১৩ (aaj mone hay sakaleri maajhe)

              আজ মনে হয় সকলেরই মাঝে

                      তোমারেই ভালোবেসেছি।

              জনতা বাহিয়া চিরদিন ধরে

                  শুধু তুমি আমি এসেছি।

                  দেখি চারি দিক-পানে

                  কী যে জেগে ওঠে প্রাণে--

              তোমার আমার অসীম মিলন

                  যেন গো সকল খানে।

              কত যুগ এই আকাশে যাপিনু

                  সে কথা অনেক ভুলেছি।

              তারায় তারায় যে আলো কাঁপিছে

                  সে আলোকে দোঁহে দুলেছি।

 

              তৃণরোমাঞ্চ ধরণীর পানে

                  আশ্বিনে নব আলোকে

              চেয়ে দেখি যবে আপনার মনে

                  প্রাণ ভরি উঠে পুলকে।

                  মনে হয় যেন জানি

                  এই অকথিত বাণী,

মূক মেদিনীর মর্মের মাঝে

          জাগিছে সে ভাবখানি।

এই প্রাণে-ভরা মাটির ভিতরে

          কত যুগ মোরা যেপেছি,

কত শরতের সোনার আলোকে

          কত তৃণে দোঁহে কেঁপেছি।

 

প্রাচীন কালের পড়ি ইতিহাস

          সুখের দুখের কাহিনী--

পরিচিতসম বেজে ওঠে সেই

          অতীতের যত রাগিণী।

          পুরাতন সেই গীতি

          সে যেন আমার স্মৃতি,

          কোন্‌ ভাণ্ডারে সঞ্চয় তার

          গোপনে রয়েছে নিতি।

প্রাণে তাহা কত মুদিয়া রয়েছে

          কত বা উঠিছে মেলিয়া--

পিতামহদের জীবনে আমরা

          দুজনে এসেছি খেলিয়া।

 

লক্ষ বরষ আগে যে প্রভাত

          উঠেছিল এই ভুবনে

তাহার অরুণকিরণকণিকা

          গাঁথ নি কি মোর জীবনে?

          সে প্রভাতে কোন্‌খানে

          জেগেছিনু কেবা জানে।

কী মুরতি-মাঝে ফুটালে আমারে

          সেদিন লুকায়ে প্রাণে!

হে চির-পুরানো,চিরকাল মোরে

          গড়িছ নূতন করিয়া।

চিরদিন তুমি সাথে ছিলে মোর,

          রবে চিরদিন ধরিয়া।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

১৬৪
Verses
১৬৪
বহ্নি যবে বাঁধা থাকে তরুর মর্মের মাঝখানে
       ফলে ফুলে পল্লবে বিরাজে।
যখন উদ্দাম শিখা লজ্জাহীনা বন্ধন না মানে
       মরে যায় ব্যর্থ ভস্মমাঝে॥  
আরো দেখুন
প্রেমে প্রাণে গানে গন্ধে
Verses
প্রেমে প্রাণে গানে গন্ধে আলোকে পুলকে
প্লাবিত করিয়া নিখিল দ্যুলোক-ভূলোকে
              তোমার অমল অমৃত পড়িছে ঝরিয়া।
                     দিকে দিকে আজি টুটিয়া সকল বন্ধ
                     মুরতি ধরিয়া জাগিয়া ওঠে আনন্দ;
                           জীবন উঠিল নিবিড় সুধায় ভরিয়া।
চেতনা আমার কল্যাণ-রস-সরসে
শতদল-সম ফুটিল পরম হরষে
              সব মধু তার চরণে তোমার ধরিয়া।
                     নীরব আলোকে জাগিল হৃদয়প্রান্তে
                     উদার উষার উদয়-অরুণ কান্তি,
                           অলস আঁখির আবরণ গেল সরিয়া।
আরো দেখুন
6
Verses
তুমি কি কেবল ছবি শুধু পটে লিখা।
     ওই যে সুদূর নীহারিকা
       যারা করে আছে ভিড়
          আকাশের নীড়;
     ওই যে যারা দিনরাত্রি
অলো-হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী
          গ্রহ তারা রবি
তুমি কি তাদেরি মতো সত্য নও।
     হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি।
চিরচঞ্চলের মাঝে তুমি কেন শান্ত হয়ে রও।
          পথিকের সঙ্গ লও
     ওগো পথহীন।
          কেন রাত্রিদিন
সকলের মাঝে থেকে সবা হতে আছ এত দূরে
     স্থিরতার চির অন্তঃপুরে।
          এই ধূলি
     ধূসর অঞ্চল তুলি
         বায়ুভরে ধায় দিকে দিকে;
বৈশাখে সে বিধবার আভরণ খুলি
     তপস্বিনী ধরণীরে সাজায় গৈরিকে;
         অঙ্গে তার পত্রলিখা দেয় লিখে
          বসন্তের মিলন-উষায়,
         এই ধূলি এও সত্য হায়;
             এই তৃণ
         বিশ্বের চরণতলে লীন
এরা যে অস্থির, তাই এরা সত্য সবি--
          তুমি স্থির, তুমি ছবি,
              তুমি শুধু ছবি।
একদিন এই পথে চলেছিলে আমাদের পাশে।
     বক্ষ তব দুলিত নিশ্বাসে;
          অঙ্গে অঙ্গে প্রাণ তব
          কত গানে কত নাচে
             রচিয়াছে
          আপনার ছন্দ নব নব
       বিশ্বতালে রেখে তাল;
     সে যে আজ হল কত কাল।
          এ জীবনে
         আমার ভুবনে
          কত সত্য ছিলে।
         মোর চক্ষে এ নিখিলে
       দিকে দিকে তুমিই লিখিলে
     রূপের তুলিকা ধরি রসের মুরতি।
সে-প্রভাতে তুমিই তো ছিলে
     এ-বিশ্বের বাণী মূর্তিমতী।
একসাথে পথে যেতে যেতে
    রজনীর আড়ালেতে
     তুমি গেলে থামি।
    তার পরে আমি
     কত দুঃখে সুখে
    রাত্রিদিন চলেছি সম্মুখে।
চলেছে জোয়ার-ভাঁটা আলোকে আঁধারে
     আকাশ-পাথারে;
          পথের দুধারে
     চলেছে ফুলের দল নীরব চরণে
          বরনে বরনে;
সহস্রধারায় ছোটে দুরন্ত জীবন-নির্ঝরিণী
     মরণের বাজায়ে কিঙ্কিণী।
          অজানার সুরে
     চলিয়াছি দূর হতে দূরে--
          মেতেছি পথের প্রেমে।
          তুমি পথ হতে নেমে
              যেখানে দাঁড়ালে
                     সেখানেই আছ থেমে।
এই তৃণ, এই ধূলি-- ওই তারা, ওই শশী-রবি
                   সবার আড়ালে
          তুমি ছবি, তুমি শুধু ছবি।
          কী প্রলাপ কহে কবি।
              তুমি ছবি?
নহে নহে, নও শুধু ছবি।
     কে বলে রয়েছ স্থির রেখার বন্ধনে
          নিস্তব্ধ ক্রন্দনে।
     মরি মরি, সে আনন্দ থেমে যেত যদি
              এই নদী
          হারাত তরঙ্গবেগ,
              এই মেঘ
     মুছিয়া ফেলিত তার সোনার লিখন।
          তোমার চিকন
চিকুরের ছায়াখানি বিশ্ব হতে যদি মিলাইত
              তবে
            একদিন কবে
          চঞ্চল পবনে লীলায়িত
      মর্মর-মুখর ছায়া মাধবী-বনের
             হত স্বপনের।
     তোমায় কি গিয়েছিনু ভুলে।
তুমি যে নিয়েছ বাসা জীবনের মূলে
              তাই ভুল।
অন্যমনে চলি পথে, ভুলি নে কি ফুল।
          ভুলি নে কি তারা।
              তবুও তাহারা
          প্রাণের নিশ্বাসবায়ু করে সুমধুর,
     ভুলের শূন্যতা-মাঝে ভরি দেয় সুর।
          ভুলে থাকা নয় সে তো ভোলা;
বিস্মৃতির মর্মে বসি রক্তে মোর দিয়েছ যে দোলা।
          নয়নসম্মুখে তুমি নাই,
     নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই;
              আজি তাই
     শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল।
              আমার নিখিল
     তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল।
          নাহি জানি, কেহ নাহি জানে
          তব সুর বাজে মোর গানে;
              কবির অন্তরে তুমি কবি,
     নও ছবি, নও ছবি, নও শুধু ছবি।
     তোমারে পেয়েছি কোন্‌ প্রাতে,
          তার পরে হারায়েছি রাতে।
   তার পরে অন্ধকারে অগোচরে তোমারেই লভি।
          নও ছবি, নও তুমি ছবি।
আরো দেখুন