238 (the fruit that)

THE FRUIT that I have gained for ever

is that which thou hast accepted.

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

সুধিয়া
Verses
গয়লা ছিল শিউনন্দন, বিখ্যাত তার নাম,
গোয়ালবাড়ি ছিল যেন একটা গোটা গ্রাম।
গোরু-চরার প্রকাণ্ড খেত, নদীর ওপার চরে,
কলাই শুধু ছিটিয়ে দিত পলি জমির 'পরে।
জেগে উঠত চারা তারই, গজিয়ে উঠত ঘাস,
ধেনুদলের ভোজ চলত মাসের পরে মাস।
মাঠটা জুড়ে বাঁধা হত বিশ-পঞ্চাশ চালা,
জমত রাখাল ছেলেগুলোর মহোৎসবের পালা।
গোপাষ্টমীর পর্বদিনে প্রচুর হত দান,
গুরুঠাকুর গা ডুবিয়ে দুধে করত স্নান।
তার থেকে সর ক্ষীর নবনী তৈরি হত কত,
প্রসাদ পেত গাঁয়ে গাঁয়ে গয়লা ছিল যত।
বছর তিনেক অনাবৃষ্টি, এল মন্বন্তর;
শ্রাবণ মাসে শোণনদীতে বান এল তারপর।
ঘুলিয়ে ঘুলিয়ে পাকিয়ে পাকিয়ে গর্জি ছুটল ধারা,
ধরণী চায় শূন্য-পানে সীমার চিহ্নহারা।
ভেসে চলল গোরু বাছুর, টান লাগল গাছে;
মানুষে আর সাপে মিলে শাখা আঁকড়ে আছে।
বন্যা যখন নেমে গেল বৃষ্টি গেল থামি,
আকাশজুড়ে দৈত্যে-দেবের ঘুচল সে পাগলামি।
শিউনন্দন দাঁড়ালো তার শূন্য ভিটেয় এসে--
তিনটে শিশুর ঠিকানা নেই, স্ত্রী গেছে তার ভেসে।
চুপ করে সে রইল বসে, বুদ্ধি পায় না খুঁজি;
মনে হল, সব কথা তার হারিয়ে গেল বুঝি।
ছেলেটা তার ভীষণ জোয়ান, সামরু বলে তাকে;
  এক-গলা এই জলে-ডোবা সকল পাড়াটাকে
  মথন করে ফিরে ফিরে তিনটে গোরু নিয়ে
  ঘরে এসে দেখলে, দু হাত চোখে ঢাকা দিয়ে
  ইষ্টদেবকে স্মরণ ক'রে নড়ছে বাপের মুখ;
  তাই দেখে ওর একেবারে জ্বলে উঠল বুক--
  বলে উঠল, "দেবতাকে তোর কেন মরিস ডাকি।
  তার দয়াটা বাঁচিয়ে যেটুক আজও রইল বাকি
  ভার নেব তার নিজের 'পরেই, ঘটুক-নাকো যাই আর,
  এর বাড়া তো সর্বনাশের সম্ভাবনা নাই আর।"
  এই বলে সে বাড়ি ছেড়ে পাঁকের পথে ঘুরে
  চিহ্ন-দেওয়া নিজের গোরু অনেক দূরে দূরে
  গোটা পাঁচেক খোঁজ পেয়ে তার আনলে তাদের কেড়ে,
  মাথা ভাঙবে ভয় দেখাতেই সবাই দিল ছেড়ে।
  ব্যাবসাটা ফের শুরু করল নেহাত গরিব চালে,
  আশা রইল উঠবে জেগে আবার কোনোকালে।
  এদিকেতে প্রকাণ্ড এক দেনার অজগরে
  একে একে গ্রাস করছে যা আছে তার ঘরে।
  একটু যদি এগোয় আবার পিছন দিকে ঠেলে,
  দেনা পাওনা দিনরাত্রি জোয়ার-ভাঁটা খেলে।
  মাল তদন্ত করতে এল দুনিয়াচাঁদ বেনে,
  দশবছরের ছেলেটাকে সঙ্গে করে এনে।
  ছেলেটা ওর জেদ ধরেছে-- ঐ সুধিয়া গাই
  পুষবে ঘরে আপন ক'রে ওইটে নেহাত চাই।
সামরু বলে, "তোমার ঘরে কী ধন আছে কত
আমাদের এই সুধিয়াকে কিনে নেবার মতো
ও যে আমার মানিক, আমার সাত রাজার ঐ ধন,
আর যা আমার যায় সবই যাক, দুঃখিত নয় মন।
মৃত্যুপারের থেকে ও যে ফিরেছে মোর কাছে,
এমন বন্ধু তিন ভুবনে আর কি আমার আছে।"
বাপের কানে কী বললে সেই দুনিচাঁদের ছেলে,
জেদ বেড়ে তার গেল বুঝি যেমনি বাধা পেলে।
শেঠজি বলে মাথা নেড়ে, "দুই চারিমাস যেতেই
ঐ সুধিয়ার গতি হবে আমার গোয়ালেতেই।"
কালোয় সাদায় মিশোল বরন, চিকন নধর দেহ,
সর্ব অঙ্গে ব্যাপ্ত যেন রাশীকৃত স্নেহ।
আকাল এখন, সামরু নিজে দুইবেলা আধ-পেটা;
সুধিয়াকে খাওয়ানো চাই যখনি পায় যেটা।
দিনের কাজের অবসানে গোয়ালঘরে ঢুকে
ব'কে যায় সে গাভীর কানে যা আসে তার মুখে।
কারো 'পরে রাগ সে জানায়, কখনো সাবধানে
গোপন খবর থাকলে কিছু জানায় কানে কানে।
সুধিয়া সব দাঁড়িয়ে শোনে কানটা খাড়া ক'রে,
বুঝি কেবল ধ্বনির সুখে মন ওঠে তার ভরে।
সামরু যখন ছোটো ছিল পালোয়ানের পেশা
ইচ্ছা করেছিল নিতে, ঐ ছিল তার নেশা।
খবর পেল, নবাববাড়ি কুস্তিগিরের দল
পাল্লা দেবে-- সামরু শুনে অসহ্য চঞ্চল।
বাপকে ব'লে গেল ছেলে, "কথা দিচ্ছি শোনো,
এক হপ্তার বেশি দেরি হবে না কখ্‌খোনো।"
ফিরে এসে দেখতে পেলে, সুধিয়া তার গাই
শেঠ নিয়েছে ছলে বলে গোয়ালঘরে নাই।
যেমনি শোনা অমনি ছুটল, ভোজালি তার হাতে,
দুনিচাঁদের গদি যেথায় নাজির মহল্লাতে।
"কী রে সামরু, ব্যাপারটা কী" শেঠজি শুধায় তাকে।
সামরু বলে "ফিরিয়ে নিতে এলুম সুধিয়াকে।"
শেঠ বললে, "পাগল নাকি, ফিরিয়ে দেব তোরে,
পরশু ওকে নিয়ে এলুম ডিক্রিজারি করে।"
"সুধিয়া রে" "সুধিয়া রে" সামরু দিল হাঁক,
পাড়ার আকাশ পেরিয়ে গেল বজ্রমন্দ্র ডাক।
চেনা সুরের হাম্বা ধ্বনি কোথায় জেগে উঠে,
দড়ি ছিঁড়ে সুধিয়া ঐ হঠাৎ এল ছুটে।
দু চোখ বেয়ে ঝরছে বারি, অঙ্গটি তার রোগা,
অন্নপানে দেয়নি সে মুখ, অনশনে-ভোগা।
সামরু ধরল জড়িয়ে গলা, বললে, "নাই রে ভয়,
আমি থাকতে দেখব এখন কে তোরে আর লয়।--
তোমার টাকায় দুনিয়া কেনা, শেঠ দুনিচাঁদ, তবু
এই সুধিয়া একলা নিজের, আর কারো নয় কভু।
আপন ইচ্ছামতে যদি তোমার ঘরে থাকে
তবে আমি এই মুহূর্তে রেখে যাব তাকে।"
চোখ পাকিয়ে কয় দুনিচাঁদ, "পশুর আবার ইচ্ছে!
গয়লা তুমি, তোমার কাছে কে উপদেশ নিচ্ছে।
গোল কর তো ডাকব পুলিশ।" সামরু বললে, "ডেকো।
ফাঁসি আমি ভয় করিনে, এইটে মনে রেখো।
দশবছরের জেল খাটব, ফিরব তো তারপর,
সেই কথাটাই ভেবো বসে, আমি চললেম ঘর।"
আরো দেখুন
অমন আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলে
Verses
       অমন        আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলে
                                  চলবে না।
এবার       হৃদয়-মাঝে লুকিয়ে বোসো,
        কেউ       জানবে না, কেউ বলবে না।
                           বিশ্বে তোমার লুকোচুরি,
                           দেশ-বিদেশে কতই ঘুরি,
              এবার       বলো, আমার মনের কোণে
                                  দেবে ধরা, ছলবে না
                     আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলে
                                  চলবে না।
                     জানি আমার কঠিন হৃদয়
                     চরণ রাখার যোগ্য সে নয়,
       সখা,        তোমার হাওয়া লাগলে হিয়ায়
                           তবু কি প্রাণ গলবে না।
                                  নাহয় আমার নাই সাধনা,
                                  ঝরলে তোমার কৃপার কণা
                    তখন        নিমেষে কি ফুটবে না ফুল,
                                         চকিতে ফল ফলবে না।
                     আড়াল দিয়ে লুকিয়ে গেলে
                                  চলবে না।
আরো দেখুন
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
Verses
আজি এ প্রভাতে   প্রভাতবিহগ
কী গান গাইল রে!
অতি দূর দূর        আকাশ হইতে
ভাসিয়া আইল রে!
না জানি কেমনে    পশিল হেথায়
পথহারা তার একটি তান,
আঁধার গুহায় ভ্রমিয়া ভ্রমিয়া
গভীর গুহায় নামিয়া নামিয়া
আকুল হইয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া
ছুঁয়েছে আমার প্রাণ।
আজি এ প্রভাতে   সহসা কেন রে
পথহারা রবিকর
আলয় না পেয়ে     পড়েছে আসিয়ে
আমার প্রাণের 'পর!
বহুদিন পরে         একটি কিরণ
গুহায় দিয়েছে দেখা,
পড়েছে আমার      আঁধার সলিলে
একটি কনকরেখা।
প্রাণের আবেগ রাখিতে নারি
থর থর করি কাঁপিছে বারি,
টলমল জল করে থল থল,
কল কল করি ধরেছে তান।
আজি এ প্রভাতে   কী জানি কেন রে
জাগিয়া উঠেছে প্রাণ।
জাগিয়া দেখিনু, চারিদিকে মোর
পাষাণে রচিত কারাগার ঘোর,
বুকের উপরে       আঁধার বসিয়া
করিছে নিজের ধ্যান।
না জানি কেন রে   এতদিন পরে
জাগিয়া উঠেছে প্রাণ।
জাগিয়া দেখিনু আমি আঁধারে রয়েছি আঁধা,
আপনারি মাঝে আমি আপনি রয়েছি বাঁধা।
রয়েছি মগন হয়ে আপনারি কলস্বরে,
ফিরে আসে প্রতিধ্বনি নিজেরি শ্রবণ-'পরে।
দূর দূর দূর হতে ভেদিয়া আঁধার কারা
মাঝে মাঝে দেখা দেয় একটি সন্ধ্যার তারা।
তারি মুখ দেখে দেখে       আঁধার হাঁসিতে শেখে,
তারি মুখ চেয়ে চেয়ে করে নিশি অবসান।
শিহরি উঠে রে বারি,দোলে রে দোলে রে প্রাণ,
প্রাণের মাঝারে ভাসি        দোলে রে দোলে রে হাসি,
দোলে রে প্রাণের 'পরে আশার স্বপন মম,
দোলে রে তারার ছায়া সুখের আভাস-সম।
মাঝে মাঝে একদিন আকাশেতে নাই আলো,
পড়িয়া মেঘের ছায়া কালো জল হয় কালো।
আঁধার   সলিল 'পরে     ঝর ঝর বারি ঝরে
ঝর ঝর ঝর ঝর,দিবানিশি অবিরল--
বরষার দুখ-কথা,বরষার আঁখিজল।
শুয়ে শুয়ে আনমনে দিবানিশি তাই শুনি
একটি একটি ক'রে দিবানিশি তাই গুনি,
তারি সাথে মিলাইয়া কল কল গান গাই--
ঝর ঝর কল কল--দিন নাই, রাত নাই।
এমনি নিজেরে লয়ে রয়েছি নিজের কাছে,
আঁধার সলিল 'পরে আঁধার জাগিয়া আছে।
এমনি নিজের কাছে খুলেছি নিজের প্রাণ,
এমনি পরের কাছে শুনেছি নিজের গান।
আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের 'পর,
কেমনে পশিল গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে         এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।
জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,
ওরে        উথলি উঠেছে বারি,
ওরে       প্রাণের বাসনা  প্রাণের আবেগ
রুধিয়া রাখিতে নারি।
থর থর করি কাঁপিছে ভূধর,
শিলা রাশি রাশি পড়িছে খসে,
ফুলিয়া ফুলিয়া ফেনিল সলিল
গরজি উঠিছে দারুণ রোষে।
হেথায় হোথায় পাগলের প্রায়
ঘুরিয়া ঘুরিয়া মাতিয়া বেড়ায়,
বাহিরিতে চায়,         দেখিতে না পায়
   কোথায় কারার দ্বার।
প্রভাতেরে যেন লইতে কাড়িয়া
আকাশেরে যেন ফেলিতে ছিঁড়িয়া
উঠে শূন্যপানে--পড়ে আছাড়িয়া
করে শেষে হাহাকার।
প্রাণের উল্লাসে ছুটিতে চায়
ভূধরের হিয়া টুটিতে চায়,
আলিঙ্গন তরে ঊর্ধ্বে বাহু তুলি
আকাশের পানে উঠিতে চায়।
প্রভাতকিরণে পাগল হইয়া
জগৎ-মাঝারে লুটিতে চায়।
কেন রে বিধাতা পাষাণ হেন,
চারিদিকে তার বাঁধন কেন?
ভাঙ্‌ রে হৃদয় ভাঙ্‌ রে বাঁধন,
সাধ্‌ রে আজিকে প্রাণের সাধন,
লহরীর পরে লহরী তুলিয়া
আঘাতের পর আঘাত কর্‌।
মাতিয়া যখন উঠিছে পরান,
কিসের আঁধার, কিসের পাষাণ!
উথলি যখন উঠিছে বাসনা,
জগতে তখন কিসের ডর!
সহসা আজি এ জগতের মুখ
নূতন করিয়া দেখিনু কেন?
একটি পাখির আধখানি তান
জগতের গান গাহিল যেন!
জগৎ দেখিতে হইব বাহির,
আজিকে করেছি মনে,
দেখিব না আর নিজেরি স্বপন
বসিয়া গুহার কোণে।
আমি       ঢালিব করুণাধারা,
আমি       ভাঙিব পাষাণকারা,
আমি       জগৎ প্লাবিয়া বেড়াব গাহিয়া
আকুল পাগল-পারা;
কেশ এলাইয়া, ফুল কুড়াইয়া,
রামধনু-আঁকা পাখা উড়াইয়া,
রবির কিরণে হাসি ছড়াইয়া,
দিব রে পরান ঢালি।
শিখর হইতে শিখরে ছুটিব,
ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব
হেসে খলখল গেয়ে কলকল
তালে  তালে দিব তালি।
তটিনী হইয়া যাইব বহিয়া--
যাইব বহিয়া--যাইব বহিয়া--
হৃদয়ের কথা কহিয়া কহিয়া
গাহিয়া গাহিয়া গান,
যত দেব প্রাণ       বহে যাবে প্রাণ
ফুরাবে না আর প্রাণ।
এত কথা আছে     এত গান আছে
এত প্রাণ আছে মোর,
এত সুখ আছে      এত সাধ আছে
প্রাণ হয়ে আছে ভোর।
এত সুখ কোথা     এত রূপ কোথা
এত খেলা কোথা আছে!
যৌবনের বেগে      বহিয়া যাইব
কে জানে কাহার কাছে!
অগাধ বাসনা        অসীম আশা
জগৎ দেখিতে চাই!
জাগিয়াছে সাধ      চরাচরময়
প্লাবিয়া বহিয়া যাই।
যত প্রাণ আছে ঢালিতে পারি,
যত কাল আছে বহিতে পারি,
যত দেশ আছে ডুবাতে পারি,
তবে আর কিবা চাই!    
পরানের সাধ তাই।
কী জানি কী হল আজি জাগিয়া উঠিল প্রাণ,
দূর হতে শুনি যেন মহাসাগরের গান--
"পাষাণ-বাঁধন টুটি, ভিজায়ে কঠিন ধরা,
বনেরে শ্যামল করি, ফুলেরে ফুটায়ে ত্বরা
সারাপ্রাণ ঢালি দিয়া,
জুড়ায়ে জগৎ-হিয়া--
আমার প্রাণের মাঝে কে আসিবি আয় তোরা!'
আমি যাব, আমি যাব, কোথায় সে, কোন্‌ দেশ--
জগতে ঢালিব প্রাণ,
গাহিব করুণাগান,
উদ্‌বেগ-অধীর হিয়া
সুদূর সমুদ্রে গিয়া
সে প্রাণ মিশাব আর সে গান করিব শেষ।
ওরে, চারিদিকে মোর
এ কী কারাগার ঘোর!
ভাঙ্‌ ভাঙ্‌ ভাঙ্‌ কারা, আঘাতে আঘাত কর্‌!
  ওরে,আজ কী গান গেয়েছে পাখি,
এয়েছে রবির কর!
আরো দেখুন