ধ্যান (dhyan)

যত ভালোবাসি, যত হেরি বড়ো ক'রে

তত, প্রিয়তমে, আমি সত্য হেরি তোরে।

যত অল্প করি তোরে, তত অল্প জানি--

কখনো হারায়ে ফেলি, কভু মনে আনি।

আজি এ বসন্তদিনে বিকশিতমন

হেরিতেছি আমি এক অপূর্ব স্বপন--

যেন এ জগৎ নাহি, কিছু নাহি আর,

যেন শুধু আছে এক মহাপারাবার,

নাহি দিন নাহি রাত্রি নাহি দন্ড পল,

প্রলয়ের জলরাশি স্তব্ধ অচঞ্চল;

যেন তারি মাঝখানে পূর্ণ বিকাশিয়া

একমাত্র পদ্ম তুমি রয়েছ ভাসিয়া;

নিত্যকাল মহাপ্রেমে বসি বিশ্বভূপ

তোমামাঝে হেরিছেন আত্মপ্রতিরূপ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ছায়ালোক
Verses
যেথায় তুমি গুণী জ্ঞানী, যেথায় তুমি মানী,
       যেথায় তুমি তত্ত্ববিদের সেরা,
আমি সেথায় লুকিয়ে যেতে পথ পাব না জানি,
       সেথায় তুমি লোকের ভিড়ে ঘেরা।
সেথায় তোমার বুদ্ধি সদাই জাগে,
চক্ষে তোমার আবেশ নাহি লাগে,
আমার ভীরু হৃদয় ছায়া মাগে,
       তোমার সেথায় আলোক খরতর,
যখন সেথা চাহ আমার বাগে
       সংকোচে প্রাণ কাঁপে থর থর।
মোহভাঙা দৃষ্টি তোমার যখন আঘাত হানে,
       যায় নিখিলের রহস্যদ্বার টুটে,
এক নিমেষে অপরূপের রূপের মধ্যখানে
       অন্ত্র যন্ত্র প্রকাশ পেয়ে উঠে।
বসুন্ধরার শ্যামল প্রাণের ঢাকা
রূঢ় পাথর গোপন ক'রে রাখা,
ভিতরে তার কতই আঁকাবাঁকা
       কতকালের দাহন-ইতিহাসে,
ফাটলধরা কত-যে দাগ আঁকা
       তোমার চোখে বাহির হয়ে আসে।
তেমনি করে যখন কভু আমার পানে চাবে
     মর্মভেদী কৌতূহলের আঁখি,
বিধাতা যা লুকান লাজে দেখতে-যে তাই পাবে
     মোর রচনায় যা আছে তাঁর বাকি।
   আমার মাঝে তোমার অগোচরে
   আদিম যুগের গোপন গভীর স্তরে
   অপূর্ণতা রয়েছে অন্তরে,
     সৃষ্টি আমার অসমাপ্ত আছে,
সামনে এলে মরি-যে সেই ডরে
     ভাঙাচোরা চক্ষে পড়ে পাছে।
তোমার প্রাণে কোনোখানে নাই কি মায়ার ঠাঁই
     মত্ততাহীন তত্ত্বপরপারে,
যেথায় তীক্ষ্ণ চোখের কোনো প্রশ্ন জেগে নাই
     অসতর্ক মুক্ত হৃদয়দ্বারে?
   যেথায় তুমি দৃষ্টিকর্তা নহ,
   সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি লয়ে রহ,
   যেথা নানা বর্ণের সংগ্রহ,
     যেথা নানা মূর্তিতে মন মাতে,
   যেথা তোমার অতৃপ্ত আগ্রহ
     আপনভোলা রসের রচনাতে।
সেথায় আমি যাব যখন চৈত্ররজনীতে
       বনের বাণী হাওয়ায় নিরুদ্দেশা,
চাঁদের আলোয় ঘুম-হারানো পাখির কলগীতে
       পথ-হারানো ফুলের রেণু মেশা।
   দেখবে আমায় স্বপন-দেখা চোখে,
   চমকে উঠে বলবে তুমি, "ও কে,
কোন্‌ দেবতার ছিল মানসলোকে,
              এল আমার গানের ডাকে ডাকা।'
সে রূপ আমার দেখবে ছায়ালোকে
              যে রূপ তোমার পরান দিয়ে আঁকা।
আরো দেখুন
কেন
Verses
     জ্যোতিষীরা বলে,
সবিতার আত্মদান-যজ্ঞের হোমাগ্নিবেদিতলে
     যে জ্যোতি উৎসর্গ হয় মহারুদ্রতপে
         এ বিশ্বের মন্দিরমণ্ডপে,
          অতিতুচ্ছ অংশ তার ঝরে
     পৃথিবীর অতিক্ষুদ্র মৃৎপাত্রের 'পরে।
         অবশিষ্ট অমেয় আলোকধারা
                   পথহারা,
              আদিম দিগন্ত হতে
         অক্লান্ত চলেছে ধেয়ে নিরুদ্দেশ স্রোতে।
     সঙ্গে সঙ্গে ছুটিয়াছে অপার তিমির-তেপান্তরে
     অসংখ্য নক্ষত্র হয়ে রশ্মিপ্লাবী নিরন্ত নির্ঝরে
                   সর্বত্যাগী অপব্যয়,
         আপন সৃষ্টির 'পরে বিধাতার নির্মম অন্যায়।
     কিংবা এ কি মহাকাল কল্পকল্পান্তের দিনে রাতে
     এক হাতে দান ক'রে ফিরে ফিরে নেয় অন্য হাতে।
         সঞ্চয়ে ও অপচয়ে যুগে যুগে কাড়াকাড়ি যেন--
                            কিন্তু, কেন।
     তার পরে চেয়ে দেখি মানুষের চৈতন্যজগতে
     ভেসে চলে সুখদুঃখ কল্পনাভাবনা কত পথে।
         কোথাও বা জ্ব'লে ওঠে জীবন-উৎসাহ,
              কোথাও বা সভ্যতার চিতাবহ্নিদাহ
         নিভে আসে নিঃস্বতার ভস্ম-অবশেষে।
                   নির্ঝর ঝরিছে দেশে দেশে--
     লক্ষ্যহীন প্রাণস্রোতে মৃত্যুর গহ্বরে ঢালে মহী
         বাসনার বেদনার অজস্র বুদ্বুদপুঞ্জ বহি।
                   কে তার হিসাব রাখে লিখি।
                   নিত্য নিত্য এমনি কি
              অফুরান আত্মহত্যা মানবসৃষ্টির
                        নিরন্তর প্রলয়বৃষ্টির
                               অশ্রান্ত প্লাবনে।
                           নিরর্থক হরণে ভরণে
                    মানুষের চিত্ত নিয়ে সারাবেলা
              মহাকাল করিতেছে দ্যূতখেলা
                            বাঁ হাতে দক্ষিণ হাতে যেন--
                                      কিন্তু, কেন।
     প্রথম বয়সে কবে ভাবনার কী আঘাত লেগে
                   এ প্রশ্নই মনে উঠেছিল জেগে--
              শুধায়েছি, এ বিশ্বের কোন্‌ কেন্দ্রস্থলে
                        মিলিতেছে প্রতি দণ্ডে পলে
                   অরণ্যের পর্বতের সমুদ্রের উল্লোল গর্জন,
                            ঝটিকার মন্দ্রস্বন,
                                        দিবসনিশার
         বেদনাবীণার তারে চেতনার মিশ্রিত ঝংকার,
                   পূর্ণ করি ঋতুর উৎসব
              জীবনের মরণের নিত্যকলরব,
                   আলোকের নিঃশব্দ চরণপাত
         নিয়ত স্পন্দিত করি দ্যুলোকের অস্তহীন রাত।
কল্পনায় দেখেছিনু, প্রতিধ্বনিমণ্ডল বিরাজে
         ব্রহ্মাণ্ডের অন্তরকন্দর-মাঝে।
                     সেথা বাঁধে বাসা
         চতুর্দিক হতে আসি জগতের পাখা-মেলা ভাষা।
সেথা হতে পুরানো স্মৃতিরে দীর্ণ করি
            সৃষ্টির আরম্ভবীজ লয় ভরি ভরি
         আপনার পক্ষপুটে ফিরে-চলা যত প্রতিধ্বনি।
                   অনুভব করেছি তখনি,
     বহু যুগযুগান্তের কোন্‌ এক বাণীধারা
                   নক্ষত্রে নক্ষত্রে ঠেকি পথহারা
         সংহত হয়েছে অবশেষে
                   মোর মাঝে এসে।
     প্রশ্ন মনে আসে আরবার,
         আবার কি ছিন্ন হয়ে যাবে সূত্র তার--
                   রূপহারা গতিবেগ প্রেতের জগতে
     চলে যাবে বহু কোটি বৎসরের শূন্য যাত্রাপথে?
                   উজাড় করিয়া দিবে তার
     পান্থের পাথেয়পত্র আপন স্বল্পায়ু বেদনার--
                   ভোজশেষে উচ্ছিষ্টের ভাঙা ভাণ্ড হেন?
                            কিন্তু, কেন।
আরো দেখুন
26
Verses
     কণ্ঠে ভরি নাম নিল,
          গান নিল মীরা--
     কণ্ঠ হতে ফেলে দিল
          মোতিমালা হীরা।
     মুখে বাণী শুনি না যে,
     মনে মনে সুর বাজে,
          বাজে তার শিরা উপশিরা।
     শান্তি তার দেহেমনে,
     শান্তি তার দু নয়নে--
          একতারা সংগীতে অধীরা।
আরো দেখুন