৪৭ (tomar amar majhe ghono)

তোমার আমার মাঝে ঘন হল কাঁটার বেড়া এ

        কখন সহসা রাতারাতি--

স্বদেশের অশ্রুজলে তারেই কি তুলিবে বাড়ায়ে

        ওরে মূঢ়, ওরে আত্মঘাতী?

ওই সর্বনাশটাকে ধর্মের দামেতে কর দামী,

        ঈশ্বরের কর অপমান--

আঙিনা করিয়া ভাগ দুই পাশে তুমি আর আমি

        পূজা করি কোন্‌ শয়তান!

ও কাঁটা দলিতে গেলে দুই দিকে ধর্মধ্বজী দলে

        ধিক্‌কারিবে তাহে ভয় নাই--

এ পাপ আড়ালখানা উপাড়ি ফেলিব ধূলিতলে,

        জানিব আমরা দোঁহে ভাই।

দুই হাত মেলে নাই এত কাল ধরে তাই

        বার বার বিধাতার দান

ব্যর্থ হল--অবশেষে আশীর্বাদ কাছে এসে

        অভিশাপে হল অবসান।

তবুও মানবদ্রোহে স্পর্ধাভরে সমারোহে

        চল যদি অন্ধতার পথে,

এই কথা জেনে যেয়ো বাঁচাবে যে মূঢ়কেও

        হেন শক্তি নাই এ জগতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

নব পরিচয়
Verses
জন্ম মোর বহি যবে
          খেয়ার তরী এল ভবে
                   যে-আমি এল সে-তরীখানি বেয়ে,
ভাবিয়াছিনু বারে বারে
          প্রথম হতে জানি তারে,
                   পরিচিত সে পুরানো সবচেয়ে।
হঠাৎ যবে হেনকালে
          আবেশকুহেলিকাজালে
                   অরুণরেখা ছিদ্র দেয় আনি
          আমার নব পরিচয়
                   চমকি উঠে মনোময়--
                             নূতন সে যে, নূতন তারে জানি।
বসন্তের ভরাস্রোতে
          এসেছিল সে কোথা হতে
                   বহিয়া চিরযৌবনেরই ডালি।
অনন্তের হোমানলে
          যে-যজ্ঞের শিখা জ্বলে,
                   সে-শিখা হতে এনেছে দীপ জ্বালি।
মিলিয়া যায় তারই সাথে
          আশ্বিনেরই নবপ্রাতে
                   শিউলিবনে আলোটি     যাহা পড়ে,
শব্দহীন কলরোলে
          সে-নাচ তারই বুকে দোলে
                   যে-নাচ লাগে বৈশাখের ঝড়ে।
এ-সংসারে সব সীমা
          ছাড়ায়ে গেছে যে-মহিমা
                   ব্যাপিয়া আছে অতীতে অনাগতে,
মরণ করি অভিভব
          আছেন চির যে-মানব
                             নিজেরে দেখি সে-পথিকের পথে।
সংসারের ঢেউখেলা    
          সহজে করি অবহেলা
                   রাজহংস চলেছে যেন ভেসে--
সিক্ত নাহি করে তারে,
          মুক্ত রাখে পাখাটারে,
                   ঊর্ধ্বশিরে পড়িছে আলো এসে।
          আনন্দিত মন আজি
                   কী সংগীতে উঠে বাজি,
                             বিশ্ববীণা পেয়েছি যেন বুকে।
          সকল লাভ, সকল ক্ষতি,
                   তুচ্ছ আজি হল অতি
                             দুঃখ সুখ ভুলে যাওয়ার সুখে।
আরো দেখুন
পূর্ণতা
Verses
          ১
স্তব্ধরাতে একদিন
            নিদ্রাহীন
              আবেগের আন্দোলনে তুমি
বলেছিলে নতশিরে
            অশ্রুনীরে
              ধীরে মোর করতল চুমি--
"তুমি দূরে যাও যদি,
            নিরবধি
              শূন্যতার সীমাশূন্য ভারে
সমস্ত ভুবন মম
            মরুসম
              রুক্ষ হয়ে যাবে একেবারে।
আকাশবিস্তীর্ণ ক্লান্তি
            সব শান্তি
              চিত্ত হতে করিবে হরণ--
নিরানন্দ নিরালোক
            স্তব্ধ শোক
              মরণের অধিক মরণ।'
                    ২
শুনে, তোর মুখখানি
            বক্ষে আনি
              বলেছিনু তোরে কানে কানে--
"তুই যদি যাস দূরে
            তোরি সুরে
              বেদনা-বিদ্যুৎ গানে গানে
ঝলিয়া উঠিবে নিত্য,
            মোর চিত্ত
              সচকিবে আলোকে আলোকে।
বিরহ বিচিত্র খেলা
            সারা বেলা
              পাতিবে আমার বক্ষে চোখে।
তুমি খুঁজে পাবে প্রিয়ে,
            দূরে গিয়ে
              মর্মের নিকটতম দ্বার--
আমার ভুবনে তবে
            পূর্ণ হবে
              তোমার চরম অধিকার।'
                ৩
দুজনের সেই বাণী
            কানাকানি,
              শুনেছিল সপ্তর্ষির তারা;
রজনীগন্ধার বনে
            ক্ষণে ক্ষণে
              বহে গেল সে বাণীর ধারা।
তার পরে চুপে চুপে
            মৃত্যু রূপে
              মধ্যে এল বিচ্ছেদ অপার।
দেখাশুনা হল সারা,
            স্পর্শহারা
              সে অনন্তে বাক্য নাহি আর।
তবু শূন্য শূন্য নয়,
            ব্যথাময়
              অগ্নিবাষ্পে পূর্ণ সে গগন।
একা-একা সে অগ্নিতে
            দীপ্তগীতে
              সৃষ্টি করি স্বপ্নের ভুবন।
আরো দেখুন
ষোলো
Verses
শ্রীযুক্ত সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কল্যাণীয়েষু
      ১
পড়েছি আজ রেখার মায়ায়।
কথা ধনীঘরের মেয়ে,
অর্থ আনে সঙ্গে করে,
মুখরার মন রাখতে চিন্তা করতে হয় বিস্তর।
রেখা অপ্রগল্‌ভা, অর্থহীনা,
তার সঙ্গে আমার যে ব্যবহার সবই নিরর্থক।
গাছের শাখায় ফুল ফোটানো ফল ধরানো,
সে কাজে আছে দায়িত্ব;
গাছের তলায় আলোছায়ার নাট-বসানো
সে আর-এক কাণ্ড।
সেইখানেই শুকনো পাতা ছড়িয়ে পড়ে,
প্রজাপতি উড়তে থাকে,
জোনাকি ঝিকমিক করে রাতের বেলা।
বনের আসরে এরা সব রেখা-বাহন
হাল্কা চালের দল,
কারো কাছে জবাবদিহি নেই।
কথা আমাকে প্রশ্রয় দেয় না, তার কঠিন শাসন;
রেখা আমার যথেচ্ছাচারে হাসে,
তর্জনী তোলে না।
কাজকর্ম পড়ে থাকে, চিঠিপত্র হারিয়ে ফেলি,
ফাঁক পেলেই ছুটে যাই রূপ-ফলানোর অন্দরমহলে।
এমনি করে, মনের মধ্যে
অনেকদিনের যে-লক্ষ্মীছাড়া লুকিয়ে আছে
তার সাহস গেছে বেড়ে।
সে আঁকছে, ভাবছে না সংসারের ভালোমন্দ,
গ্রাহ্য করে না লোকমুখের নিন্দাপ্রশংসা।

মনটা আছে আরামে।
আমার ছবি-আঁকা কলমের মুখে
খ্যাতির লাগাম পড়েনি।
নামটা আমার খুশির উপরে
সর্দারি করতে আসেনি এখনো,
ছবি-আঁকার বুক জুড়ে
আগেভাগে নিজের আসনটা বিছিয়ে বসেনি;
ঠেলা দিয়ে দিয়ে বলছে না
"নাম রক্ষা ক'রো।"
অথচ ঐ নামটা নিজের মোটা শরীর নিয়ে
স্বয়ং কোনো কাজই করে না।
সব কীর্তির মুখ্য ভাগটা আদায় করবার জন্যে
দেউড়িতে বসিয়ে রাখে পেয়াদা;
হাজার মনিবের পিণ্ড-পাকানো
ফরমাশটাকে বেদী বানিয়ে স্তূপাকার ক'রে রাখে
কাজের ঠিক সামনে।
এখনো সেই নামটা অবজ্ঞা করেই রয়েছে  অনুপস্থিত;--
আমার তুলি আছে মুক্ত
যেমন মুক্ত আজ ঋতুরাজের লেখনী।
আরো দেখুন