ভূমিকা (bhumika)

ডুগডুগিটা বাজিয়ে দিয়ে

ধুলোয় আসর সাজিয়ে দিয়ে

            পথের ধারে বসল জাদুকর।

এল উপেন, এল রূপেন,

দেখতে এল নৃপেন, ভূপেন,

            গোঁদলপাড়ার এল মাধু কর।

দাড়িওয়ালা বুড়ো লোকটা,

কিসের-নেশায়-পাওয়া চোখটা,

            চারদিকে তার জুটল অনেক ছেলে।

যা-তা মন্ত্র আউড়ে, শেষে

একটুখানি মুচকে হেসে

            ঘাসের 'পরে চাদর দিল মেলে।

উঠিয়ে নিল কাপড়টা যেই

দেখা দিল ধুলোর মাঝেই

            দুটো বেগুন, একটা চড়ুইছানা,

জামের আঁঠি, ছেঁড়া ঘুড়ি,

একটিমাত্র গালার চুড়ি,

            ধুঁইয়ে-ওঠা ধুনুচি একখানা,

টুকরো বাসন চিনেমাটির,

মুড়ো ঝাঁটা খড়কেকাঠির,

            নলছে-ভাঙা হুঁকো, পোড়া কাঠটা--

ঠিকানা নেই আগুপিছুর,

কিছুর সঙ্গে যোগ না কিছুর,

            ক্ষণকালের ভোজবাজির এই ঠাট্টা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

প্রলাপ  ২
Verses
ঢাল্‌! ঢাল্‌ চাঁদ! আরো আরো ঢাল্!
          সুনীল আকাশে রজতধারা!
হৃদয় আজিকে উঠেছে মাতিয়া
          পরাণ হয়েছে পাগলপারা!
গাইব রে আজ হৃদয় খুলিয়া
          জাগিয়া উঠিবে নীরব রাতি!
দেখাব জগতে হৃদয় খুলিয়া
          পরাণ আজিকে উঠেছে মাতি!
হাসুক পৃথিবী, হাসুক জগৎ,
          হাসুক হাসুক চাঁদিমা তারা!
হৃদয় খুলিয়া করিব রে গান
          হৃদয় হয়েছে পাগলপারা!
আধ ফুটো-ফুটো গোলাপ-কলিকা
          ঘাড়খানি আহা করিয়া হেঁট
মলয় পবনে লাজুক বালিকা
          সউরভ রাশি দিতেছে ভেট!
আয় লো প্রমদা! আয় লো হেথায়
          মানস আকাশে চাcর ধারা!
গোলাপ তুলিয়া পর্‌ লো মাথায়
          সাঁঝের গগনে ফুটিবে তারা ।
হেসে ঢল্‌ ঢল্‌ পূর্ণ শতদল
          ছড়িয়ে ছড়িয়ে সুরভিরাশি
নয়নে নয়নে, অধরে অধরে
          জ্যোছনা উছলি পড়িছে হাসি!
চুল হতে ফুল খুলিয়ে খুলিয়ে
          ঝরিয়ে ঝরিয়ে পড়িছে ভূমে!
খসিয়া খসিয়া পড়িছে আঁচল
          কোলের উপর কমল থুয়ে!
আয় লো তরুণী! আয় লো হেথায়!
          সেতার ওই যে লুটায় ভূমে
বাজা লো ললনে! বাজা একবার
          হৃদয় ভরিয়ে মধুর ঘুমে!
নাচিয়া নাচিয়া ছুটিবে আঙুল!
          নাচিয়া নাচিয়া ছুটিবে তান!
অবাক্‌ হইয়া মুখপানে তোর
          চাহিয়া রহিব বিভল প্রাণ!
গলার উপরে সঁপি হাতখানি
          বুকের উপরে রাখিয়া মুখ
আদরে অস্ফুটে কত কি যে কথা
          কহিবি পরানে ঢালিয়া সুখ!
ওই রে আমার সুকুমার ফুল
          বাতাসে বাতাসে পড়িছে দুলে
হৃদয়েতে তোরে রাখিব লুকায়ে
          নয়নে নয়নে রাখিব তুলে।
আকাশ হইতে খুঁজিবে তপন
          তারকা খুঁজিবে আকাশ ছেয়ে!
খুঁজিয়া বেড়াবে দিকবধূগণ
          কোথায় লুকাল মোহিনী মেয়ে?
আয় লো ললনে ! আয় লো আবার
          সেতারে জাগায়ে দে-না লো বালা!
দুলায়ে দুলায়ে ঘাড়টি নামায়ে
          কপোলেতে চুল করিবে খেলা!
কী-যে মূরতি শিশুর মতন!
          আধ ফুটো-ফুটো ফুলের কলি!
নীরব নয়নে কী-যে কথা কয়
          এ জনমে আর যাব না ভুলি!
কী-যে ঘুমঘোরে ছায় প্রাণমন
          লাজে ভরা ওই মধুর হাসি!
পাগলিনী বালা গলাটি কেমন
          ধরিস্‌ জড়িয়ে ছুটিয়ে আসি!
ভুলেছি পৃথিবী ভুলেছি জগৎ
          ভুলেছি, সকল বিষয় মানে!
হেসেছে পৃথিবী-- হেসেছে জগৎ
          কটাক্ষ করিলি কাহারো পানে!
আয়! আয় বালা! তোরে সাথে লয়ে
          পৃথিবী ছাড়িয়া যাই লো চলে!
চাঁদের কিরণে আকাশে আকাশে
          খেলায়ে বেড়াব মেঘের কোলে!
চল্‌ যাই মোরা আরেক জগতে
          দুজনে কেবল বেড়াব মাতি
কাননে কাননে, খেলাব দুজনে
          বনদেবীকোলে যাপিব রাতি!
যেখানে কাননে শুকায় না ফুল!
          সুরভি-পূরিত কুসুমকলি!
মধুর প্রেমেরে দোষে না যেথায়
          সেথায় দুজনে যাইব চলি!
আরো দেখুন
ঘুমচোরা
Verses
             কে নিল খোকার ঘুম হরিয়া।
মা তখন জল নিতে          ও পাড়ার দিঘিটিতে
             গিয়াছিল ঘট কাঁখে করিয়া।--
তখন রোদের বেলা           সবাই ছেড়েছে খেলা,
             ও পারে নীরব চখা-চখীরা;
শালিক থেমেছে ঝোপে,    শুধু পায়রার খোপে
             বকাবকি করে সখা-সখীরা;
তখন রাখাল ছেলে          পাঁচনি ধুলায় ফেলে
             ঘুমিয়ে পড়েছে বটতলাতে;
বাঁশ-বাগানের ছায়ে          এক-মনে এক পায়ে
             খাড়া হয়ে আছে বক জলাতে।
সেই ফাঁকে ঘুমচোর         ঘরেতে পশিয়া মোর
             ঘুম নিয়ে উড়ে গেল গগনে,
মা এসে অবাক রয়,         দেখে খোকা ঘর-ময়
             হামাগুড়ি দিয়ে ফিরে সঘনে।
             আমার খোকার ঘুম নিল কে।
যেথা পাই সেই চোরে       বাঁধিয়া আনিব ধরে,
             সে লোক লুকাবে কোথা ত্রিলোকে।
যাব সে গুহার ছায়ে         কালো পাথরের গায়ে
             কুলু কুলু বহে যেথা ঝরনা।
যাব সে বকুলবনে           নিরিবিলি সে বিজনে
            ঘুঘুরা করিছে ঘর-করনা।
যেখানে সে-বুড়া বট        নামায়ে দিয়েছে জট,
             ঝিল্লি ডাকিছে দিনে দুপুরে,
যেখানে বনের কাছে        বনদেবতারা নাচে
             চাঁদিনিতে রুনুঝুনু নূপুরে,
যাব আমি ভরা সাঁঝে       সেই বেণুবন-মাঝে
          আলো যেথা রোজ জ্বালে জোনাকি--
   শুধাব মিনতি করে,       "আমাদের ঘুমচোরে
             তোমাদের আছে জানাশোনা কি।'
             কে নিল খোকার ঘুম চুরায়ে।
   কোনোমতে দেখা তার                পাই যদি একবার
             লই তবে সাধ মোর পুরায়ে।
   দেখি তার বাসা খুঁজি    কোথা ঘুম করে পুঁজি,
             চোরা ধন রাখে কোন্‌ আড়ালে।
   সব লুঠি লব তার,         ভাবিতে হবে না আর
             খোকার চোখের ঘুম হারালে
   ডানা দুটি বেঁধে তারে      নিয়ে যাব নদীপারে
             সেখানে সে ব'সে এক কোণেতে
   জলে শরকাঠি ফেলে       মিছে মাছ-ধরা খেলে
             দিন কাটাইবে কাশবনেতে।
  যখন সাঁঝের বেলা          ভাঙিবে হাটের মেলা
             ছেলেরা মায়ের কোল ভরিবে,
   সারা রাত টিটি-পাখি      টিটকারি দিবে ডাকি--
             "ঘুমচোরা কার ঘুম হরিবে।'
আরো দেখুন
36
Verses
ঈশ্বরের হাস্যমুখ দেখিবারে পাই
যে আলোকে ভাইকে দেখিতে পায় ভাই।
ঈশ্বরপ্রণামে তবে হাতজোড় হয়
যখন ভাইয়ের প্রেমে মিলাই হৃদয়।
আরো দেখুন