৯৫ (dako dako dako amare)

       ডাকো ডাকো ডাকো আমারে,

       তোমার স্নিগ্ধ শীতল গভীর

                    পবিত্র আঁধারে।

                           তুচ্ছ দিনের ক্লান্তি গ্লানি

                           দিতেছে জীবন ধুলাতে টানি,

                           সারাক্ষণের বাক্যমনের

                                         সহস্র বিকারে।

 

       মুক্ত করো হে মুক্ত করো আমারে,

       তোমার নিবিড় নীরব উদার

                    অনন্ত আঁধারে।

                           নীরব রাত্রে হারাইয়া বাক্‌

                           বাহির আমার বাহিরে মিশাক,

                           দেখা দিক মম অন্তরতম

                                         অখণ্ড আকারে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

143
Verses
WOMAN, WITH the grace of your fingers you touched my things and order came out like music.
আরো দেখুন
সন্ধ্যায়
Verses
          ওগো তুমি, অমনি সন্ধ্যার মতো হও।
সুদূর পশ্চিমাচলে             কনক-আকাশতলে
          অমনি নিস্তব্ধ চেয়ে রও।
অমনি সুন্দর শান্ত              অমনি করুণ কান্ত
          অমনি নীরব উদাসিনী,
ওইমতো ধীরে ধীরে               আমার জীবনতীরে
          বারেক দাঁড়াও একাকিনী।
জগতের পরপারে             নিয়ে যাও আপনারে
          দিবসনিশার প্রান্তদেশে।
থাক্‌ হাস্য-উৎসব,             না আসুক কলরব
          সংসারের জনহীন শেষে।
এস তুমি চুপে চুপে           শ্রান্তিরূপে নিদ্রারূপে,
          এস তুমি নয়ন-আনত।
এস তুমি ম্লান হেসে         দিবাদগ্ধ আয়ুশেষে
          মরণের আশ্বাসের মতো।
আমি শুধু চেয়ে থাকি         অশ্রুহীন শ্রান্ত-আঁখি,
          পড়ে থাকি পৃথিবীর 'পরে--
খুলে দাও কেশভার,              ঘনস্নিগ্ধ অন্ধকার
          মোরে ঢেকে দিক স্তরে স্তরে।
রাখো এ কপালে মম            নিদ্রার আবেশ-সম
          হিমস্নিগ্ধ করতলখানি।
বাক্যহীন স্নেহভরে             অবশ দেহের 'পরে
          অঞ্চলের প্রান্ত দাও টানি।
তার পরে পলে পলে            করুণার অশ্রুজলে
          ভরে যাক নয়নপল্লব।
সেই স্তব্ধ আকুলতা              গভীর বিদায়ব্যথা
          কায়মনে করি অনুভব।
আরো দেখুন
স্রোত
Verses
জগৎ-স্রোতে ভেসে চলো, যে যেথা আছ ভাই!
চলেছে যেথা রবি শশী চল্‌ রে সেথা যাই।
কোথায় চলে কে জানে তা, কোথায় যাবে শেষে,
জগৎ-স্রোত বহে গিয়ে কোন্‌ সাগরে মেশে।
অনাদি কাল চলে স্রোত অসীম আকাশেতে,
উঠেছে মহা কলরব অসীমে যেতে যেতে।
উঠিছে ঢেউ, পড়ে ঢেউ, গনিবে কেবা কত!
ভাসিছে শত গ্রহ তারা, ডুবিছে শত শত।
ঢেউয়ের 'পরে খেলা করে আলোকে আঁধারেতে,
জলের কোলে লুকাচুরি জীবনে মরণেতে--।
শতেক কোটি গ্রহ তারা যে স্রোতে তৃণপ্রায়
সে স্রোত-মাঝে অবহেলে ঢালিয়া দিব কায়,
অসীম কাল ভেসে যাব অসীম আকাশেতে,
জগৎ- কলকলরব শুনিব কান  পেতে।
দেখিব ঢেউ--উঠে ঢেউ, দেখিব মিশে যায়,
জীবন-মাঝে উঠে ঢেউ মরণ-গান গায়।
দেখিব চেয়ে চারি দিকে, দেখিব তুলে মুখ--
কত-না আশা, কত হাসি, কত-না সুখ দুখ,
বিরাগ দ্বেষ ভালোবাসা, কত-না হায়-হায়--
তপন ভাসে, তারা ভাসে, তা'রাও ভেসে যায়।
কত-না যায়, কত চায়, কত-না কাঁদে হাসে--
আমি তো শুধু ভেসে যাব, দেখিব চারি পাশে।
অবোধ ওরে, কেন মিছে করিস "আমি আমি'।
উজানে যেতে পারিবি কি সাগরপথগামী?
জগৎ-পানে যাবি নে রে, আপনা-পানে যাবি--
সে যে রে মহামরুভূমি, কী জানি কী যে পাবি।
মাথায় করে আপনারে, সুখ-দুখের বোঝা,
ভাসিতে চাস প্রতিকূলে-- সে তো রে নহে সোজা ।
অবশ দেহ, ক্ষীণ বল, সঘনে বহে শ্বাস,
লইয়া তোর সুখ-দুখ এখনি পাবি নাশ।
জগৎ হয়ে রব আমি, একেলা রহিব না।
মরিয়া যাব একা হলে একটি জলকণা।
আমার নাহি সুখ দুখ, পরের পানে চাই--
যাহার পানে চেয়ে দেখি তাহাই হয়ে যাই।
তপন ভাসে, তারা ভাসে, আমিও যাই ভেসে--
তাদের গানে আমার গান, যেতেছি এক দেশে।
প্রভাত সাথে গাহি গান, সাঁঝের সাথে গাই,
তারার সাথে উঠি আমি--তারার সাথে যাই।
ফুলের সাথে ফুটি আমি, লতার সাথে নাচি,
বায়ুর সাথে ঘুরি শুধু ফুলের কাছাকাছি।
মায়ের প্রাণে স্নেহ হয়ে শিশুর পানে ধাই,
দুখীর সাথে কাঁদি আমি সুখীর সাথে গাই।
সবার সাথে আছি আমি, আমার সাথে নাই,
জগৎ-স্রোতে দিবানিশি ভাসিয়া চলে যাই।
আরো দেখুন