বিদায় (biday)

তোমার আমার মাঝে হাজার বৎসর

নেমে এল, মুহূর্তেই হল যুগান্তর।

        মাথায় ঘোমটা টানি

        যখনি ফিরালে মুখখানি

            কোনো কথা নাহি বলি,

            তখনি অতীতে গেলে চলি--

               যে-অতীতে অসীম বিরহে

                   ছায়াসম রহে

                 বর্তমানে যারা

               হয়েছে প্রেমের পথহারা।

            যে-পারে গিয়েছ হোথা

                   বেশি দূর নহে এখনো তা।

ছোটো নির্ঝরিণী শুধু বহে মাঝখানে,

বিদায়ের পদধ্বনি গাঁথে সে করুণ কলগানে।

              চেয়ে দেখি অনিমিখে

          তুমি চলিয়াছ কোন্‌ শিখরের দিকে;

যেন স্বপ্নে উঠিতেছ ঊর্ধ্ব-পানে,

        যেন তুমি বীণাধ্বনি, শান্ত সুরে তানে

                       চলিয়াছ মেঘলোকে।

                   আজি মোর চোখে

        কাছের মূর্তির চেয়ে দূরের মূর্তিতে তুমি বড়ো

অনেক দিনের মোর সব চিন্তা করিয়াছি জড়ো,

                   সব স্মৃতি,

        অব্যক্ত সকল প্রীতি, ব্যক্ত সব গীতি--

উৎসর্গ করিনু আজি, যাত্রী তুমি, তোমার উদ্দেশে।

            স্পর্শ যদি নাই করো যাক তবে ভেসে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

১৬২
Verses
১৬২
ফুলের লাগি তাকায়ে ছিলি শীতে
     ফলের আশা ওরে!
ফুটিল ফুল ফাগুন-রজনীতে,
     বিফলে গেল ঝরে॥  
আরো দেখুন
সূচনা
Verses
আমার কাব্যের ঋতুপরিবর্তন ঘটেছে বারে বারে। প্রায়ই সেটা ঘটে নিজের অলক্ষ্যে। কালে কালে ফুলের ফসল বদল হয়ে থাকে, তখন মৌমাছির মধু-যোগান নতুন পথ নেয়। ফুল চোখে দেখবার পূর্বেই মৌমাছি ফুলগন্ধের সূক্ষ্ম নির্দেশ পায়, সেটা পায় চারদিকের হাওয়ায়। যারা ভোগ করে এই মধু তারা এই বিশিষ্টতা টের পায় স্বাদে। কোনো কোনো বনের মধু বিগলিত তার মাধুর্যে, তার রঙ হয় রাঙা; কোনো পাহাড়ি মধু দেখি ঘন, আর তাতে রঙের আবেদন নেই, সে শুভ্র; আবার কোনো আরণ্য সঞ্চয়ে একটু তিক্ত স্বাদেরও আভাস থাকে।
কাব্যে এই যে হাওয়াবদল থেকে সৃষ্টিবদল এ তো স্বাভাবিক, এমনি স্বাভাবিক যে এর কাজ হতে থাকে অন্যমনে। কবির এ সম্বন্ধে খেয়াল থাকে না। বাইরে থেকে সমজদারের কাছে এর প্রবণতা ধরা পড়ে। সম্প্রতি সেই সমজদারের সাড়া পেয়েছিলুম। আমার একশ্রেণীর কবিতার এই বিশিষ্টতা আমার স্নেহভাজন বন্ধু অমিয়চন্দ্রের দৃষ্টিতে পড়েছিল। ঠিক কী ভাবে তিনি এদের বিশ্লেষণ করে পৃথক করেছিলেন তা আমি বলতে পারি নে। হয়তো দেখেছিলেন, এরা বসন্তের ফুল নয়; এরা হয়তো প্রৌঢ় ঋতুর ফসল, বাইরে থেকে মন ভোলাবার দিকে এদের ঔদাসীন্য। ভিতরের দিকের মননজাত অভিজ্ঞতা এদের পেয়ে বসেছে। তাই যদি না হবে তা হলে তো ব্যর্থ হবে পরিণত বয়সের প্রেরণা। কিন্তু এ আলোচনা আমার পক্ষে সংগত নয়। আমি তাই নবজাতক গ্রন্থের কাব্যগ্রন্থনের ভার অমিয়চন্দ্রের উপরেই দিয়েছিলুম। নিশ্চিন্ত ছিলুম, কারণ দেশবিদেশের সাহিত্যে ব্যাপকক্ষেত্রে তাঁর সঞ্চরণ।
আরো দেখুন
শেষ মধু
Verses
বসন্তবায় সন্ন্যাসী হায়
                   চৈৎ-ফসলের শূন্য খেতে,
          মৌমাছিদের ডাক দিয়ে যায়
                   বিদায় নিয়ে যেতে যেতে--
                   আয় রে ওরে মৌমাছি, আয়,
                                      চৈত্র যে যায় পত্রঝরা,
                   গাছের তলায় আঁচল বিছায়
                                      ক্লান্তি-অলস বসুন্ধরা।
          সজনে ঝুলায় ফুলের বেণী,
          আমের মুকুল সব ঝরে নি,
          কুঞ্জবনের প্রান্ত-ধারে
                             আকন্দ রয় আসন পেতে।
                             আয় রে তোরা মৌমাছি, আয়,
                                                আসবে কখন শুকনো খরা,
                             প্রেতের নাচন নাচবে তখন
                                                রিক্ত নিশায় শীর্ণ জরা।
শুনি যেন কাননশাখায়
                   বেলাশেষের বাজায় বেণু;
          মাখিয়ে নে আজ পাখায় পাখায়
                   স্মরণভরা গন্ধরেণু।
          কাল যে কুসুম পড়বে ঝরে
          তাদের কাছে নিস গো ভরে
          ওই বছরের শেষের মধু
                   এই বছরের মৌচাকেতে।
                   নূতন দিনের মৌমাছি, আয়,
                               নাই রে দেরি, করিস ত্বরা,
                   শেষের দানে ওই রে সাজায়
                               বিদায়দিনের দানের ভরা।
                   চৈত্রমাসের হাওয়ায় কাঁপা
                               দোলনচাঁপার কুঁড়িখানি
                   প্রলয়দাহের রৌদ্রতাপে
                               বৈশাখে আজ ফুটবে জানি।
                   যা কিছু তার আছে দেবার
                   শেষ করে সব নিবি এবার,
                   যাবার বেলায় যাক চলে যাক
                               বিলিয়ে দেবার নেশায় মেতে।
                               আয় রে ওরে মৌমাছি, আয়,
                                                আয় রে গোপন-মধু-হরা,
                               চরম দেওয়া সঁপিতে চায়
                                                ওই মরণের স্বয়ম্বরা।
আরো দেখুন