প্রিয়া (priya)

শত বার ধিক্‌ আজি আমারে, সুন্দরী,

তোমারে হেরিতে চাহি এত ক্ষুদ্র করি।

তোমার মহিমাজ্যোতি তব মূর্তি হতে

আমার অন্তরে পড়ি ছড়ায় জগতে।

যখন তোমার 'পরে পড়ে নি নয়ন

জগৎ-লক্ষ্মীর দেখা পাই নি তখন।

স্বর্গের অঞ্জন তুমি মাখাইলে চোখে,

তুমি মোরে রেখে গেছ অনন্ত এ লোকে।

এ নীল আকাশ এত লাগিত কি ভালো,

যদি না পড়িত মনে তব মুখ-আলো।

অপরূপ মায়াবলে তব হাসি-গান

বিশ্বমাঝে লভিয়াছে শত শত প্রাণ।

তুমি এলে আগে-আগে দীপ লয়ে করে,

তব পাছে পাছে বিশ্ব পশিল অন্তরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

36
Verses
ঈশ্বরের হাস্যমুখ দেখিবারে পাই
যে আলোকে ভাইকে দেখিতে পায় ভাই।
ঈশ্বরপ্রণামে তবে হাতজোড় হয়
যখন ভাইয়ের প্রেমে মিলাই হৃদয়।
আরো দেখুন
পুষ্প
Verses
পুষ্প ছিল বৃক্ষশাখে, হে নারী, তোমার অপেক্ষায়
                    পল্লবচ্ছায়ায়।
          তোমার নিশ্বাস তারে লেগে
          অন্তরে সে উঠিয়াছে জেগে,
                    মুখে তব কী দেখিতে পায়।
সে কহিছে-- "বহু পূর্বে তুমি আমি কবে একসাথে
                    আদিম প্রভাতে
          প্রথম আলোকে জেগে উঠি
          এক ছন্দে বাঁধা রাখী দুটি
                    দুজনে পরিনু হাতে হাতে।
"আধো আলো-অন্ধকারে উড়ে এনু মোরা পাশে পাশে
                    প্রাণের বাতাসে।
          একদিন কবে কোন্‌ মোহে
          দুই পথে চলে গেনু দোঁহে
                    আমাদের মাটির আবাসে।
"বারে বারে বনে বনে জন্ম লই নব নব বেশে
                    নব নব দেশে।
          যুগে যুগে রূপে রূপান্তরে
          ফিরিনু সে কী সন্ধান-তরে
                    সৃজনের নিগূঢ় উদ্দেশে।
"অবশেষে দেখিলাম কত জন্ম-পরে নাহি জানি
                       ওই মুখখানি।
            বুঝিলাম আমি আজও আছি
            প্রথমের সেই কাছাকাছি,
                       তুমি পেলে চরমের বাণী।
"তোমার আমার দেহে আদিছন্দ আছে অনাবিল
                       আমাদের মিল।
            তোমার আমার মর্মতলে
            একটি সে মূল সুর চলে,
                       প্রবাহ তাহার অন্তঃশীল।
"কী যে বলে সেই সুর, কোন্‌ দিকে তাহার প্রত্যাশা,
                       জানি নাই ভাষা।
            আজ, সখী, বুঝিলাম আমি
            সুন্দর আমাতে আছে থামি--
                       তোমাতে সে হল ভালোবাসা।'
আরো দেখুন
রাত্রে ও প্রভাতে
Verses
কালি    মধুযামিনীতে জ্যোৎস্নানিশীথে
               কুঞ্জকাননে সুখে
   ফেনিলোচ্ছল যৌবনসুরা
               ধরেছি তোমার মুখে।
   তুমি    চেয়ে মোর আঁখি-'পরে
   ধীরে    পাত্র লয়েছ করে,
   হেসে    করিয়াছ পান চুম্বনভরা
               সরস বিম্বাধরে,
কালি    মধুযামিনীতে জ্যোৎস্নানিশীথে
               মধুর আবেশভরে।
      তব    অবগুণ্ঠনখানি
   আমি    খুলে ফেলেছিনু টানি,
আমি    কেড়ে রেখেছিনু বক্ষে তোমার
               কমলকোমল পাণি--
ভাবে    নিমীলিত তব যুগল নয়ন,
               মুখে নাহি ছিল বাণী।
   আমি    শিথিল করিয়া পাশ
   খুলে    দিয়েছিনু কেশরাশ,
   তব       আনমিত মুখখানি
   সুখে    থুয়েছিনু বুকে আনি--
তুমি    সকল সোহাগ সয়েছিলে, সখী,
               হাসিমুকুলিত মুখে
কালি    মধুযামিনীতে জ্যোৎস্নানিশীথে
               নবীনমিলনসুখে।
আজি    নির্মলবায় শান্ত উষায়
               নির্জন নদীতীরে
   স্নান-অবসানে শুভ্রবসনা
               চলিয়াছ ধীরে ধীরে।
   তুমি    বাম করে লয়ে সাজি
   কত    তুলিছ পুষ্পরাজি,
দূরে    দেবালয়তলে উষার রাগিণী
               বাঁশিতে উঠিছে বাজি
এই    নির্মলবায় শান্ত উষায়
               জাহ্নবীতীরে আজি।
   দেবী,    তব সিঁথিমূলে লেখা
   নব       অরুণসিঁদুররেখা,
তব    বাম বাহু বেড়ি শঙ্খবলয়
               তরুণ ইন্দুলেখা।
এ কী    মঙ্গলময়ী মুরতি বিকাশি
               প্রভাতে দিয়েছ দেখা।
   রাতে    প্রেয়সীর রূপ ধরি
   তুমি    এসেছ প্রাণেশ্বরী,
   প্রাতে    কখন দেবীর বেশে
   তুমি    সমুখে উদিলে হেসে--
আমি    সম্ভ্রমভরে রয়েছি দাঁড়ায়ে
               দূরে অবনতশিরে
আজি    নির্মলবায় শান্ত উষায়
               নির্জন নদীতীরে।
আরো দেখুন