আকাশপ্রদীপ (akashprodip)

                          গোধূলিতে নামল আঁধার,

                                        ফুরিয়ে গেল বেলা,

                          ঘরের মাঝে সাঙ্গ হল

                                        চেনা মুখের মেলা।

                          দূরে তাকায় লক্ষ্যহারা

                                        নয়ন ছলোছলো,

                          এবার তবে ঘরের প্রদীপ

                                        বাইরে নিয়ে চলো।

                          মিলনরাতে সাক্ষী ছিল যারা

                   আজো জ্বলে আকাশে সেই তারা।

                          পাণ্ডু-আঁধার বিদায়রাতের শেষে

                   যে তাকাত শিশিরসজল শূন্যতা-উদ্দেশে

                          সেই তারকাই তেমনি চেয়েই আছে

                                অস্তলোকের প্রান্তদ্বারের কাছে।

                   অকারণে তাই এ প্রদীপ জ্বালাই আকাশ-পানে--

                          যেখান হতে স্বপ্ন নামে প্রাণে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বন্দী
Verses
দাও খুলে দাও, সখী, ওই বাহুপাশ।
চুম্বনমদিরা আর করায়ো না পান।
কুসুমের কারাগারে রুদ্ধ এ বাতাস,
ছেড়ে দাও ছেড়ে দাও বদ্ধ এ পরান।
কোথায় উষার আলো, কোথায় আকাশ!
এ চির পূর্ণিমারাত্রি হোক অবসান।
আমারে ঢেকেছে তব মুক্ত কেশপাশ,
তোমার মাঝারে আমি নাহি দেখি ত্রাণ!
আকুল অঙ্গুলিগুলি করি কোলাকুলি
গাঁথিছে সর্বাঙ্গে মোর পরশের ফাঁদ।
ঘুমঘোরে শূন্য-পানে দেখি মুখ তুলি
শুধু অবিশ্রামহাসি একখানি চাঁদ।
স্বাধীন করিয়া দাও, বেঁধো না আমায়--
স্বাধীন হৃদয়খানি দিব তার পায়।
আরো দেখুন
চুয়াল্লিশ
Verses
আমার শেষবেলাকার ঘরখানি
বানিয়ে রেখে যাব মাটিতে,
তার নাম দেব শ্যামলী।
ও যখন পড়বে ভেঙে
সে হবে ঘুমিয়ে পড়ার মতো,
মাটির কোলে মিশবে মাটি;
ভাঙা থামে নালিশ উঁচু করে
বিরোধ করবে না ধরণীর সঙ্গে;
ফাটা দেয়ালের পাঁজর বের ক'রে
তার মধ্যে বাঁধতে দেবে না
মৃতদিনের প্রেতের বাসা।
সেই মাটিতে গাঁথব
আমার শেষ বাড়ির ভিত
যার মধ্যে সব বেদনার বিস্মৃতি,
সব কলঙ্কের মার্জনা,
যাতে সব বিকার সব বিদ্রূপকে
ঢেকে দেয় দূর্বাদলের স্নিগ্ধ সৌজন্যে;
যার মধ্যে শত শত শতাব্দীর
রক্তলোলুপ হিংস্র নির্ঘোষ
গেছে নিঃশব্দ হয়ে।
সেই মাটির ছাদের নিচে বসব আমি
রোজ সকালে শৈশবে যা ভরেছিল
আমার গাঁটবাঁধা চাদরের কোনা
এক-একমুঠো চাঁপা আর বেল ফুলে।
মাঘের শেষে যার আমের বোল
দক্ষিণের হাওয়ায়
অলক্ষ্য দূরের দিকে ছড়িয়েছিল
ব্যথিত যৌবনের আমন্ত্রণ।
আমি ভালোবেসেছি
বাংলাদেশের মেয়েকে;
যে-দেখায় সে আমার চোখ ভুলিয়েছে
তাতে আছে যেন এই মাটির শ্যামল অঞ্জন,
ওর কচি ধানের চিকন আভা।
তাদের কালো চোখের করুণ মাধুরীর উপমা দেখেছি
ঐ মাটির দিগন্তে
নীল বনসীমায় গোধূলির শেষ আলোটির
নিমীলনে।
প্রতিদিন আমার ঘরের সুপ্ত মাটি
সহজে উঠবে জেগে
ভোরবেলাকার সোনার কাঠির
প্রথম ছোঁওয়ায়;
তার চোখ-জুড়ানো শ্যামলিমায়
স্মিত হাসি কোমল হয়ে ছড়িয়ে পড়বে
চৈত্ররাতের চাঁদের
নিদ্রাহারা মিতালিতে।
চিরদিন মাটি আমাকে ডেকেছে
পদ্মার ভাঙনলাগা
খাড়া পাড়ির বনঝাউবনে,
গাঙশালিকের হাজার খোপের বাসায়;
সর্ষে-তিসির দুইরঙা খেতে
গ্রামের সরু বাঁকা পথের ধারে,
পুকুরের পাড়ির উপরে।
আমার দু-চোখ ভ'রে
মাটি আমায় ডাক পাঠিয়েছে
শীতের ঘুঘুডাকা দুপুরবেলায়,
রাঙা পথের ও পারে,
যেখানে শুকনো ঘাসের হলদে মাঠে
চরে বেড়ায় দুটি-চারটি গোরু
নিরুৎসুক আলস্যে,
লেজের ঘায়ে পিঠের মাছি তাড়িয়ে;
যেখানে সাথীবিহীন
তালগাছের মাথায়
সঙ্গ-উদাসীন নিভৃত চিলের বাসা।
আজ আমি তোমার ডাকে
ধরা দিয়েছি শেষবেলায়।
এসেছি তোমার ক্ষমাস্নিগ্ধ বুকের কাছে,
যেখানে একদিন রেখেছিলে অহল্যাকে,
নবদূর্বাশ্যামলের
করুণ পদস্পর্শে
চরম মুক্তি-জাগরণের প্রতীক্ষায়,
নবজীবনের বিস্মিত প্রভাতে।
আরো দেখুন
3
Verses
হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে,
    কন্ঠে বিমলিন মালা।
বিরহবিষে দহি বহি গল রয়নী,
   নহি নহি আওল কালা।
বুঝনু বুঝনু সখি বিফল বিফল সব,
    বিফল এ পীরিতি লেহা --
বিফল রে এ মঝু জীবন যৌবন,
    বিফল রে এ মঝু দেহা!
চল সখি গৃহ চল, মুঞ্চ নয়ন-জল,
    চল সখি চল গৃহকাজে,
   মালতিমালা রাখহ বালা,
   ছি ছি সখি মরু মরু লাজে।
সখি লো দারুণ আধিভরাতুর
    এ তরুণ যৌবন মোর,
সখি লো দারুণ প্রণয়হলাহল
    জীবন করল অঘোর।
তৃষিত প্রাণ মম দিবসযামিনী
    শ্যামক দরশন আশে,
আকুল জীবন থেহ ন মানে,
   অহরহ জ্বলত হুতাশে।
  সজনি, সত্য কহি তোয়,
খোয়াব কব হম শ্যামক প্রেম
    সদা ডর লাগয়ে মোয়।
হিয়ে হিয়ে অব রাখত মাধব,
  সো দিন আসব সখি রে,
বাত ন বোলবে, বদন ন হেরবে,
   মরিব হলাহল ভখি রে।
ঐস বৃথা ভয় না কর বালা,
     ভানু নিবেদয় চরণে,
     সুজনক পীরিতি নৌতুন নিতি নিতি,
    নহি টুটে জীবন-মরণে।
আরো দেখুন