১৮ (akhano ghor bhange na tor je)

এখনো ঘোর ভাঙে না তোর যে

           মেলে না তোর আঁখি,

কাঁটার বনে ফুল ফুটেছে রে

           জানিস নে তুই তা কি।

ওরে অলস,   জানিস নে তুই তা কি।

       জাগো এবার জাগো,

       বেলা কাটাস না গো।

 

            কঠিন পথের শেষে

কোথায়     অগম বিজন দেশে

ও সেই       বন্ধু আমার একলা আছে গো,

               দিস নে তারে ফাঁকি।

চিরজীবন    দিস নে তারে ফাঁকি।

     জাগো এবার জাগো,

     বেলা কাটাস না গো।

 

প্রখর রবির তাপে

নাহয়     শুষ্ক গগন কাঁপে,

নাহয়     দগ্ধ বালু তপ্ত আঁচলে

                দিক চারি দিক ঢাকি।

পিপাসাতে   দিক চারি দিক ঢাকি।

 

                মনের মাঝে চাহি

দেখ্‌ রে      আনন্দ কি নাহি।

পথে          পায়ে পায়ে দুখের বাঁশরি

                    বাজবে তোরে ডাকি।

মধুর সুরে        বাজবে তোরে ডাকি।

                    জাগো এবার জাগো,

       বেলা কাটাস না গো।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

কেন মার' সিঁধ-কাটা ধূর্তে
Verses
  কেন মার' সিঁধ-কাটা ধূর্তে।
  কাজ ওর দেয়ালটা খুঁড়তে।
তোমার পকেটটাকে করেছ কি ডোবা হে--
চিরদিন বহমান অর্থের প্রবাহে
  বাধা দেবে অপরের পকেটটি পূরতে?
আর, যত নীতিকথা সে তো ওর চেনা না--
ওর কাছে অর্থনীতিটা নয় জেনানা;
  বন্ধ ধনেরে তাই দেয় সদা ঘুরতে,
  হেথা হতে হোথা তারে চালায় মুহূর্তে।
আরো দেখুন
আকাশপ্রদীপ
Verses
                          গোধূলিতে নামল আঁধার,
                                        ফুরিয়ে গেল বেলা,
                          ঘরের মাঝে সাঙ্গ হল
                                        চেনা মুখের মেলা।
                          দূরে তাকায় লক্ষ্যহারা
                                        নয়ন ছলোছলো,
                          এবার তবে ঘরের প্রদীপ
                                        বাইরে নিয়ে চলো।
                          মিলনরাতে সাক্ষী ছিল যারা
                   আজো জ্বলে আকাশে সেই তারা।
                          পাণ্ডু-আঁধার বিদায়রাতের শেষে
                   যে তাকাত শিশিরসজল শূন্যতা-উদ্দেশে
                          সেই তারকাই তেমনি চেয়েই আছে
                                অস্তলোকের প্রান্তদ্বারের কাছে।
                   অকারণে তাই এ প্রদীপ জ্বালাই আকাশ-পানে--
                          যেখান হতে স্বপ্ন নামে প্রাণে।
আরো দেখুন
সূচনা
Verses
জীবনের বিশেষ পর্বে কোনো বিশেষ প্রকৃতির কাব্য কোন্‌ উত্তেজনায় স্বাতন্ত্র৻ নিয়ে দেখা, এ প্রশ্ন কবিকে জিজ্ঞাসা করলে তাকে বিপন্ন করা হয়। কী করে সে জানবে। প্রাণের প্রবৃদ্ধিতে যে-সব পরিবর্তন ঘটতে থাকে তার ভিতরকার রহস্য সহজে ধরা পড়ে না। গাছের সব ডাল একই দিকে একই রকম করে ছড়ায় না, এ দিকে ও দিকে তারা বেঁকেচুরে পাশ ফেরে, তার বৈজ্ঞানিক কারণ লুকিয়ে আছে আকাশে বাতাসে আলোকে মাটিতে। গাছ যদি-বা চিন্তা করতে পারত তবু সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার এই মন্ত্রণাসভায় সে জায়গা পেত না, তার ভোট থাকত না, সে কেবল স্বীকার করে নেয়-- এই তার স্বভাবসংগত কাজ। বাইরে বসে আছে যে প্রাণবিজ্ঞানী সে বরঞ্চ অনেক খবর দিতে পারে।
কিন্তু বাইরের লোক যদি তাদের পাওনার মূল্য নিয়েই সন্তুষ্ট না থাকে, যদি জিজ্ঞাসা করে মালগুলো কেমন করে কোন্‌ ছাঁচে তৈরি হল, তা হলে কবির মধ্যে যে আত্মসন্ধানের হেড্‌-আপিস আছে সেখানে একবার তাগাদা করে দেখতে হয়। বস্তুত সোনার তরী তার নানা পণ্য নিয়ে কোন্‌ রপ্তানির ঘাট থেকে আমদানির ঘাটে এসে পৌঁছল ইতিপূর্বে কখনো এ প্রশ্ন নিজেকে করি নি, কেননা এর উত্তর দেওয়া আমার কর্তব্যের অঙ্গ নয়। মূলধন যার হাতে সেই মহাজনকে জিজ্ঞাসা করলে সে কথা কয় না, আমি তো মাঝি, হাতের কাছে যা জোটে তাই কুড়িয়ে নিয়ে এসে পৌঁছিয়ে দিই।
আরো দেখুন