উৎসর্গ (utsorgo)

শ্রীযুক্ত সুধীন্দ্রলাল দত্ত

 

                                কল্যাণীয়েষু

 

বয়সে তোমাকে অনেক দূরে পেরিয়ে এসেছি তবু তোমাদের কালের সঙ্গে আমার যোগ লুপ্তপ্রায় হয়ে এসেছে, এমনতরো অস্বকৃতির সংশয়বাক্য তোমার কাছ থেকে শুনি নি!  তাই, আমার রচনা তোমাদের কালকে স্পর্শ করবে আশা করে এই বই তোমার হাতের কাছে এগিয়ে দিলুম। তুমি আধুনিক সাহিত্যের সাধনক্ষেত্র থেকে একে গ্রহণ করো।

 

তোমাদের

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

18
Verses
I KNOW THAT this life, missing its ripeness in love, is not altogether lost.
I know that the flowers that fade in the dawn, the streams that strayed in the desert, are not altogether lost.
I know that whatever lags behind in this life laden with slowness is not altogether lost.
I know that my dreams that are still unfulfilled, and my melodies still unstruck, are clinging to some lute-strings of thine, and they are not altogether lost.
আরো দেখুন
শনির দশা
Verses
       আধবুড়ো ঐ মানুষটি মোর   নয় চেনা--
       একলা বসে ভাবছে কিংবা    ভাবছে না,
              মুখ দেখে ওর সেই কথাটাই ভাবছি,
              মনে মনে আমি যে ওর মনের মধ্যে নাবছি।
       বুঝিবা ওর মেঝোমেয়ে পাতা ছয়েক ব'কে
       মাথার দিব্যি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ওকে।
              উমারানীর বিষম স্নেহের শাসন,
         জানিয়েছিল, চতুর্থীতে খোকার অন্নপ্রাসন--
              জিদ ধরেছে, হোক-না যেমন ক'রেই
         আসতে হবে শুক্রবার কি শনিবারের ভোরেই।
                   আবেদনের পত্র একটি লিখে
              পাঠিয়েছিল বুড়ো তাদের কর্তাবাবুটিকে।
                   বাবু বললে, "হয় কখনো তা কি,
         মাসকাবারের ঝুড়িঝুড়ি হিসাব লেখা বাকি,
              সাহেব শুনলে আগুন হবে চটে,
                   ছুটি নেবার সময় এ নয় মোটে।'
                মেয়ের দুঃখ ভেবে
         বুড়ো বারেক ভেবেছিল কাজে জবাব দেবে।
         সুবুদ্ধি তার কইল কানে রাগ গেল যেই থামি,
         আসন্ন পেন্‌সনের আশা ছাড়াটা পাগলামি।
         নিজেকে সে বললে, "ওরে, এবার না হয় কিনিস
         ছোটোছেলের মনের মতো একটা-কোনো জিনিস।'
         যেটার কথাই ভেবে দেখে দামের কথায় শেষে
                     বাধায় ঠেকে এসে।
       কেইবা জানবে দামটা যে তার কত,
    বাইরে থেকে ঠিক দেখাবে খাঁটি রুপোর মতো।
    এমনি করে সংশয়ে তার কেবলই মন ঠেলে,
    হাঁ-না নিয়ে ভাব্‌নাস্রোতে জোয়ার-ভাঁটা খেলে।
       রোজ সে দেখে টাইম্‌টেবিলখানা,
    ক'দিন থেকে ইস্‌টিশনে প্রত্যহ দেয় হানা।
       সামনে দিয়ে যায় আসে রোজ মেল,
            গাড়িটা তার প্রত্যহ হয় ফেল।
         চিন্তিত ওর মুখের ভাবটা দেখে
    এমনি একটা ছবি মনে নিয়েছিলেম এঁকে।
                   কৌতূহলে শেষে
    একটুখানি উসখুসিয়ে একটুখানি কেশে,
            শুধাই তারে ব'সে তাহার কাছে,
"কী ভাবতেছেন, বাড়িতে কি মন্দ খবর আছে।"
       বললে বুড়ে, "কিচ্ছুই নয়, মশায়,
            আসল কথা, আছি শনির দশায়।
    তাই ভাবছি কী করা যায় এবার
ঘৌড়দৌড়ে দশটি টাকা বাজি ফেলে দেবার।
    আপনি বলুন, কিনব টিকিট আজ কি।"
         আমি বললেম, "কাজ কী।"
       রাগে বুড়োর গরম হল মাথা;
    বললে, "থামো, ঢের দেখেছি পরামর্শদাতা!
কেনার সময় রইবে না আর আজিকার এই দিন বই!
কিনব আমি, কিনব আমি, যে ক'রে হোক কিনবই।"
আরো দেখুন
6
Verses
ওগো আমার ভোরের চড়ুই পাখি,
একটুখানি আঁধার থাকতে বাকি
ঘুমঘোরের অল্প অবশেষে
শাসির 'পরে ঠোকর মারো এসে,
দেখ কোনো খবর আছে নাকি।
তাহার পরে কেবল মিছিমিছি
যেমন খুশি নাচের সঙ্গে
যেমন খুশি কেবল কিচিমিচি;
নির্ভীক ওই পুচ্ছ
সকল বাধা শাসন করে তুচ্ছ।
যখন প্রাতে দোয়েলরা দেয় শিস
কবির কাছে পায় তার বকশিশ;
সারা প্রহর একটানা এক পঞ্চম সুর সাধি
লুকিয়ে কোকিল করে কী ওস্তাদি--
সকল পাখি ঠেলে
কালিদাসের বাহবা সেই পেলে।
তুমি কেয়ার করো না তার কিছু,
মানো নাকো স্বরগ্রামের কোনো উঁচু নিচু।
কালিদাসের ঘরের মধ্যে ঢুকে
ছন্দভাঙা চেঁচামেচি
বাধাও কী কৌতুকে।
নবরত্নসভায় কবি যখন করে গান
তুমি তারি থামের মাথায় কী কর সন্ধান।
কবিপ্রিয়ার তুমি প্রতিবেশী,
সারা মুখর প্রহর ধ'রে তোমার মেশামেশি।
বসন্তেরই বায়না-করা
নয় তো তোমার নাট্য,
যেমন-তেমন নাচন তোমার--
নাইকো পারিপাট্য।
অরণ্যেরই গাহন-সভায় যাও না সেলাম ঠুকি,
আলোর সঙ্গে  গ্রাম্য ভাষায় আলাপ মুখোমুখি;
কী যে তাহার মানে
নাইকো অভিধানে--
স্পন্দিত ওই বক্ষটুকু তাহার অর্থ জানে।
ডাইনে বাঁয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে কী কর মস্করা,
অকারণে সমস্ত দিন কিসের এত ত্বরা।
মাটির 'পরে টান,
ধুলায় কর স্নান--
এমনি তোমার অযত্নেরই সজ্জা
মলিনতা লাগে না তায়, দেয় না তারে লজ্জা।
বাসা বাঁধো রাজার ঘরের ছাদের কোণে--
লুকোচুরি নাইকো তোমার মনে।
অনিদ্রাতে যখন আমার কাটে দুখের রাত
আশা করি দ্বারে তোমার প্রথম চঞ্চুঘাত।
অভীক তোমার, চটুল তোমার,
সহজ প্রাণের বাণী
দাও আমারে আনি--
সকল জীবের দিনের আলো
আমারে লয় ডাকি,
ওগো আমার ভোরের চড়ুই পাখি।
আরো দেখুন