৭৪ (dayeder ginniti)

দাঁয়েদের গিন্নিটি

   কিপ্‌টে সে অতিশয়,

পান থেকে চুন গেলে

   কিছুতে না ক্ষতি সয়।

কাঁচকলা-খোষা দিয়ে

পচা মহুয়ার ঘিয়ে

ছেঁচকি বানিয়ে আনে--

   সে কেবল পতি সয়;

একটু করলে 'উহুঁ'

   যদি এক রতি সয়!

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

কর্মফল
Verses
পরজন্ম সত্য হলে
            কী ঘটে মোর সেটা জানি--
আবার আমায় টানবে ঘরে
            বাংলাদেশের এ রাজধানী।
গদ্য পদ্য লিখনু ফেঁদে,
তারাই আমায় আনবে বেঁধে,
অনেক লেখায় অনেক পাতক,
            সে মহাপাপ করবে মোচন--
                        আমায় হয়তো করতে হবে
                             আমার লেখা সমালোচন।
ততদিনে দৈবে যদি
            পক্ষপাতী পাঠক থাকে
কর্ণ হবে রক্তবর্ণ
            এমনি কটু বলব তাকে।
যে বইখানি পড়বে হাতে                
দগ্ধ করব পাতে পাতে,
আমার ভাগ্যে হব আমি
            দ্বিতীয় এক ধূম্রলোচন--
                        আমায় হয়তো করতে হবে
                             আমার লেখা সমালোচন।
বলব,"এ-সব কী পুরাতন!
            আগাগোড়া ঠেকছে চুরি।
মনে হচ্ছে, আমিও এমন
            লিখতে পারি ঝুড়ি ঝুড়ি।'
আরো যে-সব লিখব কথা
ভাবতে মনে বাজছে ব্যথা,
পরজন্মের নিষ্ঠুরতায়
            এ জন্মে হয় অনুশোচন--
                        আমায় হয়তো করতে হবে
                             আমার লেখা সমালোচন।
তোমরা, যাঁদের বাক্য হয় না
            আমার পক্ষে মুখরোচক
তোমরা যদি পুনর্জন্মে
            হও পুনর্বার সমালোচক--
আমি আমায় পাড়ব গালি,
তোমরা তখন ভাববে খালি
কলম ক'ষে ব'সে ব'সে
            প্রতিবাদের প্রতি বচন।
                        আমায় হয়তো করতে হবে
                             আমার লেখা সমালোচন।
লিখব, ইনি কবিসভায়
            হংসমধ্যে বকো যথা!
তুমি লিখবে, কোন্‌ পাষণ্ড
            বলে এমন মিথ্যা কথা!
আমি তোমায় বলব--মূঢ়,
তুমি আমায় বলবে--রূঢ়,
তার পরে যা লেখালেখি
            হবে না সে রুচিরোচন।
                        তুমি লিখবে কড়া জবাব,
                             আমি কড়া সমালোচন।
আরো দেখুন
অন্তর্হিতা
Verses
প্রদীপ যখন নিবেছিল,
       আঁধার যখন রাতি,
দুয়ার যখন বন্ধ ছিল,
       ছিল না কেউ সাথি--
    মনে হল অন্ধকারে
    কে এসেছে বাহির-দ্বারে,
মনে হল শুনি যেন
       পায়ের ধ্বনি কার,
রাতের হাওয়ায় বাজল বুঝি
       কঙ্কণঝংকার।
বারেক শুধু মনে হল
       খুলি, দুয়ার খুলি।
ক্ষণেক পরে ঘুমের ঘোরে
       কখন গেনু ভুলি।
    "কোন্‌ অতিথি দ্বারের কাছে
    একলা রাতে বসে আছে?'
ক্ষণে ক্ষণে তন্দ্রা ভেঙে
       মন শুধাল যবে
বলেছিলেম, "আর কিছু নয়,
       স্বপ্ন আমার হবে।'
মাঝ-গগনে সপ্ত-ঋষি
       স্তব্ধ গভীর রাতে
জানলা হতে আমায় যেন
       ডাকল ইশারাতে।
    মনে হল "শয়ন ফেলে,
    দিই-না কেন আলো জ্বেলে'--
আলসভরে রইনু শুয়ে
       হল না দীপ জ্বালা।
প্রহর পরে কাটল প্রহর,
       বন্ধ রইল তালা।
জাগল কখন দখিন-হাওয়া
       কাঁপল বনের হিয়া,
স্বপ্নে কথা-কওয়ার মতো
       উঠল মর্মরিয়া।
    যুথীর গন্ধ ক্ষণে ক্ষণে
    মূর্ছিল মোর বাতায়নে,
শিহর দিয়ে গেল আমার
       সকল অঙ্গ চুমে।
জেগে উঠে আবার কখন
       ভরল নয়ন ঘুমে।
ভোরের তারা পুব-গগনে
       যখন হল গত
বিদায়রাতির একটি ফোঁটা
       চোখের জলের মতো,
    হঠাৎ মনে হল তবে--
    যেন কাহার করুণ রবে
শিরীষ ফুলের গন্ধে আকুল
       বনের বীথি ব্যেপে
শিশির-ভেজা তৃণগুলি
       উঠল কেঁপে কেঁপে।
শয়ন ছেড়ে উঠে তখন
       খুলে দিলেম দ্বার--
হায় রে, ধুলায় বিছিয়ে গেছে
        যূথীর মালা কার।
    ওই যে দূরে, নয়ন নত,
    বনের ছায়ায় ছায়ার মতো
মায়ার মতো মিলিয়ে গেল
       অরুণ-আলোয় মিশে,
ওই বুঝি মোর বাহির-দ্বারের
       রাতের অতিথি সে।
আজ হতে মোর ঘরের দুয়ার
       রাখব খুলে রাতে।
প্রদীপখানি রইবে জ্বালা
       বাহির-জানালাতে।
    আজ হতে কার পরশ লাগি
    পথ তাকিয়ে রইব জাগি--
আর কোনোদিন আসবে না কি
       আমার পরান ছেয়ে
যূথীর মালার গন্ধখানি
       রাতের বাতাস বেয়ে।
আরো দেখুন
প্রণতি
Verses
          কত ধৈর্য ধরি
ছিলে কাছে দিবসশর্বরী।
                   তব পদ-অঙ্কনগুলিরে
কতবার দিয়ে গেছ মোর ভাগ্যপথের ধূলিরে।
                                      আজ যবে
                             দূরে যেতে হবে
                                      তোমারে করিয়া যাব দান
                                                তব জয়গান।
কতবার ব্যর্থ আয়োজনে
                                      এ জীবনে
হোমাগ্নি উঠেনি জ্বলি,
                                      শূন্যে গেছে চলি
                   হতাশ্বাস ধূমের কুণ্ডলী।
                   কতবার ক্ষণিকের শিখা
                             আঁকিয়াছে ক্ষীণ টিকা
                   নিশ্চেতন নিশীথের ভালে।
লুপ্ত হয়ে গেছে তাহা চিহ্নহীন কালে।
এবার তোমার আগমন
                             হোমহুতাশন
                                      জ্বেলেছে গৌরবে।
                   যজ্ঞ মোর ধন্য হবে।
          আমার আহুতি দিনশেষে
করিলাম সমর্পণ তোমার উদ্দেশে।
          লহো এ প্রণাম--
                             জীবনের পূর্ণ পরিণাম।
                                                এ প্রণতি'-পরে
স্পর্শ রাখো স্নেহভরে।
          তোমার ঐশ্বর্য-মাঝে
সিংহাসন যেথায় বিরাজে,
                             করিয়ো আহ্বান,
সেথা এ প্রণতি মোর পায় যেন স্থান।
আরো দেখুন