ক্ষণিক মিলন (khonik milon)

আকাশের দুই দিক হতে          দুইখানি মেঘ এল ভেসে,

দুইখানি দিশাহারা মেঘ--         কে জানে এসেছে কোথা হতে

সহসা থামিল থমকিয়া             আকাশের মাঝখানে এসে,

দোঁহাপানে চাহিল দু-জনে        চতুর্থীর চাঁদের আলোতে।

ক্ষীণালোকে বুঝি মনে পড়ে      দুই অচেনার চেনাশোনা,

মনে পড়ে কোন্‌ ছায়া-দ্বীপে,     কোন্‌ কুহেলিকা-ঘের দেশে,

কোন্‌ সন্ধ্যা-সাগরের কূলে       দু-জনের ছিল আনাগোনা।

মেলে দোঁহে তবুও মেলে না     তিলেক বিরহ রহে মাঝে,

চেনা বলে মিলিবারে চায়,        অচেনা বলিয়া মরে লাজে।

মিলনের বাসনার মাঝে            আধখানি চাঁদের বিকাশ,--

দুটি চুম্বনের ছোঁয়াছুয়ি,          মাঝে যেন শরমের হাস,

দুখানি অলস আঁখিপাতা,        মাঝে সুখস্বপন-আভাস।

দোঁহার পরশ লয়ে দোঁহে         ভেসে গেল, কহিল না কথা,

বলে গেল সন্ধ্যার কাহিনী,        লয়ে গেল উষার বারতা॥

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

212
Verses
যে বন্ধুরে আজও দেখি নাই
      তাহারই বিরহে ব্যথা পাই।
আরো দেখুন
21
Verses
রক্তমাখা দন্তপংক্তি হিংস্র সংগ্রামের
শত শত নগরগ্রামের
অন্ত্র আজ ছিন্ন ছিন্ন করে;
ছুটে চলে বিভীষিকা মূর্ছাতুর দিকে দিগন্তরে।
বন্যা নামে যমলোক হতে,
রাজ্যসাম্রাজ্যের বাঁধ লুপ্ত করে সর্বনাশা স্রোতে।
যে লোভ-রিপুরে
লয়ে গেছে যুগে যুগে দূরে দূরে
সভ্য শিকারীর দল পোষমানা শ্বাপদের মতো,
দেশবিদেশের মাংস করেছে বিক্ষত,
লোলজিহ্বা সেই কুকুরের দল
অন্ধ হয়ে ছিঁড়িল শৃঙ্খল,
ভুলে গেল আত্মপর;
আদিম বন্যতা তার উদ্‌বারিয়া উদ্দাম নখর
পুরাতন ঐতিহ্যের পাতাগুলা ছিন্ন করে,
ফেলে তার অক্ষরে অক্ষরে
পঙ্কলিপ্ত চিহ্নের বিকার।
অসন্তুষ্ট বিধাতার
ওরা দূত বুঝি,
শত শত বর্ষের পাপের পুঁজি
ছড়াছড়ি করে দেয় এক সীমা হতে সীমান্তরে,
রাষ্ট্রমদমত্তদের মদ্যভান্ড চূর্ণ করে
আবর্জনাকুণ্ডতলে।
মানব আপন সত্তা ব্যর্থ করিয়াছে দলে দলে,
বিধাতার সংকল্পের নিত্যই করেছে বিপর্যয়
ইতিহাসময়।
সেই পাপে
আত্মহত্যা-অভিশাপে
আপনার সাধিছে বিলয়।
হয়েছে নির্দয়
আপন ভীষণ শত্রু আপনার 'পরে,
ধূলিসাৎ করে
ভুরিভোজী বিলাসীর
ভাণ্ডারপ্রাচীর।
শ্মশানবিহারবিলাসিনী
ছিন্নমস্তা,মুহূর্তেই মানুষের সুখস্বপ্ন জিনি
বক্ষ ভেদি দেখা দিল আত্মহারা,
শতস্রোতে নিজ রক্তধারা
নিজে করি পান।
এ কুৎসিত লীলা যবে হবে অবসান,
বীভৎস তান্ডবে
এ পাপযুগের অন্ত হবে,
মানব তপস্বীবেশে
চিতাভস্মশয্যাতলে  এসে
নবসৃষ্টি-ধ্যানের আসনে
স্থান লবে নিরাসক্তমনে--
আজি সেই সৃষ্টির আহ্বান
ঘোষিছে কামান।
আরো দেখুন
বৈশাখ
Verses
হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ!
ধুলায় ধূসর রুক্ষ উড্ডীন পিঙ্গল জটাজাল,
তপঃক্লিষ্ট তপ্ত তনু, মুখে তুলি বিষাণ ভয়াল
            কারে দাও ডাক
        হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ!
        ছায়ামূর্তি যত অনুচর
দগ্ধতাম্র দিগন্তের কোন্‌ ছিদ্র হতে ছুটে আসে!
কী ভীষ্ম অদৃশ্য নৃত্যে মাতি উঠে মধ্যাহ্ন-আকাশে
            নিঃশব্দ প্রখর
         ছায়ামূর্তি তব অনুচর!
        মত্তশ্রমে শ্বসিছে হুতাশ।
রহি রহি দহি দহি উগ্রবেগে উঠিছে ঘুরিয়া,
আবর্তিয়া তৃণপর্ণ, ঘূর্ণচ্ছন্দে শূন্যে আলোড়িয়া
            চূর্ণরেণুরাশ
        মত্তশ্রমে শ্বসিছে হুতাশ।
        দীপ্তচক্ষু হে শীর্ণ সন্ন্যাসী,
পদ্মাসনে বস আসি রক্তনেত্র তুলিয়া ললাটে,
শুষ্কজল নদীতীরে শস্যশূন্য তৃষাদীর্ণ মাঠে
            উদাসী প্রবাসী--
        দীপ্তচক্ষু হে শীর্ণ সন্ন্যাসী!
        জ্বলিতেছে সম্মুখে তোমার
লোলুপ চিতাগ্নিশিখা, লেহি লেহি বিরাট অম্বর,
নিখিলের পরিত্যক্ত মৃতস্তূপ বিগত বৎসর
            করি ভস্মসার।
        চিতা জ্বলে সম্মুখে তোমার।
        হে বৈরাগী, করো শান্তিপাঠ।
উদার উদাস কণ্ঠ যাক ছুটে দক্ষিণে ও বামে,
যাক নদী পার হয়ে, যাক চলি গ্রাম হতে গ্রামে,
            পূর্ণ করি মাঠ।
        হে বৈরাগী, করো শান্তিপাঠ।
        সকরুণ তব মন্ত্রসাথে
মর্মভেদী যত দুঃখ বিস্তারিয়া যাক বিশ্ব-'পরে,
ক্লান্ত কপোতের কণ্ঠে, ক্ষীণ জাহ্নবীর শ্রান্তস্বরে,
            অশ্বত্থছায়াতে--
        সকরুণ তব মন্ত্রসাথে।
        দুঃখ সুখ আশা ও নৈরাশ
তোমার ফুৎকারলুব্ধ ধুলা-সম উড়ুক গগনে,
ভ'রে দিক নিকুঞ্জের স্খলিত ফুলের গন্ধসনে
            আকুল আকাশ--
        দুঃখ সুখ আশা ও নৈরাশ।
        তোমার গেরুয়া বস্ত্রাঞ্চল
দাও পাতি নভস্তলে, বিশাল বৈরাগ্যে আবরিয়া
জরা মৃত্যু ক্ষুধা তৃষ্ণা, লক্ষকোটি নরনারী-হিয়া
            চিন্তায় বিকল।
        দাও পাতি গেরুয়া অঞ্চল।
        ছাড়ো ডাক, হে রুদ্র বৈশাখ!
ভাঙিয়া মধ্যাহ্নতন্দ্রা জাগি উঠি বাহিরিব দ্বারে,
চেয়ে রব প্রাণীশূন্য দগ্ধতৃণ দিগন্তের পারে
            নিস্তব্ধ নির্বাক।
        হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ!
আরো দেখুন