লেখন (13)

১৩

১৩

ফাগুন, শিশুর মতো, ধূলিতে রঙিন ছবি আঁকে,

ক্ষণে ক্ষণে মুছে ফেলে, চলে যায়, মনেও না থাকে॥  

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

47
Verses
তোমার আমার মাঝে ঘন হল কাঁটার বেড়া এ
        কখন সহসা রাতারাতি--
স্বদেশের অশ্রুজলে তারেই কি তুলিবে বাড়ায়ে
        ওরে মূঢ়, ওরে আত্মঘাতী?
ওই সর্বনাশটাকে ধর্মের দামেতে কর দামী,
        ঈশ্বরের কর অপমান--
আঙিনা করিয়া ভাগ দুই পাশে তুমি আর আমি
        পূজা করি কোন্‌ শয়তান!
ও কাঁটা দলিতে গেলে দুই দিকে ধর্মধ্বজী দলে
        ধিক্‌কারিবে তাহে ভয় নাই--
এ পাপ আড়ালখানা উপাড়ি ফেলিব ধূলিতলে,
        জানিব আমরা দোঁহে ভাই।
দুই হাত মেলে নাই এত কাল ধরে তাই
        বার বার বিধাতার দান
ব্যর্থ হল--অবশেষে আশীর্বাদ কাছে এসে
        অভিশাপে হল অবসান।
তবুও মানবদ্রোহে স্পর্ধাভরে সমারোহে
        চল যদি অন্ধতার পথে,
এই কথা জেনে যেয়ো বাঁচাবে যে মূঢ়কেও
        হেন শক্তি নাই এ জগতে।
আরো দেখুন
কেমন করে তড়িৎ-আলোয়
Verses
কেমন করে তড়িৎ-আলোয়
      দেখতে পেলেম মনে
তোমার বিপুল সৃষ্টি চলে
      আমার এই জীবনে।
সে সৃষ্টি যে কালের পটে
লোকে লোকান্তরে রটে,
একটু তারি আভাস কেবল
      দেখি ক্ষণে ক্ষণে।
মনে ভাবি, কান্নাহাসি
      আদর অবহেলা
সবই যেন আমায় নিয়ে
      আমারি ঢেউ-খেলা।
সেই আমি তো বাহনমাত্র,
যায় সে ভেঙে মাটির পাত্র--
যা রেখে যায় তোমার সে ধন
      রয় তা তোমার সনে।
তোমার বিশ্বে জড়িয়ে থাকে
      আমার চাওয়া পাওয়া।
ভরিয়ে তোলে নিত্যকালের
      ফাল্গুনেরই হাওয়া।
জীবন আমার দুঃখে সুখে
দোলে ত্রিভুবনের বুকে,
আমার দিবানিশির মালা
      জড়ায় শ্রীচরণে।
আপন-মাঝে আপন জীবন
      দেখে যে মন কাঁদে।
নিমেষগুলি শিকল হয়ে
      আমায় তখন বাঁধে।
মিটল দুঃখ, টুটল বন্ধ--
আমার মাঝে হে আনন্দ,
তোমার প্রকাশ দেখে মোহ
      ঘুচল এ নয়নে।
আরো দেখুন
ভূমিকা
Verses
ডুগডুগিটা বাজিয়ে দিয়ে
ধুলোয় আসর সাজিয়ে দিয়ে
            পথের ধারে বসল জাদুকর।
এল উপেন, এল রূপেন,
দেখতে এল নৃপেন, ভূপেন,
            গোঁদলপাড়ার এল মাধু কর।
দাড়িওয়ালা বুড়ো লোকটা,
কিসের-নেশায়-পাওয়া চোখটা,
            চারদিকে তার জুটল অনেক ছেলে।
যা-তা মন্ত্র আউড়ে, শেষে
একটুখানি মুচকে হেসে
            ঘাসের 'পরে চাদর দিল মেলে।
উঠিয়ে নিল কাপড়টা যেই
দেখা দিল ধুলোর মাঝেই
            দুটো বেগুন, একটা চড়ুইছানা,
জামের আঁঠি, ছেঁড়া ঘুড়ি,
একটিমাত্র গালার চুড়ি,
            ধুঁইয়ে-ওঠা ধুনুচি একখানা,
টুকরো বাসন চিনেমাটির,
মুড়ো ঝাঁটা খড়কেকাঠির,
            নলছে-ভাঙা হুঁকো, পোড়া কাঠটা--
ঠিকানা নেই আগুপিছুর,
কিছুর সঙ্গে যোগ না কিছুর,
            ক্ষণকালের ভোজবাজির এই ঠাট্টা।
আরো দেখুন