বিচ্ছেদ (bichchhed)

    তোমার বীণার সাথে আমি

          সুর দিয়ে যে যাব

    তারে তারে খুঁজে বেড়াই

          সে সুর কোথায় পাব।

 

    যেমন সহজ ভোরের জাগা,

          স্রোতের আনাগোনা,

    যেমন সহজ পাতায় শিশির,

          মেঘের মুখে সোনা,

    যেমন সহজ জ্যোৎস্নাখানি

          নদীর বালু-পাড়ে,

                 গভীর রাতে বৃষ্টিধারা

          আষাঢ়-অন্ধকারে

    খুঁজে মরি তেমনি সহজ,

          তেমনি ভরপুর,

    তেমনিতরো অর্থ-ছোটা

          আপনি-ফোটা সুর--

    তেমনিতরো নিত্য নবীন,

          অফুরন্ত প্রাণ,

    বহুকালের পুরানো সেই

          সবার জানা গান।

 

    আমার যে এই নূতন-গড়া

          নূতন বাঁধা তার

    নূতন সুরে করতে সে যায়

          সৃষ্টি আপনার।

    মেশে না তাই চারি দিকের

          সহজ সমীরণে,

    মেলে না তাই আকাশ-ডোবা

          স্তব্ধ আলোর সনে।

    জীবন আমার কাঁদে যে তাই

          দণ্ডে পলে পলে,

    যত চেষ্টা করি কেবল

          চেষ্টা বেড়ে চলে।

    ঘটিয়ে তুলি কত কী যে

          বুঝি না এক তিল,

    তোমার সঙ্গে অনায়াসে

          হয় না সুরের মিল।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

শ্যামলা
Verses
হে শ্যামলা, চিত্তের গহনে আছ চুপ,
          মুখে তব সুদূরের রূপ
                   পড়িয়াছে ধরা
সন্ধ্যার আকাশসম সকল-চঞ্চল চিন্তা-হরা।
          আঁকা দেখি দৃষ্টিতে তোমার
                   সমুদ্রের পরপার,
গোধূলিপ্রান্তরপ্রান্তে ঘন কালো রেখাখানি;
          অধরে তোমার বীণাপাণি
                   রেখে দিয়ে বীণা তাঁর
নিশীথের রাগিণীতে দিতেছেন নিঃশব্দ ঝংকার।
                   অগীত সে সুর
মনে এনে দেয় কোন্‌ হিমাদ্রীর শিখরে সুদূর
          হিমঘন তপস্যায় স্তব্ধলীন
             নির্ঝরের ধ্যান বাণীহীন।
                   জলভারনত মেঘে
          তমালবনের 'পরে আছে লেগে
               সকরুণ ছায়া সুগম্ভীর--
তোমার ললাট-'পরে সেই মায়া রহিয়াছে স্থির।
ক্লান্ত-অশ্রু রাধিকার বিরহের স্মৃতির গভীরে
স্বপ্নময়ী যে যমুনা বহে ধীরে
          শান্তধারা
      কলশব্দহারা
তাহারই বিষাদ কেন
          অতল গাম্ভীর্য ল'য়ে তোমার মাঝারে হেরি যেন।
শ্রাবণে অপরাজিতা, চেয়ে দেখি তারে
আঁখি ডুবে যায় একেবারে--
         ছোটো পত্রপুটে তার নীলিমা করেছে ভরপুর,
                   দিগন্তের শৈলতটে অরণ্যের সুর
              বাজে তাহে, সেই দূর আকাশের বাণী
         এনেছে আমার চিত্তে তোমার নির্বাক মুখখানি।
আরো দেখুন
এক
Verses
স্থির জেনেছিলেম, পেয়েছি তোমাকে,
মনেও হয়নি
তোমার দানের মূল্য যাচাই করার কথা।
তুমিও মূল্য করনি দাবি।
দিনের পর দিন গেল, রাতের পর রাত,
দিলে ডালি উজাড় ক'রে।
আড়চোখে চেয়ে
আনমনে নিলেম তা ভাণ্ডারে;
পরদিনে মনে রইল না।
নববসন্তের মাধবী
যোগ দিয়েছিল তোমার দানের সঙ্গে,
শরতের পূর্ণিমা দিয়েছিল তারে স্পর্শ।
তোমার কালো চুলের বন্যায়
আমার দুই পা ঢেকে দিয়ে বলেছিলে
"তোমাকে যা দিই
তোমার রাজকর তার চেয়ে অনেক বেশি;
আরো দেওয়া হল না
আরো যে আমার নেই।"
বলতে বলতে তোমার চোখ এল ছলছলিয়ে।
আজ তুমি গেছ চলে,
দিনের পর দিন আসে, রাতের পর রাত,
তুমি আস না।
এতদিন পরে ভাণ্ডার খুলে
দেখছি তোমার রত্নমালা,
নিয়েছি তুলে বুকে।
যে গর্ব আমার ছিল উদাসীন
সে নুয়ে পড়েছে সেই মাটিতে
যেখানে তোমার দুটি পায়ের চিহ্ন আছে আঁকা।
তোমার প্রেমের দাম দেওয়া হল বেদনায়,
হারিয়ে তাই পেলেম তোমায় পূর্ণ ক'রে।
আরো দেখুন
22
Verses
            কে গো অন্তরতর সে।
আমার চেতনা আমার বেদনা
            তারি সুগভীর পরশে।
আঁখিতে আমার বুলায় মন্ত্র,
বাজায় হৃদয়বীণার তন্ত্র,
কত আনন্দে জাগায় ছন্দ
            কত সুখে দুখে হরষে।
সোনালি রুপালি সবুজে সুনীলে
সে এমন মায়া কেমনে গাঁথিলে,
তারি সে আড়ালে চরণ বাড়ালে
            ডুবালে সে সুধাসরসে।
কত দিন আসে কত যুগ যায়
গোপনে গোপনে পরান ভুলায়,
নানা পরিচয়ে নানা নাম লয়ে
          নিতি নিতি রস বরষে।
আরো দেখুন