শুভক্ষণ (shubhokkhon)

ওগো মা,

           রাজার দুলাল যাবে আজি মোর

                     ঘরের সমুখপথে,

           আজি এ প্রভাতে গৃহকাজ লয়ে

                  রহিব বলো কী মতে।

           বলে দে আমায় কী করিব সাজ,

           কী ছাঁদে কবরী বেঁধে লব আজ,

           পরিব অঙ্গে কেমন ভঙ্গে

                  কোন্‌ বরনের বাস।

 

        মা গো,      কী হল তোমার, অবাক নয়নে

                         মুখপানে কেন চাস।

        আমি     দাঁড়াব যেথায় বাতায়নকোণে

                   সে চাবে না সেথা জানি তাহা মনে--

                   ফেলিতে নিমেষ দেখা হবে শেষ,

                         যাবে সে সুদূর পুরে,

        শুধু           সঙ্গের বাঁশি কোন্‌ মাঠ হতে

                         বাজিবে ব্যাকুল সুরে।

        তবু           রাজার দুলাল যাবে আজি মোর

                         ঘরের সমুখপথে,

        শুধু           সে নিমেষ লাগি না করিয়া বেশ

                         রহিব বলো কী মতে।

 

ওগো মা,

           রাজার দুলাল গেল চলি মোর

                   ঘরের সমুখপথে,

           প্রভাতের আলো ঝলিল তাহার

                   স্বর্ণশিখর রথে।

           ঘোমটা খসায়ে বাতায়নে থেকে

           নিমেষের লাগি নিয়েছি মা দেখে,

           ছিঁড়ি মণিহার ফেলেছি তাহার

                  পথের ধুলার 'পরে।

 

        মা গো,      কী হল তোমার, অবাক নয়নে

                         চাহিস কিসের তরে!

        মোর      হার-ছেঁড়া মণি নেয় নি কুড়ায়ে,

                   রথের চাকায় গেছে সে গুঁড়ায়ে

                   চাকার চিহ্ন ঘরের সমুখে

                   পড়ে আছে শুধু আঁকা।

        আমি     কী দিলেম কারে জানে না সে কেউ--

                         ধুলায় রহিল ঢাকা।

 

        তবু           রাজার দুলাল গেল চলি মোর

                         ঘরের সমুখপথে--

        মোর      বক্ষের মণি না ফেলিয়া দিয়া

                         রহিব বলো কী মতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

The Merchant
Verses
IMAGINE, MOTHER, that you are to stay at home and I am to travel into strange lands.
Imagine that my boat is ready at the landing fully laden.
Now think well, mother, before you say what I shall bring for you when I come back.
Mother, do you want heaps and heaps of gold?
There, by the banks of golden streams, fields are full of golden harvest.
And in the shade of the forest path the golden champa flowers drop on the ground.
I will gather them all for you in many hundred baskets.
Mother, do you want pearls big as the raindrops of autumn?
I shall cross to the pearl island shore.
There in the early morning light pearls tremble on the meadow flowers, pearls drop on the grass, and pearls are scattered on the sand in spray by the wild sea-waves.
My brother shall have a pair of horses with wings to fly among the clouds.
For father I shall bring a magic pen that, without his knowing, will write of itself.
For you, mother, I must have the casket and jewel that cost seven kings their kingdoms.
আরো দেখুন
আকাঙক্ষা
Verses
       আর্দ্র তীব্র পূর্ববায়ু বহিতেছে বেগে,
       ঢেকেছে উদয়পথ ঘননীল মেঘে।
       দূরে গঙ্গা, নৌকা নাই, বালু উড়ে যায়,
       বসে বসে ভাবিতেছি-- আজি কে কোথায়!
       শুষ্ক পাতা উড়ে পড়ে জনহীন পথে,
       বনের উতল রোল আসে দূর হতে।
       নীরব প্রভাত-পাখি, কম্পিত কুলায়,
       মনে জাগিতেছে সদা-- আজি সে কোথায়!
       কত কাল ছিল কাছে, বলি নি তো কিছু,
       দিবস চলিয়া গেছে দিবসের পিছু।
       কত হাস্যপরিহাস, বাক্য-হানাহানি,
       তার মাঝে রয়ে গেছে হৃদয়ের বাণী।
       মনে হয় আজ যদি পাইতাম কাছে,
       বলিতাম হৃদয়ের যত কথা আছে।
       বচনে পড়িত নীল জলদের ছায়,
       ধ্বনিতে ধ্বনিত আর্দ্র উতরোল বায়।
       ঘনাইত নিস্তব্ধতা দূর ঝটিকার,
       নদীতীরে মেঘে বনে হত একাকার।
       এলোকেশ মুখে তার পড়িত নামিয়া,
       নয়নে সজল বাষ্প রহিত থামিয়া।
       জীবনমরণময় সুগম্ভীর কথা,
       অরণ্যমর্মরসম মর্মব্যাকুলতা,
       ইহপরকালব্যাপী সুমহান প্রাণ,
       উচ্ছ্বসিত উচ্চ আশা, মহত্ত্বের গান,
বৃহৎ বিষাদ ছায়া-বিরহ গভীর,
       প্রচ্ছন্ন হৃদয়রুদ্ধ আকাঙক্ষা অধীর,
       বর্ণন-অতীত যত অস্ফুট বচন--
       নির্জন ফেলিত ছেয়ে মেঘের মতন।
       যথা দিবা-অবসানে নিশীথনিলয়ে
       বিশ্ব দেখা দেয় তার গ্রহতারা লয়ে,
       হাস্যপরিহাসমুক্ত হৃদয়ে আমার
       দেখিত সে অন্তহীন জগৎ-বিস্তার।
       নিম্নে শুধু কোলাহল খেলাধুলা হাস,
       উপরে নির্লিপ্ত শান্ত অন্তর-আকাশ।
       আলোকেতে দেখো শুধু ক্ষণিকের খেলা,
       অন্ধকারে আছি আমি অসীম একেলা।
       কতটুকু ক্ষুদ্র মোরে দেখে গেছে চলে,
       কত ক্ষুদ্র সে বিদায় তুচ্ছ কথা ব'লে!
       কল্পনার সত্যরাজ্য দেখাই নি তারে,
       বসাই নি এ নির্জন আত্মার আঁধারে।
       এ নিভৃতে, এ নিস্তব্ধে, এ মহত্ত্ব-মাঝে
       দুটি চিত্ত চিরনিশি যদি রে বিরাজে--
       হাসিহীন শব্দশূন্য ব্যোম দিশাহারা,
       প্রেমপূর্ণ চারি চক্ষু জাগে চারি তারা।
       শ্রান্তি নাই, তৃপ্তি নাই, বাধা নাই পথে,
       জীবন ব্যাপিয়া যায় জগতে জগতে--
       দুটি প্রাণতন্ত্রী হতে পূর্ণ একতানে
       উঠে গান অসীমের সিংহাসন-পানে।
আরো দেখুন
9
Verses
ONCE WE dreamt that we were strangers.
We wake up to find that we were dear to each other.
আরো দেখুন