অপটু (opotu)

যতবার আজ গাঁথনু মালা

      পড়ল খসে খসে

      কী জানি কার দোষে!

তুমি হোথায় চোখের কোণে

       দেখছ বসে বসে।

                চোখ-দুটিরে প্রিয়ে,

                শুধাও শপথ নিয়ে

       আঙুল আমার আকুল হল

                 কাহার দৃষ্টিদোষে!

 

  আজ যে বসে গান শোনাব

              কথাই নাহি জোটে,

              কণ্ঠ নাহি ফোটে।

  মধুর হাসি খেলে তোমার

              চতুর রাঙা ঠোঁটে।

                          কেন এমন ত্রুটি

                          বলুক আঁখি-দুটি--

              কেন আমার রুদ্ধ কণ্ঠে

                          কথাই নাহি ফোটে!

 

  রেখে দিলাম মাল্য বীণা,

              সন্ধ্যা হয়ে আসে।

              ছুটি দাও এ দাসে--

  সকল কথা বন্ধ করে

              বসি পায়ের পাশে।

                          নীরব ওষ্ঠ দিয়ে

                          পারব যে কাজ প্রিয়ে

              এমন কোনো কর্ম দেহো          

                          অকর্মণ্য দাসে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

জাগরণ
Verses
  কৃষ্ণপক্ষে আধখানা চাঁদ
            উঠল অনেক রাতে,
  খানিক কালো খানিক আলো
            পড়ল আঙিনাতে।
  ওরে আমার নয়ন, আমার
            নয়ন নিদ্রাহারা,
  আকাশ-পানে চেয়ে চেয়ে
            কত গুনবি তারা।
  সাড়া কারো নাই রে, সবাই
            ঘুমায় অকাতরে।
  প্রদীপগুলি নিবে গেল
        দুয়ার-দেওয়া ঘরে।
  তুই কেন আজ বেড়াস ফিরি
        আলোয় অন্ধকারে।
  তুই কেন আজ দেখিস চেয়ে
        বনপথের পারে।
  শব্দ কোথাও শুনতে কি পাস
        মাঠে তেপান্তরে।
  মাটি কোথাও উঠছে কেঁপে
        ঘোড়ার পদভরে?
  কোথাও ধুলো উড়ছে কি রে
        কোনো আকাশ-কোণে।
  আগুনশিখা যায় কি দেখা
        দূরের আম্রবনে।
  সন্ধ্যাবেলা তুই কি কারো
        লিখন পেয়েছিলি।
  বুকের কাছে লুকিয়ে রেখে
        শান্তি হারাইলি?
  নাচে রে তাই রক্ত নাচে
        সকল দেহ-মাঝে,
  বাজে রে তাই কী কথা তোর
        পাঁজর জুড়ে বাজে।
  আজিকে এই খণ্ড চাঁদের
        ক্ষীণ আলোকের 'পরে
  ব্যাকুল হয়ে অশান্ত প্রাণ
        আঘাত করে মরে।
  কী লুকিয়ে আছে ওরে,
        কী রেখেছে ঢেকে--
  কিসের কাঁপন কিসের আভাস
        পাই যে থেকে থেকে।
  ওরে, কোথাও নাই রে হাওয়া,
        স্তব্ধ বাঁশের শাখা--
  বালুতটের পাশে নদী
        কালির বর্ণে আঁকা।
  বনের 'পরে চেপে আছে
        কাহার অভিশাপ--
  ধরণীতল মূর্ছা গেছে
        লয়ে আপন তাপ।
  ওরে, হেথায় আনন্দ নেই--
        পুরানো তোর বাড়ি,
  ভাঙা দুয়ার বাদুড়কে ওই
        দিয়েছে পথ ছাড়ি।
  সন্ধ্যা হতে ঘুমিয়ে পড়ে
        যে যেথা পায় স্থান--
  জাগে না কেউ বীণা হাতে,
        গাহে না কেউ গান।
  হেথা কি তোর দুয়ারে কেউ
        পৌঁছোবে আজ রাতে--
  এক হাতে তার ধ্বজা তুলে,
        আলো আর-এক হাতে?
  হঠাৎ কিসের চঞ্চলতা
        ছুটে আসবে বেগে,
  গ্রামের পথে পাখিরা সব
        গেয়ে উঠবে জেগে।
উঠবে মৃদঙ বেজে বেজে
        গর্জি গুরুগুরু,
  অঙ্গে হঠাৎ দেবে কাঁটা,
        বক্ষ দুরুদুরু।
  ওরে নিদ্রাবিহীন আঁখি,
        ওরে শান্তিহারা,
  আঁধার পথে চেয়ে চেয়ে
        কার পেয়েছিস সাড়া।
আরো দেখুন
20
Verses
THE DAY IS dim with rain.
Angry lightnings glance through the tattered cloud-veils.
And the forest is like a caged lion shaking its mane in despair.
On such a day amidst the winds beating their wings, let me find my peace in thy presence,
For the sorrowing sky has shadowed my solitude, to deepen the meaning of thy touch about my heart.
আরো দেখুন
প্রশ্নের অতীত
Verses
হে সমুদ্র, চিরকাল কী তোমার ভাষা
সমুদ্র কহিল, মোর অনন্ত জিজ্ঞাসা।
কিসের স্তব্ধতা তব ওগো গিরিবর?
হিমাদ্রি কহিল, মোর চির-নিরুত্তর।
আরো দেখুন