে জড়িয়ে থাকে আমার চাওয়া পাওয়া। ভরিয়ে তোলে নিত্যকালের ফাল্গুনেরই হাওয়া। জীবন আমার দুঃখে সুখে দোলে ত্রিভুবনের বুকে, আমার দিবানিশির মালা জড়ায় শ্রীচরণে। আপন-মাঝে আপন জীবন দেখে যে মন কাঁদে। নিমেষগুলি শিকল হয়ে আমায় তখন বাঁধে। মিটল দুঃখ, টুটল বন্ধ-- আমার মাঝে হে আনন্দ, তোমার প্রকাশ দেখে মোহ ঘুচল এ নয়নে।