দ্বৈত (dwoito)

সেদিন ছিলে তুমি আলো-আঁধারের মাঝখানটিতে,

                 বিধাতার মানসলোকের

                      মর্ত্যসীমায় পা বাড়িয়ে

                        বিশ্বের রূপ-আঙিনার নাছদুয়ারে।

       যেমন ভোরবেলার একটুখানি ইশারা,

          শালবনের পাতার মধ্যে উসুখুসু,

              শেষরাত্রের গায়ে-কাঁটা-দেওয়া

                    আলোর আড়-চাহনি;

              উষা যখন আপন-ভোলা--

       যখন সে পায় নি আপন ডাক-নামটি পাখির ডাকে,

            পাহাড়ের চূড়ায়, মেঘের লিখনপত্রে।

       তার পরে সে নেমে আসে ধরাতলে,

               তার মুখের উপর থেকে

            অসীমের ছায়া-ঘোমটা খসে পড়ে

               উদয়-সাগরের অরুণরাঙা কিনারায়।

            পৃথিবী তাকে সাজিয়ে তোলে

              আপন সবুজ-সোনার কাঁচলি দিয়ে;

            পরায় তাকে আপন হাওয়ার চুনরি।

       তেমনি তুমি এনেছিলে তোমার ছবির তনুরেখাটুকু

              আমার হৃদয়ের দিক্‌প্রান্তপটে।

       আমি তোমার কারিগরের দোসর,

            কথা ছিল তোমার রূপের 'পরে মনের তুলি

আমিও দেব বুলিয়ে,

                   পুরিয়ে তুলব তোমার গড়নটিকে।

                        দিনে দিনে তোমাকে রাঙিয়েছি

                             আমার ভাবের রঙে।

                   আমার প্রাণের হাওয়া

            বইয়ে দিয়েছি তোমার চারি দিকে

                 কখনো ঝড়ের বেগে

                      কখনো মৃদুমৃদু দোলনে।

       একদিন আপন সহজ নিরালায় ছিলে তুমি অধরা,

              ছিলে তুমি একলা বিধাতার;

                   একের মধ্যে একঘরে।

          আমি বেঁধেছি তোমাকে দুয়ের গ্রন্থিতে,

       তোমার সৃষ্টি আজ তোমাতে আর আমাতে,

          তোমার বেদনায় আর আমার বেদনায়।

            আজ তুমি আপনাকে চিনেছ

                 আমার চেনা দিয়ে।

       আমার অবাক চোখ লাগিয়েছে সোনার কাঠির ছোঁওয়া,

                    জাগিয়েছে আনন্দরূপ

                        তোমার আপন চৈতন্যে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

২৫
Verses
২৫
দুই তীরে তার বিরহ ঘটায়ে
            সমুদ্র করে দান
অতল প্রেমের অশ্রুজলের গান॥  
আরো দেখুন
মিলন
Verses
সৃষ্টির প্রাঙ্গণে দেখি বসন্তে অরণ্যে ফুলে ফুলে
              দুটিরে মিলানো নিয়ে খেলা।
রেণুলিপি বহি বায়ু প্রশ্ন করে মুকুলে মুকুলে
              কবে হবে ফুটিবার বেলা।
তাই নিয়ে বর্ণচ্ছটা, চঞ্চলতা শাখায় শাখায়,
সুন্দরের ছন্দ বহে প্রজাপতি পাখায় পাখায়,
পাখির সংগীত সাথে বন হতে বনান্তরে ধায়
              উচ্ছ্বসিত উৎসবের মেলা।
সৃষ্টির সে রঙ্গ আজি দেখি মানবের লোকালয়ে
              দুজনায় গ্রন্থির বাঁধন।
অপূর্ব জীবন তাহে জাগিবে বিচিত্র রূপ লয়ে
              বিধাতার আপন সাধন।
ছেড়েছে সকল কাজ, রঙিন বসনে ওরা সেজে
চলেছে প্রান্তর বেয়ে, পথে পথে বাঁশি চলে বেজে,
পুরানো সংসার হতে জীর্ণতার সব চিহ্ন মেজে
              রচিল নবীন আচ্ছাদন।
যাহা সবচেয়ে সত্য সবচেয়ে খেলা যেন তাই,
              যেন সে ফাল্গুনকলোল্লাস।
যেন তাহা নিঃসংশয়, মর্তের ম্লানতা যেন নাই,
              দেবতার যেন সে উচ্ছ্বাস।
সহজে মিশিছে তাই আত্মভোলা মানুষের সনে
আকাশের আলো আজি গোধূলির রক্তিম লগনে,
বিশ্বের রহস্যলীলা মানুষের উৎসবপ্রাঙ্গণে
              লভিয়াছে আপন প্রকাশ।
বাজা তোরা বাজা বাঁশি, মৃদঙ্গ উঠুক তালে মেতে
              দুরন্ত নাচের নেশা পাওয়া।
নদীপ্রান্তে তরুগুলি ওই দেখ্‌ আছে কান পেতে,
              ওই সূর্য চাহে শেষ চাওয়া।
নিবি তোরা তীর্থবারি সে অনাদি উৎসের প্রবাহে
অনন্তকালের বক্ষ নিমগ্ন করিতে যাহা চাহে
বর্ণে গন্ধে রূপে রসে, তরঙ্গিত সংগীত উৎসাহে
              জাগায় প্রাণের মত্ত হাওয়া।
সহস্র দিনের মাঝে আজিকার এই দিনখানি
              হয়েছে স্বতন্ত্র চিরন্তন।
তুচ্ছতার বেড়া হতে মুক্তি তারে কে দিয়েছে আনি
              প্রত্যহের ছিঁড়েছে বন্ধন।
প্রাণদেবতার হাতে জয়টিকা পরেছে সে ভালে,
সূর্যতারকার সাথে স্থান সে পেয়েছে সমকালে,
সৃষ্টির প্রথম বাণী যে প্রত্যাশা আকাশে জাগালে
              তাই এল করিয়া বহন।
আরো দেখুন
2
Verses
MY LIFE WHEN young was like a flower-a flower that loosens a petal or two from her abundance and never feels the loss when the spring breeze comes to beg at her door.
Now at the end of youth my life is like a fruit, having nothing to spare and waiting to offer herself completely with her full burden of sweetness
আরো দেখুন