লেখন (162)

১৬২

১৬২

ফুলের লাগি তাকায়ে ছিলি শীতে

     ফলের আশা ওরে!

ফুটিল ফুল ফাগুন-রজনীতে,

     বিফলে গেল ঝরে॥  

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

জবাবদিহি
Verses
কবি হয়ে দোল-উৎসবে
          কোন্‌ লাজে কালো সাজে আসি,
এ নিয়ে রসিকা তোরা সবে
          করেছিলি খুব হাসাহাসি।
চৈত্রের দোল-প্রাঙ্গণে
          আমার জবাবদিহি চাই
এ দাবি তোদের ছিল মনে,
          কাজ ফেলে আসিয়াছি তাই।
দোলের দিনে, সে কী মনের ভুলে,
          পরেছিলাম যখন কালো কাপড়,
দখিন হাওয়া দুয়ারখানা খুলে
          হঠাৎ পিঠে দিল হাসির চাপড়।
সকল বেলা বেড়াই খুঁজি খুঁজি
          কোথা সে মোর গেল রঙের ডালা,
কালো এসে আজ লাগালো বুঝি
          শেষ প্রহরে রঙহরণের পালা।
ওরে কবি, ভয় কিছু নেই তোর--
          কালো রঙ যে সকল রঙের চোর।
জানি যে ওর বক্ষে রাখে তুলি
          হারিয়ে-যাওয়া পূর্ণিমা ফাল্গুনী--
অস্তরবির রঙের কালো ঝুলি,
          রসের শাস্ত্রে এই কথা কয় শুনি।
অন্ধকারে অজানা-সন্ধানে
          অচিন লোকে সীমাবিহীন রাতে
রঙের তৃষা বহন করি প্রাণে
          চলব যখন তারার ইশারাতে,
হয়তো তখন শেষ-বয়সের কালো
          করবে বাহির আপন গ্রন্থি খুলি
যৌবনদীপ--জাগাবে তার আলো
          ঘুমভাঙা সব রাঙা প্রহরগুলি।
কালো তখন রঙের দীপালিতে
          সুর লাগাবে বিস্মৃত সংগীতে।
আরো দেখুন
শেষ মধু
Verses
বসন্তবায় সন্ন্যাসী হায়
                   চৈৎ-ফসলের শূন্য খেতে,
          মৌমাছিদের ডাক দিয়ে যায়
                   বিদায় নিয়ে যেতে যেতে--
                   আয় রে ওরে মৌমাছি, আয়,
                                      চৈত্র যে যায় পত্রঝরা,
                   গাছের তলায় আঁচল বিছায়
                                      ক্লান্তি-অলস বসুন্ধরা।
          সজনে ঝুলায় ফুলের বেণী,
          আমের মুকুল সব ঝরে নি,
          কুঞ্জবনের প্রান্ত-ধারে
                             আকন্দ রয় আসন পেতে।
                             আয় রে তোরা মৌমাছি, আয়,
                                                আসবে কখন শুকনো খরা,
                             প্রেতের নাচন নাচবে তখন
                                                রিক্ত নিশায় শীর্ণ জরা।
শুনি যেন কাননশাখায়
                   বেলাশেষের বাজায় বেণু;
          মাখিয়ে নে আজ পাখায় পাখায়
                   স্মরণভরা গন্ধরেণু।
          কাল যে কুসুম পড়বে ঝরে
          তাদের কাছে নিস গো ভরে
          ওই বছরের শেষের মধু
                   এই বছরের মৌচাকেতে।
                   নূতন দিনের মৌমাছি, আয়,
                               নাই রে দেরি, করিস ত্বরা,
                   শেষের দানে ওই রে সাজায়
                               বিদায়দিনের দানের ভরা।
                   চৈত্রমাসের হাওয়ায় কাঁপা
                               দোলনচাঁপার কুঁড়িখানি
                   প্রলয়দাহের রৌদ্রতাপে
                               বৈশাখে আজ ফুটবে জানি।
                   যা কিছু তার আছে দেবার
                   শেষ করে সব নিবি এবার,
                   যাবার বেলায় যাক চলে যাক
                               বিলিয়ে দেবার নেশায় মেতে।
                               আয় রে ওরে মৌমাছি, আয়,
                                                আয় রে গোপন-মধু-হরা,
                               চরম দেওয়া সঁপিতে চায়
                                                ওই মরণের স্বয়ম্বরা।
আরো দেখুন
নারীর উক্তি
Verses
      মিছে তর্ক-- থাক্‌ তবে থাক্‌।
                   কেন কাঁদি বুঝিতে পার না?
        তর্কেতে বুঝিবে তা কি?          এই মুছিলাম আঁখি--
              এ শুধু চোখের জল, এ নহে ভর্ৎসনা।
              আমি কি চেয়েছি পায়ে ধরে
                   ওই তব আঁখি-তুলে চাওয়া,
        ওই কথা, ওই হাসি,           ওই কাছে আসা-আসি,
              অলক দুলায়ে দিয়ে হেসে চলে যাওয়া?
              কেন আন বসন্তনিশীথে
                   আঁখিভরা আবেশ বিহ্বল
        যদি বসন্তের শেষে                 শ্রান্তমনে ম্লান হেসে
              কাতরে খুঁজিতে হয় বিদায়ের ছল?
              আছি যেন সোনার খাঁচায়
                   একখানি পোষ-মানা প্রাণ।
        এও কি বুঝাতে হয়                প্রেম যদি নাহি রয়
              হাসিয়ে সোহাগ করা শুধু অপমান?
              মনে আছে সেই এক দিন
                   প্রথম প্রণয় সে তখন।
        বিমল শরৎকাল,                     শুভ্র ক্ষীণ মেঘজাল,
              মৃদু শীতবায়ে স্নিগ্ধ রবির কিরণ।
              কাননে ফুটিত শেফালিকা,
                   ফুলে ছেয়ে যেত তরুমূল।
        পরিপূর্ণ সুরধুনী,                  কুলুকুলু ধ্বনি শুনি,
              পরপারে বনশ্রেণী কুয়াশা-আকুল।
আমা-পানে চাহিয়ে, তোমার
                   আঁখিতে কাঁপিত প্রাণখানি।
        আনন্দে বিষাদে মেশা              সেই নয়নের নেশা
              তুমি তো জান না তাহা, আমি তাহা জানি।
              সে কি মনে পড়িবে তোমার--
                   সহস্র লোকের মাঝখানে
        যেমনি দেখিতে মোরে           কোন্‌ আকর্ষণডোরে
              আপনি আসিতে কাছে জ্ঞানে কি অজ্ঞানে।
              ক্ষণিক বিরহ-অবসানে
                   নিবিড় মিলন-ব্যাকুলতা।
        মাঝে মাঝে সব ফেলি           রহিতে নয়ন মেলি,
              আঁখিতে শুনিতে যেন হৃদয়ের কথা।
              কোনো কথা না রহিলে তবু
                   শুধাইতে নিকটে আসিয়া।
        নীরবে চরণ ফেলে             চুপিচুপি কাছে এলে
              কেমনে জানিতে পেতে, ফিরিতে হাসিয়া।
              আজ তুমি দেখেও দেখ না,
                   সব কথা শুনিতে না পাও।
        কাছে আস আশা ক'রে        আছি সারাদিন ধরে,
              আনমনে পাশ দিয়ে তুমি চলে যাও।
              দীপ জ্বেলে দীর্ঘ ছায়া লয়ে
                   বসে আছি সন্ধ্যায় ক'জনা--
        হয়তো বা কাছে এস,           হয়তো বা দূরে বস,
              সে সকলি ইচ্ছাহীন দৈবের ঘটনা।
এখন হয়েছে বহু কাজ,
                   সতত রয়েছ অন্যমনে।
        সর্বত্র ছিলাম আমি--              এখন এসেছি নামি
                 হৃদয়ের প্রান্তদেশে, ক্ষুদ্র গৃহকোণে।
                 দিয়েছিলে হৃদয় যখন
                        পেয়েছিলে প্রাণমন দেহ--
        আজ সে হৃদয় নাই,                 যতই সোহাগ পাই
                 শুধু তাই অবিশ্বাস বিষাদ সন্দেহ।
                 জীবনের বসন্তে যাহারে
                        ভালোবেসেছিলে একদিন,
        হায় হায় কী কুগ্রহ,           আজ তারে অনুগ্রহ--
                 মিষ্ট কথা দিবে তারে গুটি দুই-তিন।
                 অপবিত্র ও করপরশ
                        সঙ্গে ওর হৃদয় নহিলে।
        মনে কি করেছ বঁধু,                 ও হাসি এতই মধু
                 প্রেম না দিলেও চলে, শুধু হাসি দিলে।
                 তুমিই তো দেখালে আমায়
                       ( স্বপ্নেও ছিল না এত আশা )
        প্রেমে দেয় কতখানি           কোন্‌ হাসি কোন্‌ বাণী,
                 হৃদয় বাসিতে পারে কত ভালোবাসা।
                 তোমারি সে ভালোবাসা দিয়ে
                      বুঝেছি আজি এ ভালোবাসা--
        আজি এই দৃষ্টি হাসি,          এ আদর রাশি রাশি,
                এই দূরে চলে-যাওয়া, এই কাছে আসা।
বুক ফেটে কেন অশ্রু পড়ে
                      তবুও কি বুঝিতে পার না?
        তর্কেতে বুঝিবে তা কি?          এই মুছিলাম আঁখি--
                 এ শুধু চোখের জল, এ নহে ভর্ৎসনা।
আরো দেখুন