৭৮ (bishwajora phad petechho)

বিশ্বজোড়া ফাঁদ পেতেছ,

           কেমনে দিই ফাঁকি--

আধেক ধরা পড়েছি গো,

           আধেক আছে বাকি।

কেন জানি আপনা ভুলে

বারেক হৃদয় যায় যে খুলে,

           বারেক তারে ঢাকি--

আধেক ধরা পড়েছি যে,

           আধেক আছে বাকি।

বাহির আমার শুক্তি যেন

           কঠিন আবরণ--

অন্তরে মোর তোমার লাগি

           একটি কান্না-ধন।

হৃদয় বলে তোমার দিকে

রইবে চেয়ে অনিমিখে,

           চায় না কেন আঁখি--

আধেক ধরা পড়েছি যে,

           আধেক আছে বাকি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মাটিতে-আলোতে
Verses
আরবার কোলে এল শরতের
                   শুভ্র দেবশিশু, মরতের
          সবুজ কুটীরে। আরবার বুঝিতেছি মনে--
          বৈকুণ্ঠের সুর যবে বেজে ওঠে মর্তের গগনে
          মাটির বাঁশিতে, চিরন্তন রচে খেলাঘর
                   অনিত্যের প্রাঙ্গণের 'পর,
          তখন সে সম্মিলিত লীলারস তারি
                   ভরে নিই যতটুকু পারি
আমার বাণীর পাত্রে, ছন্দের আনন্দে তারে
          বহে নিই চেতনার শেষ পারে,
বাক্য আর বাক্যহীন
          সত্যে আর স্বপ্নে হয় লীন।
দ্যুলোকে ভূলোকে মিলে শ্যামলে সোনায়
মন্ত্র রেখে দিয়ে গেছে বর্ষে বর্ষে আঁখির কোণায়।
          তাই প্রিয়মুখে
     চক্ষু যে পরশটুকু পায়, তার দুঃখে সুখে
          লাগে সুধা, লাগে সুর;
     তার মাঝে সে রহস্য সুমধুর
          অনুভব করি
     যাহা সুগভীর আছে ভরি
          কচি ধানখেতে--
রিক্ত প্রান্তরের শেষে অরণ্যের নীলিম সংকেতে,
     আমলকীপল্লবের পেলব উল্লাসে,
          মঞ্জরিত কাশে,
          অপরাহ্নকাল
     তুলিয়া গেরুয়াবর্ণ পাল
     পাণ্ডুপীত বালুতট বেয়ে বেয়ে
          যায় ধেয়ে
     তন্বী তরী গতির বিদ্যুতে
     হেলে পড়ে যে রহস্য সে ভঙ্গিটুকুতে,
চটুল দোয়েল পাখি সবুজেতে চমক ঘটায়
          কালো আর সাদার ছটায়
অকস্মাৎ ধায় দ্রুত শিরীষের উচ্চ শাখা-পানে
     চকিত সে ওড়াটিতে যে রহস্য বিজড়িত গানে।
                   হে প্রেয়সী, এ জীবনে
    তোমারে হেরিয়াছিনু যে নয়নে
          সে নহে কেবলমাত্র দেখার ইন্দ্রিয়,
সেখানে জ্বেলেছে দীপ বিশ্বের অন্তরতম প্রিয়।
     আঁখিতারা সুন্দরের পরশমণির মায়া-ভরা,
          দৃষ্টি মোর সে তো সৃষ্টি-করা।
তোমার যে সত্তাখানি প্রকাশিলে মোর বেদনায়
          কিছু জানা কিছু না-জানায়,
     যারে লয়ে আলো আর মাটিতে মিতালি,
          আমার ছন্দের ডালি
     উৎসর্গ করেছি তারে বারে বারে--
          সেই উপহারে
    পেয়েছে আপন অর্ঘ্য ধরণীর সকল সুন্দর।
          আমার অন্তর
     রচিয়াছে নিভৃত কুলায়
          স্বর্গের-সোহাগে-ধন্য পবিত্র ধুলায়।
আরো দেখুন
তন্নষ্টং যন্ন দীয়তে
Verses
গন্ধ চলে যায়, হায়, বন্ধ নাহি থাকে,
ফুল তারে মাথা নাড়ি ফিরে ফিরে ডাকে।
বায়ু বলে, যাহা গেল সেই গন্ধ তব,
যেটুকু না দিবে তারে গন্ধ নাহি কব।
আরো দেখুন
বাদশার মুখখানা
Verses
বাদশার মুখখানা
     গুরুতর গম্ভীর,
       মহিষীর হাসি নাহি ঘুচে;
কহিলা বাদশা-বীর,--
     'যতগুলো দম্ভীর
       দম্ভ মুছিব চেঁচে-পুঁছে।'
উঁচু মাথা হল হেঁট,
খালি হল ভরা পেট,
     শপাশপ্‌ পিঠে পড়ে বেত।
কভু ফাঁসি কভু জেল,
কভু শূল কভু শেল,
     কভু ক্রোক দেয় ভরা খেত।
মহিষী বলেন তবে,--
'দম্ভ যদি না র'বে
     কী দেখে হাসিব তবে, প্রভু।'
বাদশা শুনিয়া কহে,--
'কিছুই যদি না রহে
     হসনীয় আমি র'ব তবু।'
আরো দেখুন