ব্যাকুল (byakul)

               অমন করে আছিস কেন মা গো,

               খোকারে তোর কোলে নিবি না গো?

   পা ছড়িয়ে ঘরের কোণে

   কী যে ভাবিস আপন মনে,

               এখনো তোর হয় নি তো চুল বাঁধা।

   বৃষ্টিতে যায় মাথা ভিজে,

   জানলা খুলে দেখিস কী যে --

               কাপড়ে যে লাগবে ধুলোকাদা।

   ওই তো গেল চারটে বেজে,

   ছুটি হল ইস্কুলে যে --

               দাদা আসবে মনে নেইকো সিটি।

   বেলা অম্‌নি গেল বয়ে,

   কেন আছিস অমন হয়ে --

               আজকে বুঝি পাস নি বাবার চিঠি।

   পেয়াদাটা ঝুলির থেকে

   সবার চিঠি গেল রেখে --

               বাবার চিঠি রোজ কেন সে দেয় না?

   পড়বে ব'লে আপনি রাখে,

   যায় সে চলে ঝুলি-কাঁখে,

               পেয়াদাটা ভারি দুষ্টু স্যায়না।

              মা গো মা, তুই আমার কথা শোন্‌,

              ভাবিস নে মা, অমন সারা ক্ষণ।

কালকে যখন হাটের বারে

বাজার করতে যাবে পারে

               কাগজ কলম আনতে বলিস ঝিকে।

দেখো ভুল করব না কোনো --

ক খ থেকে মূর্ধন্য ণ

               বাবার চিঠি আমিই দেব লিখে।

কেন মা, তুই হাসিস কেন।

বাবার মতো আমি যেন

               অমন ভালো লিখতে পারি নেকো,

লাইন কেটে মোটা মোটা

বড়ো বড়ো গোটা গোটা

               লিখব যখন তখন তুমি দেখো।

চিঠি লেখা হলে পরে

বাবার মতো বুদ্ধি ক'রে

               ভাবছ দেব ঝুলির মধ্যে ফেলে?

কক্‌খনো না, আপনি নিয়ে

যাব তোমায় পড়িয়ে দিয়ে,

              ভালো চিঠি দেয় না ওরা পেলে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

39
Verses
I.59. sadho, yah tan thath tanvure ka
O FRIEND! THIS body is His lyre;
He tightens its strings, and draws from it the melody of Brahma.
If the strings snap and the keys slacken, then to dust must this instrument of dust return:
Kabir says: 'None but Brahma can evoke its melodies.'
আরো দেখুন
8
Verses
হে বিরাট নদী,
     অদৃশ্য নিঃশব্দ তব জল
          অবিচ্ছিন্ন অবিরল
              চলে নিরবধি।
স্পন্দনে শিহরে শূন্য তব রুদ্র কায়াহীন বেগে;
     বস্তুহীন প্রবাহের প্রচণ্ড আঘাত লেগে
              পুঞ্জ পুঞ্জ বস্তুফেনা উঠে জেগে;
          ক্রন্দসী কাঁদিয়া ওঠে বহ্নিভরা মেঘে।
     আলোকের তীব্রচ্ছটা বিচ্ছুরিয়া উঠে বর্ণস্রোতে
              ধাবমান অন্ধকার হতে;
     ঘুর্ণাচক্রে ঘুরে ঘুরে মরে
          স্তরে স্তরে
              সুর্যচন্দ্রতারা যত
                     বুদ্‌বুদের মতো।
          হে ভৈরবী, ওগো বৈরাগিণী,
     চলেছ যে নিরুদ্দেশ সেই চলা তোমার রাগিণী,
                      শব্দহীন সুর।
                      অন্তহীন দূর
              তোমারে কি নিরন্তর দেয় সাড়া।
     সর্বনাশা প্রেমে তার নিত্য তাই তুমি ঘরছাড়া।
              উন্মত্ত সে-অভিসারে
              তব বক্ষোহারে
ঘন ঘন লাগে দোলা--ছড়ায় অমনি
              নক্ষত্রের  মণি;
আঁধারিয়া ওড়ে শূন্যে ঝোড়ো এলোচুল;
          দুলে উঠে বিদ্যুতের দুল;
              অঞ্চল আকুল
          গড়ায় কম্পিত তৃণে,
চঞ্চল পল্লবপুঞ্জে বিপিনে বিপিনে;
     বারম্বার ঝরে ঝরে পড়ে ফুল
          জুঁই চাঁপা বকুল পারুল
              পথে পথে
          তোমার ঋতুর থালি হতে।
শুধু ধাও, শুধু ধাও, শুধু বেগে ধাও
               উদ্দাম উধাও;
                ফিরে নাহি চাও,
যা কিছু তোমার সব দুই হাতে ফেলে ফেলে যাও।
     কুড়ায়ে লও না কিছু, কর না সঞ্চয়;
          নাই শোক, নাই ভয়,
পথের আনন্দবেগে অবাধে পাথেয় করো ক্ষয়।
যে মুহূর্তে পূর্ণ তুমি সে মুহূর্তে কিছু তব নাই,
               তুমি তাই
              পবিত্র সদাই।
তোমার চরণস্পর্শে বিশ্বধূলি
              মলিনতা যায় ভুলি
          পলকে পলকে--
মৃত্যু ওঠে প্রাণ হয়ে ঝলকে ঝলকে।
         যদি তুমি মুহূর্তের তরে
              ক্লান্তিভরে
              দাঁড়াও থমকি,
              তখনি চমকি
উচ্ছ্রিয়া উঠিবে বিশ্ব পুঞ্জ পুঞ্জ বস্তুর পর্বতে;
          পঙ্গু মুক কবন্ধ বধির আঁধা
              স্থুলতনু ভয়ংকরী বাধা
সবারে ঠেকায়ে দিয়ে দাঁড়াইবে পথে;
     অণুতম পরমাণু আপনার ভারে
          সঞ্চয়ের অচল বিকারে
          বিদ্ধ হবে আকাশের মর্মমূলে
              কলুষের বেদনার শূলে।
              ওগো নটী, চঞ্চল অপ্সরী,
                        অলক্ষ্য সুন্দরী
তব নৃত্যমন্দাকিনী নিত্য ঝরি ঝরি
     তুলিতেছে শুচি করি
          মৃত্যস্নানে বিশ্বের জীবন।
নিঃশেষে নির্মল নীলে বিকাশিছে নিখিল গগন।
     ওরে কবি, তোরে আজ করেছে উতলা
     ঝংকারমুখরা এই ভুবনমেখলা,
অলক্ষিত চরণের অকারণ অবারণ চলা।
          নাড়ীতে নাড়ীতে তোর চঞ্চলের শুনি পদধ্বনি,
              বক্ষ তোর উঠে রনরনি।
                     নাহি জানে কেউ
রক্তে তোর নাচে আজি সমুদ্রের ঢেউ,
     কাঁপে আজি অরণ্যের ব্যাকুলতা;
          মনে আজি পড়ে সেই কথা--
              যুগে যুগে এসেছি চলিয়া,
                      স্খলিয়া স্খলিয়া
                            চুপে চুপে
                            রূপ হতে রূপে
                             প্রাণ হতে প্রাণে।
                            নিশীথে প্রভাতে
                      যা কিছু পেয়েছি হাতে
              এসেছি করিয়া ক্ষয় দান হতে দানে,
                      গান হতে গানে।
ওরে দেখ্‌ সেই স্রোত হয়েছে মুখর,
     তরণী কাঁপিছে থরথর।
তীরের সঞ্চয় তোর পড়ে থাক্‌ তীরে,
     তাকাস নে ফিরে।
          সম্মুখের বাণী
              নিক তোরে টানি
                     মহাস্রোতে
     পশ্চাতের কোলাহল হতে
              অতল আঁধারে -- অকূল আলোতে।
আরো দেখুন
33
Verses
দেখো চেয়ে গিরির শিরে
মেঘ করেছে গগন ঘিরে,
      আর কোরো না দেরি।
ওগো আমার মনোহরণ,
ওগো স্নিগ্ধ ঘনবরন,
      দাঁড়াও, তোমায় হেরি।
দাঁড়াও গো ওই আকাশ-কোলে,
দাঁড়াও আমার হৃদয়-দোলে,
      দাঁড়াও গো ওই শ্যামল-তৃণ-'পরে,
আকুল চোখের বারি বেয়ে
দাঁড়াও আমার নয়ন ছেয়ে,
      জন্মে জন্মে যুগে যুগান্তরে।
অমনি করে ঘনিয়ে তুমি এসো,
অমনি করে তড়িৎ-হাসি হেসো,
      অমনি করে উড়িয়ে দিয়ো কেশ।
অমনি করে নিবিড় ধারা-জলে
অমনি করে ঘন তিমির-তলে
      আমায় তুমি করো নিরুদ্দেশ।
ওগো তোমার দরশ লাগি
ওগো তোমার পরশ মাগি
      গুমরে মোর হিয়া।
রহি রহি পরান ব্যেপে
আগুন-রেখা কেঁপে কেঁপে
      যায় যে ঝলকিয়া।
আমার চিত্ত-আকাশ জুড়ে
বলাকা-দল যাচ্ছে উড়ে
      জানি নে কোন্‌ দূর-সমুদ্র-পারে।
সজল বায়ু উদাস ছুটে,
কোথায় গিয়ে কেঁদে উঠে
      পথবিহীন গহন অন্ধকারে।
ওগো তোমার আনো খেয়ার তরী,
তোমার সাথে যাব অকূল-'পরি,
      যাব সকল বাঁধন-বাধা-খোলা।
ঝড়ের বেলা তোমার স্মিতহাসি
লাগবে আমার সর্বদেহে আসি,
তরাস-সাথে হরষ দিবে দোলা।
ওই যেখানে ঈশান কোণে
তড়িৎ হানে ক্ষণে ক্ষণে
      বিজন উপকূলে--
তটের পায়ে মাথা কুটে
তরঙ্গদল ফেনিয়ে উঠে
      গিরির পদমূলে,
ওই যেখানে মেঘের বেণী
জড়িয়ে আছে বনের শ্রেণী--
      মর্মরিছে নারিকেলের শাখা,
গরুড়সম ওই যেখানে
ঊর্ধ্বশিরে গগন-পানে
      শৈলমালা তুলেছে নীল পাখা,
কেন আজি আনে আমার মনে
ওইখানেতে মিলে তোমার সনে
      বেঁধেছিলেম বহুকালের ঘর--
হোথায় ঝড়ের নৃত্য-মাঝে
ঢেউয়ের সুরে আজো বাজে
      যুগান্তরের মিলনগীতিস্বর।
কে গো চিরজনম ভ'রে
নিয়েছ মোর হৃদয় হ'রে
      উঠছে মনে জেগে।
নিত্যকালের চেনাশোনা
করছে আজি আনাগোনা
      নবীন-ঘন মেঘে।
কত প্রিয়মুখের ছায়া
কোন্‌ দেহে আজ নিল কায়া,
      ছড়িয়ে দিল সুখদুখের রাশি--
আজকে যেন দিশে দিশে
ঝড়ের সাথে যাচ্ছে মিশে
      কত জন্মের ভালোবাসাবাসি।
তোমায় আমায় যত দিনের মেলা
লোক-লোকান্তে যত কালের খেলা
      এক মুহূর্তে আজ করো সার্থক।
এই নিমেষে কেবল তুমি একা
জগৎ জুড়ে দাও আমারে দেখা,
      জীবন জুড়ে মিলন আজি হোক।
পাগল হয়ে বাতাস এল,
ছিন্ন মেঘে এলোমেলো
      হচ্ছে বরিষন,
জানি না দিগ্‌দিগন্তরে
আকাশ ছেয়ে কিসের তরে
      চলছে আয়োজন।
পথিক গেছে ঘরে ফিরে,
পাখিরা সব গেছে নীড়ে,
      তরণী সব বাঁধা ঘাটের কোলে।
আজি পথের দুই কিনারে
জাগিছে গ্রাম রুদ্ধ দ্বারে,
      দিবস আজি নয়ন নাহি খোলে।
শান্ত হ রে, শান্ত হ রে প্রাণ--
ক্ষান্ত করিস প্রগল্‌ভ এই গান,
      ক্ষান্ত করিস বুকের দোলাদুলি।
হঠাৎ যদি দুয়ার খুলে যায়,
হঠাৎ যদি হরষ লাগে গায় যায়,
      তখন চেয়ে দেখিস আঁখি তুলি।
আরো দেখুন