২৬ (ebare phalguner dine)

এবারে ফাল্গুনের দিনে সিন্ধুতীরের কুঞ্জবীথিকায়

          এই যে আমার জীবন-লতিকায়

ফুটল কেবল শিউরে-ওঠা নতুন পাতা যত

              রক্তবরন হৃদয়ব্যথার মতো;

দখিন হাওয়া ক্ষণে ক্ষণে দিল কেবল দোল,

              উঠল কেবল মর্মর কল্লোল।

          এবার শুধু গানের মৃদু গুঞ্জনে

বেলা আমার ফুরিয়ে গেল কুঞ্জবনের প্রাঙ্গণে।

 

আবার যেদিন আসবে আমার রূপের আগুন ফাল্গুনদিনের কাল

          দখিন হাওয়ায় উড়িয়ে রঙিন পাল,

     সেবারে এই সিন্ধুতীরের কুঞ্জবীথিকায়

              যেন আমার জীবন-লতিকায়

                      ফোটে প্রেমের সোনার বরন ফুল

                            হয় যেন আকুল

              নবীন রবির আলোকটি তাই বনের প্রাঙ্গণে

                       আনন্দ মোর জনম নিয়ে

                            তালি দিয়ে তালি দিয়ে

                       নাচে যেন গানের গুঞ্জনে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

শেষ চুম্বন
Verses
দূর স্বর্গে বাজে যেন নীরব ভৈরবী।
ঊষার করুণ চাঁদ শীর্ণমুখচ্ছবি।
ম্লান হয়ে এল তারা; পূর্বদিগ্‌বধূর
কপোল শিশিরসিক্ত, পান্ডুর, বিধুর।
ধীরে ধীরে নিবে গেল শেষ দীপশিখা,
খসে গেল যামিনীর স্বপ্নযবনিকা।
প্রবেশিল বাতায়নে পরিতাপসম
রক্তরশ্মি প্রভাতের আঘাত নির্মম।
সেইক্ষণে গৃহদ্বারে সত্বর সঘন
আমাদের সর্বশেষ বিদায়-চুম্বন।
মুহূর্তে উঠিল বাজি চারি দিক হতে
কর্মের ঘর্ঘরমন্দ্র সংসারের পথে।
মহারবে সিংহদ্বার খুলে বিশ্বপুরে--
অশ্রুজল মুছে ফেলি চলি গেনু দূরে।
আরো দেখুন
171
Verses
LEAVES ARE silences'
around flowers which are their words.
আরো দেখুন
বাপী
Verses
একদা বিজনে যুগল তরুর মূলে
তৃষ্ণার জল তুমি দিয়েছিলে তুলে।
     আর কোনোখানে ছায়া নাহি দেখি,
     শুধালেম, কাছে বসিতে দিবে কি।
সেদিন তোমার ঘরে ফিরিবার বেলা
বহে গেল বুঝি, কাজে হয়ে গেল হেলা।
অদূরে হোথায় ভাঙা দেউলের ধারে
পূর্ব যুগের পূজাহীন দেবতারে
     প্রভাত-অরুণ প্রতিদিন খোঁজে,
     শূন্য বেদির অর্থ না বোঝে,
দিন শেষ হলে সন্ধ্যাতারার আলো
যে পূজারী নাই তারে বলে, দীপ জ্বালো।
একদিন বুঝি দূরে কোন্‌ রাজধানী
রচনা করেছে দীর্ঘ এ পথখানি।
     আজি তার নাম নাই ইতিহাসে;
     জীর্ণ হয়েছে বালুকার গ্রাসে,
প্রান্তরশেষে শীর্ণ বনের কোলে
জনপদবধূ জল নিয়ে যায় চলে।
লুপ্তকালের শুষ্ক সাগরধারে
বহু বিস্মৃতি যেথা রয় স্তূপাকারে,
     অতি পুরাতন কাহিনী যেথায়
     রুদ্ধ কণ্ঠে শূন্যে তাকায়,
হারানো ভাষার নিশার স্বপ্নছায়ে
হেরিনু তোমায়, আসিনু ক্লান্ত পায়ে।
শুধু দুটি তরু মরুর প্রাণের কথা,
লুকানো কী রসে বাঁচে তার শ্যামলতা।
     সেদিন তাহারি মর্মর-সনে
     কী ব্যথা মিশানু, জানে দুইজনে;
মাথার উপরে উড়ে গেল কোন্‌ পাখি
হতাশ পাখার হাহাকাররেখা আঁকি।
তপ্ত বালুর ভর্ৎসিয়া মুহু মুহু
তাপিত বাতাস চিৎকারি উঠে হুহু;
     ধূলির ঘূর্ণি, যেন বেঁকে বেঁকে
     শাপ-লাগা প্রেত নাচে থেকে থেকে;
রূঢ় রুদ্র রিক্তের মাঝখানে
দুইটি প্রহর ভরেছিনু প্রাণে গানে।
দিন শেষ হল, চলে যেতে হল একা,
বলিনু তোমারে, আরবার হবে দেখা।
     শুনে হেসেছিলে হাসিখানি ম্লান,
     তরুণ হৃদয়ে যেন তুমি জান
অসীমের বুকে অনাদি বিষাদখানি
আছে সারাখন মুখে আবরণ টানি।
তার পরে কত দিন চলে গেল মিছে
একটি দিনেরে দলিয়া পায়ের নীচে।
বহু পরে যবে ফিরিলাম প্রিয়ে,
     এ পথে আসিতে দেখি চমকিয়ে
আছে সেই কূপ, আছে সে যুগলতরু।
তুমি নাই, আছে তৃষিত স্মৃতির মরু।
এ কূপের তলে মোর যক্ষের ধন
একটি দিনের দুর্লভ সেইখন
     চিরকাল ভরি রহিল লুকানো,
     ওগো অগোচরা জান নাহি জান;
আর কোনো দিনে অন্য যুগের প্রিয়া
তারে আর-কারে দিবে কি উদ্ধারিয়া।
আরো দেখুন