১০১ (he mor debota)

       হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ

       কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।

             আমার নয়নে তোমার বিশ্বছবি

             দেখিয়া লইতে সাধ যায় তব কবি,

             আমার মুগ্ধ শ্রবণে নীরব রহি

                 শুনিয়া লইতে চাহ আপনার গান।

              হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ

              কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।

 

                আমার চিত্তে তোমার সৃষ্টিখানি

               রচিয়া তুলিছে বিচিত্র এক বাণী।

                 তারি সাথে প্রভু মিলিয়া তোমার প্রীতি

                 জাগায়ে তুলিছে আমার সকল গীতি,

                 আপনারে তুমি দেখিছ মধুর রসে

                    আমার মাঝারে নিজেরে করিয়া দান।

                হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ

                কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

এসো আজি সখা
Verses
এসো আজি সখা বিজন পুলিনে
              বলিব মনের কথা;
মরমের তলে যা-কিছু রয়েছে
              লুকানো মরম-ব্যথা।
সুচারু রজনী, মেঘের আঁচল
              চাপিয়া অধরে হাসিছে শশি,
বিমল জোছনা সলিলে মজিয়া
              আঁধার মুছিয়া ফেলেছে নিশি,
কুসুম কাননে বিনত আননে
       মুচকিয়া হাসে গোলাপবালা,
বিষাদে মলিনা, শরমে নিলীনা,
       সলিলে দুলিছে কমলিনী বধূ
ম্লানরূপে করি সরসী আলা!
       আজি, খুলিয়া ফেলিব প্রাণ
       আজি, গাইব কত গান,
আজি, নীরব নিশীথে,চাঁদের হাসিতে
       মিশাব অফুট তান!
দুই হৃদয়ের যত আছে গান
       এক সাথে আজি গাইব,
দুই হৃদয়ের যত আছে কথা
       দুইজনে আজি কহিব;
কতদিন সখা, এমন নিশীথে
       এমন পুলিনে বসি,
মানসের গীত গাহিয়া গাহিয়া
       কাটাতে পাই নি নিশি!
স্বপনের মতো সেই ছেলেবেলা
       সেইদিন সথা মনে কি হয়?
হৃদয় ছিল গো কবিতা মাখানো
      প্রকৃতি আছিল কবিতাময়,
কী সুখে কাটিত পূরণিমা রাত
      এই নদীতীরে আসি,
[কু]সুমের মালা গাঁথিয়া গাঁথিয়া
      গনিয়া তারকারাশি।
যমুনা সুমুখে যাইত বহিয়া
      সে যে কী সুখের গাইত গান,
ঘুম ঘুম আঁখি আসিত মুদিয়া
      বিভল হইয়া যাইত প্রাণ!
[কত] যে সুখের কল্পনা আহা
      আঁকিতাম মনে মনে
[সা] রাটি জীবন কাটাইব যেন
              ...    
তখন কি সখা জানিতাম মনে
      পৃথিবী কবির নহে
কল্পনা আর যতই প্রবল
      ততই সে দুখ সহে!
এমন পৃথিবী, শোভার আকর
      পাখি হেথা করে গান
কাননে কাননে কুসুম ফুটিয়া
      পরিমল করে দান!
আকাশে হেথায় উঠে গো তারকা
      উঠে সুধাকর, রবি,
বরন বরন জলদ দেখিছে
      নদীজলে মুখছবি,
এমন পৃথিবী এও কারাগার
      কবির মনের কাছে!
যে দিকে নয়ন ফিরাইতে যায়
      সীমায় আটক আছে!
তাই [যে] গো সখা মনে মনে আমি
      গড়েছি একটি বন,
সারাদিন সেথা ফুটে আছে ফুল,
      গাইছে বিহগগণ!
আপনার ভাবে হইয়া পাগল
      রাতদিন সুখে আছি গো সেথা
বিজন কাননে পাখির মতন
      বিজনে গাইয়া মনের ব্যথা!
কতদিন পরে পেয়েছি তোমারে,
      ভুলেছি মরমজ্বালা;
দুজনে মিলিয়া সুখের কাননে
      গাঁথিব কুসুমমালা!
দুজনে মিলিয়া পূরণিমা রাতে
      গাইব সুখের গান
যমুনা পুলিনে করিব দুজনে
      সুখ নিশা অবসান,
আমার এ মন সঁপিয়া তোমারে
      লইব তোমার মন
হৃদয়ের খেলা খেলিয়া খেলিয়া
      কাটাইব সারাক্ষণ!
এইরূপে সখা কবিতার কোলে
      পোহায়ে যাইবে প্রাণ
সুখের স্বপন দেখিয়া দেখিয়া
      গাহিয়া সুখের গান।
আরো দেখুন
হার
Verses
    মোদের        হারের দলে বসিয়ে দিলে,
                     জানি আমরা পারব না।
              হারাও যদি হারব খেলায়,
                     তোমার খেলা ছাড়ব না।
              কেউ-বা ওঠে, কেউ-বা পড়ে,
              কেউ-বা বাঁচে, কেউ-বা মরে,
              আমরা নাহয় মরার পথে
                     করব প্রয়াণ রসাতলে--
              হারের খেলাই খেলব মোরা
                     বসাও যদি হারের দলে।
    আমরা বিনা পণে খেলব না গো,
                     খেলব রাজার ছেলের মতো।
              ফেলব খেলায় ধনরতন
                     যেথায় মোদের আছে যত।
              সর্বনাশা তোমার যে ডাক--
              যায় যদি যাক সকলি যাক,
              শেষ কড়িটি চুকিয়ে দিয়ে
                     খেলা মোদের করব সারা।
              তার পরে কোন্‌ বনের কোণে
                     হারের দলটি হব হারা।
    তবু     এই হারা তো শেষ হারা নয়,
                     আবার খেলা আছে পরে।
              জিতল যে সে জিতল কি না
                     কে বলবে তা সত্য করে।
              হেরে তোমার করব সাধন,
              ক্ষতির ক্ষুরে কাটব বাঁধন,
                    শেষ দানেতে তোমার কাছে
                     বিকিয়ে দেব আপনারে।
              তার পরে কী করবে তুমি
                     সে কথা কেউ ভাবতে পারে।
আরো দেখুন
নিজের হাতে উপার্জনে
Verses
নিজের হাতে উপার্জনে
  সাধনা নেই সহিষ্ণুতার।
পরের কাছে হাত পেতে খাই,
  বাহাদুরি তারি গুঁতার।
কৃপণ দাতার অন্নপাকে
ডাল যদি বা কমতি থাকে
গাল-মিশানো গিলি তো ভাত--
  নাহয় তাতে নেইকো সুতার।
নিজের জুতার পাত্তা না পাই,
  স্বাদ পাওয়া যায় পরের জুতার।
আরো দেখুন