Stray Birds (THE NIGHT opens the flowers in secret)

157

THE NIGHT opens the flowers in secret and allows the day to get thanks.

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

শ্যামলা
Verses
         যে-ধরণী ভালোবাসিয়াছি
তোমারে দেখিয়া ভাবি তুমি তারি আছ কাছাকাছি।
           হৃদয়ের বিস্তীর্ণ আকাশে
                 উন্মুক্ত বাতাসে
                       চিত্ত তব স্নিগ্ধ সুগভীর।
                     হে শ্যামলা, তুমি ধীর,
                  সেবা তব সহজ সুন্দর,
           কর্মেরে বেষ্টিয়া তব আত্মসমাহিত অবসর।
                মাটির অন্তরে
                      স্তরে স্তরে
                   রবিরশ্মি নামে পথ করি,
               তারি পরিচয় ফুটে দিবসশর্বরী
                   তরুলতিকায় ঘাসে,
                       জীবনের বিচিত্র বিকাশে।
           তেমনি প্রচ্ছন্ন তেজ চিত্ততলে তব
                 তোমার বিচিত্র চেষ্টা করে নব নব
                              প্রাণমূর্তিময়,
                       দেয় তারে যৌবন অক্ষয়।
    প্রতিদিবসের সব কাজে
সৃষ্টির প্রতিভা তব অক্লান্ত বিরাজে।
               তাই দেখি তোমার সংসার
         চিত্তের সজীব স্পর্শে সর্বত্র তোমার আপনার।
           আষাঢ়ের প্রথম বর্ষণে
    মাটির যে-গন্ধ উঠে সিক্ত সমীরণে,
               ভাদ্রে যে-নদীটি ভরা কূলে কূলে,
               মাঘের শেষে যে-শাখা গন্ধঘন আমের মুকুলে,
                   ধানের হিল্লোলে ভরা নবীন যে-খেত,
                       অশ্বত্থের কম্পিত সংকেত,
               আশ্বিনে শিউলিতলে পূজাগন্ধ যে স্নিগ্ধ ছায়ার,
                   জানি না এদের সাথে কী মিল তোমার।
               দেখি ব'সে জানালার ধারে--
                              প্রান্তরের পারে
                       নীলাভ নিবিড় বনে
                              শীতসমীরণে
                       চঞ্চল পল্লবঘন সবুজের 'পরে
                              ঝিলিমিলি করে
                       জনহীন মধ্যাহ্নের সূর্যের কিরণ,
                            তন্দ্রাবিষ্ট আকাশের স্বপ্নের মতন।
         দিগন্তে মন্থর মেঘ, শঙ্খচিল উড়ে যায় চলি
                  ঊর্ধ্বশূন্যে, কতমতো পাখির কাকলি,
                              পীতবর্ণ ঘাস
           শুষ্ক মাঠে, ধরণীর বনগন্ধি আতপ্ত নিঃশ্বাস
                 মৃদুমন্দ লাগে গায়ে, তখন সে-ক্ষণে
           অস্তিত্বের যে ঘনিষ্ঠ অনুভূতি ভরি উঠে মনে,
প্রাণের যে প্রশান্ত পূর্ণতা, লভি তাই
                   যখন তোমার কাছে যাই--
         যখন তোমারে হেরি
               রহিয়াছ আপনারে ঘেরি
                  গম্ভীর শান্তিতে,
                       স্নিগ্ধ সুনিস্তব্ধ চিতে,
         চক্ষে তব অন্তর্যামী দেবতার উদার প্রসাদ
                          সৌম্য আশীর্বাদ।
আরো দেখুন
উন্নতিলক্ষণ
Verses
ওগো পুরবাসী, আমি পরবাসী
       জগৎব্যাপারে অজ্ঞ,
শুধাই তোমায় এ পুরশালায়
       আজি এ কিসের যজ্ঞ?
সিংহদুয়ারে পথের দু ধারে
       রথের না দেখি অন্ত--
কার সম্মানে ভিড়েছে এখানে
       যত উষ্ণীষবন্ত?
বসেছেন ধীর অতি গম্ভীর
      দেশের প্রবীণ বিজ্ঞ,
প্রবেশিয়া ঘরে সংকোচে ডরে
       মরি আমি অনভিজ্ঞ।
কোন্‌ শূরবীর জন্মভূমির
       ঘুচালো হীনতাপঙ্ক?
ভারতের শুচি যশশশীরুচি
       কে করিল অকলঙ্ক?
রাজা মহারাজ মিলেছেন আজ
       কাহারে করিতে ধন্য?
বসেছেন এঁরা পূজ্যজনেরা
       কাহার পূজার জন্য?
উত্তর
গেল সে সাহেব ভরি দুই জেব
       করিয়া উদর পূর্তি,
এরা বড়োলোক করিবেন শোক
       স্থাপিয়া তাহারি মূর্তি॥
অভাগা কে ওই মাগে নাম সই,
       দ্বারে দ্বারে ফিরে খিন্ন,
তবু উৎসাহে রচিবারে চাহে
       কাহার স্মরণচিহ্ন?
সন্ধ্যাবেলায় ফিরে আসে হায়
       নয়ন অশ্রুসিক্ত,
হৃদয় ক্ষুণ্ন খাতাটি শূন্য,
       থলি একেবারে রিক্ত!
যাহার লাগিয়া ফিরিছে মাগিয়া
       মুছি ললাটের ঘর্ম,
স্বদেশের কাছে কী সে করিয়াছে?
       কী অপরাধের কর্ম?
উত্তর
আর কিছু নহে, পিতাপিতামহে
       বসায়ে গেছে সে উচ্চে,
জন্মভূমিরে সাজায়েছে ঘিরে
       অমরপুষ্পগুচ্ছে॥
দেবী দশভূজা, হবে তাঁরি পূজা,
        মিলিবে স্বজনবর্গ--
হেথা এল কোথা দ্বিতীয় দেবতা,
       নূতন পূজার অর্ঘ্য?
কার সেবা-তরে আসিতেছে ঘরে
       আয়ুহীন মেষবৎস?
নিবেদিতে কারে আনে ভারে ভারে
       বিপুল ভেট্‌কি মৎস্য?
কী আছে পাত্রে যাহার গাত্রে
       বসেছে তৃষিত মক্ষী?
শলায় বিদ্ধ হতেছে সিদ্ধ
       মনুনিষিদ্ধ পক্ষী।
দেবতার সেরা কী দেবতা এঁরা
       পূজাভবনের পূজ্য--
যাঁহাদের পিছে পড়ে গেছে নীচে,
       দেবী হয়ে গেছে উহ্য?
উত্তর
ম্যাকে, ম্যাকিনন, অ্যালেন, ডিলন
       দোকান ছাড়িয়া সদ্য
সরবে গরবে পূজার পরবে
       তুলেছেন পাদপদ্ম॥
--
এসেছিল দ্বারে পূজা দেখিবারে
       দেবীর বিনীত ভক্ত,
কেন যায় ফিরে অবনতশিরে
       অবমানে আঁখি রক্ত?
উৎসবশালা, জ্বলে দীপমালা,
       রবি চলে গেছে অস্তে--
কুতূহলীদলে কী বিধান-বলে
       বাধা পায় দ্বারীহস্তে?
ইহারা কি তবে অনাচারী হবে,
       সমাজ হইতে ভিন্ন?
পূজাদানধ্যানে ছেলেখেলা-জ্ঞানে
    এরা মনে মানে ঘৃণ্য?
উত্তর
না না, এরা সবে ফিরিছে নীরবে
       দীন প্রতিবেশীবৃন্দে--
সাহেব-সমাজ আসিবেন আজ,
      এরা এলে হবে নিন্দে॥
লোকটি কে ইনি যেন চিনি চিনি,
       বাঙালি মুখের ছন্দ--
ধরণে ধারণে অতি অকারণে
       ইংরাজিতরো গন্ধ!
কালিয়া-বরন, অঙ্গে-পরন
       কালো হ্যাট কালো কুর্তি,
যদি নিজদেশী কাছে আসে ঘেঁষি
       কিছু যেন কড়ামূর্তি!
ধুতি-পরা দেহ দেখা দিলে কেহ
       অতিশয় লাগে লজ্জা,
বাংলা আলাপে রোষে সন্তাপে
       জ্বলে ওঠে হাড় মজ্জা!
ইঁহারা কি শেষ ছাড়িবেন দেশ?
       এঁরা কি ভারতদ্বেষ্টা?
এঁদের কি তবে দলে দলে সবে
       বিজাতি হবার চেষ্টা?
উত্তর
এঁরা সবে বীর, এঁরা স্বদেশীর
       প্রতিনিধি বলে গণ্য--
কোট-পরা কায় সঁপেছেন হায়
       শুধু স্বজাতির জন্য॥
--
অনুরাগভরে ঘুচাবার তরে
       বঙ্গভূমির দুঃখ
এ সভা মহতী, এর সভাপতি
       সভ্যেরা দেশমুখ্য।
এরা দেশহিতে চাহিছে সঁপিতে
       আপন রক্তমাংস--
তবে এ সভাকে ছেড়ে কেন থাকে
       এ দেশের অধিকাংশ?
কেন দলে দলে দূরে যায় চলে,
       বুঝে না নিজের ইষ্ট,
যদি কুতূহলে আসে সভাতলে,
       কেন বা নিদ্রাবিষ্ট?
তবে কি ইহারা নিজ-দেশ-ছাড়া
       রুধিয়া রয়েছে কর্ণ
দৈবের বশে পাছে কানে পশে
       শুভকথা এক বর্ণ?
উত্তর
না, না এঁরা হন জনসাধারণ,
       জানে দেশভাষামাত্র,
স্বদেশসভায় বসিবারে হায়
       তাই অযোগ্য পাত্র॥
বেশভূষা ঠিক যেন আধুনিক,
       মুখ দাড়ি-সমাকীর্ণ,
কিন্তু বচন অতি পুরাতন,
       ঘোরতর জরাজীর্ণ।
উচ্চ আসনে বসি একমনে
       শূন্যে মেলিয়া দৃষ্টি
তরুণ এ লোক লয়ে মনুশ্লোক
       করিছে বচনবৃষ্টি।
জলের সমান করিছে প্রমাণ
       কিছু নহে উৎকৃষ্ট
শালিবাহনের পূর্ব সনের
       পূর্বে যা নহে সৃষ্ট।
শিশুকাল থেকে গেছেন কি পেকে
       নিখিল পুরাণতন্ত্রে?
বয়স নবীন করিছেন ক্ষীণ
       প্রাচীন বেদের মন্ত্রে?
আছেন কি তিনি লইয়া পাণিনি,
       পুঁথি লয়ে কীটদষ্ট?
বায়ুপুরাণের খুঁজি পাঠ-ফের
       আয়ু করিছেন নষ্ট?
প্রাচীনের প্রতি গভীর আরতি
       বচনরচনে সিদ্ধ--
কহ তো ম'শায়, প্রাচীন ভাষায়
       কতদূর কৃতবিদ্য?
উত্তর
ঋজুপাঠ দুটি নিয়েছেন লুটি,
       দু সর্গ রঘুবংশ--
মোক্ষমুলার হ'তে অধিকার
       শাস্ত্রের বাকি অংশ॥
--
পণ্ডিত ধীর মুণ্ডিতশির,
       প্রাচীন শাস্ত্রে শিক্ষা--
নবীন সভায় নব্য উপায়ে
       দিবেন ধর্মদীক্ষা।
কহেন বোঝায়ে, কথাটি সোজা এ,
       হিন্দুধর্ম সত্য--
মূলে আছে তার কেমেস্ট্রি আর
       শুধু পদার্থতত্ত্ব।
টিকিটা যে রাখা ওতে আছে ঢাকা
       ম্যাগ্নেটিজ্‌ম্‌ শক্তি--
তিলক রেখায় বৈদ্যুত ধায়,
       তাই জেগে ওঠে ভক্তি।
সন্ধ্যাটি হলে প্রাণপণবলে
       বাজালে শঙ্খঘণ্টা
মথিত বাতাসে তাড়িত প্রকাশে
       সচেতন হয় মনটা।
এম. এ. ঝাঁকে ঝাঁক শুনিছে অবাক্‌
       অপরূপ বৃত্তান্ত--
বিদ্যাভূষণ এমন ভীষণ
       বিজ্ঞানে দুর্দান্ত!
তবে ঠাকুরের পড়া আছে ঢের--
       অন্তত গ্যানো-খণ্ড,
হেল্‌ম্‌হৎস অতি বীভৎস
       করেছে লণ্ডভণ্ড!
উত্তর
কিছু না, কিছু না, নাই জানাশুনা
       বিজ্ঞান কানাকৌড়ি--
লয়ে কল্পনা লম্বা রসনা
       করিছে দৌড়াদৌড়ি॥
আরো দেখুন
গণিতে রেলেটিভিটি প্রমাণের ভাবনায়
Verses
গণিতে রেলেটিভিটি প্রমাণের ভাবনায়
দিনরাত একা ব'সে কাটালো সে পাবনায়--
     নাম তার চুনিলাল, ডাক নাম ঝোড়্‌কে।
১ গুলো সবই ১ সাদা আর কালো কি,
গণিতের গণনায় এ মতটা ভালো কি।
     অবশেষে সাম্যের সামলাবে তোড় কে।
          একের বহর কভু বেশি কভু কম হবে,
          এক রীতি হিসাবের তবুও কি সম্ভবে।
              ৭ যদি বাঁশ হয়, ৩ হয় খড়কে,
              তবু শুধু ১০ দিয়ে জুড়বে সে জোড় কে।
যোগ যদি করা যায় হিড়িম্বা কুন্তীতে,
সে কি ২ হতে পারে গণিতের গুন্‌তিতে।
     যতই না কষে নাও মোচা আর থোড়কে
     তার গুণফল নিয়ে আঁক যাবে ভড়কে।
আরো দেখুন