বিদায় (biday)

তোমরা নিশি যাপন করো,

            এখনো রাত রয়েছে ভাই,

আমায় কিন্তু বিদায় দেহো--

            ঘুমোতে যাই, ঘুমোতে যাই।

মাথার দিব্য, উঠো না কেউ    

            আগ বাড়িয়ে দিতে আমায়--

চলছে যেমন চলুক তেমন,

            হঠাৎ যেন গান না থামায়।

আমার যন্ত্রে একটি তন্ত্রী

            একটু যেন বিকল বাজে,

মনের মধ্যে শুনছি যেটা

            হাতে সেটা আসছে না যে।

 

একেবারে থামার আগে

            সময় রেখে থামতে যে চাই--

আজকে কিছু শ্রান্ত আছি,

            ঘুমোতে যাই, ঘুমোতে যাই।

 

আঁধার-আলোয় সাদায়-কালোয়

            দিনটা ভালোই গেছে কাটি,

তাহার জন্যে কারো সঙ্গে

            নাইকো কোনো ঝগড়াঝাঁটি।

মাঝে মাঝে ভেবেছিলুম

            একটু-আধটু এটা-ওটা

বদল যদি পারত হতে

            থাকত নাকো কোনো খোঁটা।

বদল হলে কখন মনটা

            হয়ে পড়ত ব্যতিব্যস্ত,

এখন যেমন আছে আমার

            সেইটে আবার চেয়ে বসত।

তাই ভেবেছি দিনটা আমার

            ভালোই গেছে কিছু না চাই--

আজকে শুধু শ্রান্ত আছি,

            ঘুমোতে যাই, ঘুমোতে যাই।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

24
Verses
হার-মানা হার পরাব তোমার গলে।
দূরে রব কত আপন বলের ছলে।
            জানি আমি জানি ভেসে যাবে অভিমান,
            নিবিড় ব্যথায় ফাটিয়া পড়িবে প্রাণ,
            শূন্য হিয়ার বাঁশিতে বাজিবে গান,
                     পাষাণ তখন গলিবে নয়নজলে।
শতদল-দল খুলে যাবে থরে থরে
লুকানো রবে না মধু চিরদিনতরে।
            আকাশ জুড়িয়া চাহিবে কাহার আঁখি,
            ঘরের বাহিরে নীরবে লইবে ডাকি,
            কিছুই সেদিন কিছুই রবে না বাকি
                     পরম মরণ লভিব চরণতলে।
আরো দেখুন
পরিচয়
Verses
তখন বর্ষণহীন অপরাহ্নমেঘে
            শঙ্কা ছিল জেগে;
       ক্ষণে ক্ষণে তীক্ষ্ন ভর্ৎসনায়
                 বায়ু হেঁকে যায়;
শূন্য যেন মেঘচ্ছিন্ন রৌদ্ররাগে পিঙ্গল জটায়
       দুর্বাসা হানিছে ক্রোধ রক্তচক্ষু কটাক্ষচ্ছটায়।
সে দুর্যোগ এনেছিনু তোমার বৈকালী,
                 কদম্বের ডালি।
            বাদলের বিষণ্ণ ছায়াতে
                        গীতহারা প্রাতে
নৈরাশ্যজয়ী সে ফুল রেখেছিল কাজল প্রহরে
রৌদ্রের স্বপনছবি রোমাঞ্চিত কেশরে কেশরে।
মন্থর মেঘেরে যবে দিগন্তে ধাওয়ায়
          পুবন হাওয়ায়,
     কাঁদে বন শ্রাবণের রাতে
          প্লাবনের ঘাতে,
তখনো নির্ভীক নীপ গন্ধ দিল পাখির কুলায়ে,
বৃন্ত ছিল ক্লান্তিহীন, তখনো সে পড়ে নি ধুলায়।
     সেই ফুলে দূঢ় প্রত্যাশার
          দিনু উপহার।
সজল সন্ধ্যায় তুমি এনেছিলে সখী,
     একটি কেতকী।
          তখনো হয় নি দীপ জ্বালা,
              ছিলাম নিরালা।
সারি-দেওয়া সুপারির আন্দোলিত সঘন সবুজে
জোনাকি ফিরিতেছিল অবিশ্রান্ত কারে খুঁজে খুঁজে।
দাঁড়াইলে দুয়ারের বাহিরে আসিয়া,
          গোপনে হাসিয়া।
     শুধালেম আমি কৌতূহলী
          "কী এনেছ' বলি।
পাতায় পাতায় বাজে ক্ষণে ক্ষণে বারিবিন্দুপাত,
গন্ধঘন প্রদোষের অন্ধকারে বাড়াইনু হাত।
ঝংকারি উঠিল মোর অঙ্গ আচম্বিতে
          কাঁটার সংগীতে।
     চমকিনু কী তীব্র হরষে
              পরুষ পরশে।
সহজ-সাধন-লব্ধ নহে সে মুগ্ধের নিবেদন,
অন্তরে ঐশ্বর্যরাশি, আচ্ছাদনে কঠোর বেদন।
     নিষেধে নিরুদ্ধ যে সম্মান
          তাই তব দান।
আরো দেখুন
75
Verses
DO NOT CALL him to thy house, the dreamer,
who walks alone by thy path
in the night.
His words are those of a strange land,
and strange is the melody
played by him on his one-stringed lute.
There is no need for thee to spread a seat for him;
he will depart before day-break.
For in the feast of freedom
he is asked to sing
the praise of the new-born light.
আরো দেখুন