২০ (ek hate or kripan achhe)

  এক হাতে ওর কৃপাণ আছে

        আর  এক হাতে হার।

     ও যে    ভেঙেছে তোর দ্বার।

  আসে নি ও ভিক্ষা নিতে,

  লড়াই করে নেবে জিতে

        পরানটি তোমার।

     ও যে    ভেঙেছে তোর দ্বার।

মরণেরি পথ দিয়ে ওই

আসছে জীবন-মাঝে,

   ও যে আসছে বীরের সাজে।

আধেক নিয়ে ফিরবে না রে,

যা আছে সব একেবারে

করবে অধিকার।

   ও যে    ভেঙেছে তোর দ্বার।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মুদিত আলোর কমল-কলিকাটিরে
Verses
          মুদিত আলোর কমল-কলিকাটিরে
                রেখেছে সন্ধ্যা আঁধার-পর্ণপুটে
          উতরিবে যবে নব-প্রভাতের তীরে
                তরুণ কমল আপনি উঠিবে ফুটে।
উদয়াচলের সে তীর্থপথে আমি
চলেছি একেলা সন্ধ্যার অনুগামী,
                দিনান্ত মোর দিগন্তে পড়ে লুটে।
            সেই প্রভাতের স্নিগ্ধ সুদূর গন্ধ
                  আঁধার বাহিয়া রহিয়া রহিয়া আসে।
            আকাশে যে গান ঘুমাইছে নিঃস্পন্দ
                  তারাদীপগুলি কাঁপিছে তাহারি শ্বাসে।
  অন্ধকারের বিপুল গভীর আশা,
  অন্ধকারের ধ্যাননিমগ্ন ভাষা
                  বাণী খুঁজে ফিরে আমার চিত্তাকাশে।
            জীবনের পথ দিনের প্রান্তে এসে
                  নিশীথের পানে গহনে হয়েছে হারা।
            অঙ্গুলি তুলি তারাগুলি অনিমেষে
                  মাভৈঃ বলিয়া নীরবে দিতেছে সাড়া।
  ম্লান দিবসের শেষের কুসুম তুলে
  এ কূল হইতে নবজীবনের কূলে
                  চলেছি আমার যাত্রা করিতে সারা।
            হে মোর সন্ধ্যা, যাহা-কিছু ছিল সাথে
                  রাখিনু তোমার অঞ্চলতলে ঢাকি।
            আঁধারের সাথি, তোমার করুণ হাতে
                  বাঁধিয়া দিলাম আমার হাতের রাখি।
  কত যে প্রাতের আশা ও রাতের গীতি,
  কত যে সুখের স্মৃতি ও দুখের প্রীতি--
                  বিদায়বেলায় আজিও রহিল বাকি।
                  যা-কিছু পেয়েছি, যাহা-কিছু গেল চুকে,
                        চলিতে চলিতে পিছে যা রহিল পড়ে,
                  যে মণি দুলিল যে ব্যথা বিঁধিল বুকে,
                        ছায়া হয়ে যাহা মিলায় দিগন্তরে--
  জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা--
  ধুলায় তাদের যত হোক অবহেলা,
                        পূর্ণের পদ-পরশ তাদের 'পরে।
আরো দেখুন
তৃতীয়া
Verses
কাছের থেকে দেয় না ধরা, দূরের থেকে ডাকে
তিন বছরের প্রিয়া আমার-- দুঃখ জানাই কাকে।
কণ্ঠেতে ওর দিয়ে গেছে দখিন-হাওয়ার দান
তিন বসন্তে দোয়েল শ্যামার তিন বছরের গান।
তবু কেন আমারে ওর এতই কৃপণতা--
বারেক ডেকে দৌড়ে পালায়, কইতে না চায় কথা।
তবু ভাবি, যাই কেন হোক অদৃষ্ট মোর ভালো,
অমন সুরে ডাকে আমার মানিক আমার আলো।
কপাল মন্দ হলে টানে আরো নীচের তলায়--
হৃদয়টি ওর হোক না কঠোর, মিষ্টি তো ওর গলায়।
আলো যেমন চমকে বেড়ায় আমলকীর ওই গাছে
তিন বছরের প্রিয়া আমার দূরের থেকে নাচে।
লুকিয়ে কখন বিলিয়ে গেছে বনের হিল্লোল
অঙ্গে উহার বেণুশাখার তিন ফাগুনের দোল।
তবু ক্ষণিক হেলাভরে হৃদয় করি লুট
শেষ না হতেই নাচের পালা কোন্‌খানে দেয় ছুট।
আমি ভাবি এই বা কী কম, প্রাণে তো ঢেউ তোলে--
ওর মনেতে যা হয় তা হোক আমার তো মন দোলে।
হৃদয় নাহয় নাই বা পেলাম মাধুরী পাই নাচে--
ভাবের অভাব রইল নাহয়, ছন্দটা তো আছে।
বন্দী হতে চাই যে কোমল ওই বাহুবন্ধনে,
তিন বছরের প্রিয়ার আমার নাই সে খেয়াল মনে।
সোনার প্রভাত দিয়েছে ওর সর্বদেহ ছুঁয়ে
শিউলি ফুলের তিন শরতের পরশ দিয়ে ধুয়ে।
বুঝতে নারি আমার বেলায় কেন টানাটানি।
ক্ষয় নাহি যার সেই সুধা নয় দিত একটুখানি।
তবু ভাবি বিধি আমায় নিতান্ত নয় বাম,
মাঝে মাঝে দেয় সে দেখা তারি কি কম দাম?
পরশ না পাই, হরষ পাব চোখের চাওয়া চেয়ে--
রূপের ঝোরা বইবে আমার বুকের পাহাড় বেয়ে।
কবি ব'লে লোকসমাজ আছে তো মোর ঠাঁই,
তিন বছরের প্রিয়ার কাছে কবির আদর নাই।
জানে না যে ছন্দে আমার পাতি নাচের ফাঁদ,
দোলার টানে বাঁধন মানে দূর আকাশের চাঁদ।
পলাতকার দল যত-সব দখিন-হাওয়ার চেলা
আপনি তারা বশ মেনে যায় আমার গানের বেলা।
ছোট্টো ওরই হৃদয়খানি দেয় না শুধু ধরা,
ঝগড়ু বোকার বরণমালা গাঁথে স্বয়ম্বরা।
যখন দেখি এমন বুদ্ধি, এমন তাহার রুচি,
আমারে ওর পছন্দ নয় যায় সে লজ্জা ঘুচি।
এমন দিনও আসবে আমার, আছি সে পথ চেয়ে,
তিন বছরের প্রিয়া হবেন বিশ বছরের মেয়ে।
স্বর্গ-ভোলা পারিজাতের গন্ধখানি এসে
খ্যাপা হাওয়ায় বুকের ভিতর ফিরবে ভেসে ভেসে।
কথায় যারে যায় না ধরা এমন আভাস যত
মর্মরিবে বাদল-রাতের রিমিঝিমির মতো।
সৃষ্টিছাড়া ব্যথা যত, নাই যাহাদের বাসা,
ঘুরে ঘুরে গানের সুরে খুঁজবে আপন ভাষা।
দেখবে তখন ঝগড়ু বোকা কী করতে বা পারে,
শেষকালে সেই আসতে হবেই এই কবিটির দ্বারে।
আরো দেখুন
গতি আমার এসে
Verses
গতি আমার এসে
ঠেকে যেথায় শেষে
            অশেষ সেথা খোলে আপন দ্বার।
যেথা আমার গান
হয় গো অবসান
            সেথা গানের নীরব পারাবার।
যেথা আমার আঁখি
আঁধারে যায় ঢাকি
            অলখ-লোকের আলোক সেথা জ্বলে।
বাইরে কুসুম ফুটে
ধুলায় পড়ে টুটে,
            অন্তরে তো অমৃত-ফল ফলে।
কর্ম বৃহৎ হয়ে
চলে যখন বয়ে
           তখন সে পায় বৃহৎ অবকাশ।
যখন আমার আমি
ফুরায়ে যায় থামি
           তখন আমার তোমাতে প্রকাশ।
আরো দেখুন