দুই (ekdin tuchchho alaper)

একদিন তুচ্ছ আলাপের ফাঁক দিয়ে

কোন্‌ অভাবনীয় স্মিতহাস্যে

আমার আত্মবিহ্বল যৌবনটাকে

দিলে তুমি দোলা;

হঠাৎ চমক দিয়ে গেল তোমার মুখে

একটি অমৃতরেখা;

আর কোনোদিন তার দেখা মেলেনি।

জোয়ারের তরঙ্গলীলায় গভীর থেকে উৎক্ষিপ্ত হল

চিরদুর্লভের একটি রত্নকণা

শতলক্ষ ঘটনার সমুদ্র-বেলায়।

এমনি এক পলকে বুকে এসে লাগে

অপরিচিত মুহূর্তের চকিত বেদনা

প্রাণের আধখোলা জালনায়

দূর বনান্ত থেকে

পথ-চলতি গানে।

অভূতপূর্বের অদৃশ্য অঙ্গুলি বিরহের মীড় লাগিয়ে যায়

হৃদয়-তারে

বৃষ্টিধারামুখর নির্জন প্রবাসে,

সন্ধ্যাযূথীর করুণ স্নিগ্ধ গন্ধে,

রেখে দিয়ে যায় কোন্‌ অলক্ষ্যে আকস্মিক

আপন স্খলিত উত্তরীয়ের স্পর্শ।

তার পরে মনে পড়ে

একদিন সেই বিস্ময়-উন্মনা নিমেষটিকে

অকারণে অসময়ে;

মনে পড়ে শীতের মধ্যাহ্নে,

যখন গোরুচরা শস্যরিক্ত মাঠের দিকে

চেয়ে চেয়ে বেলা যায় কেটে;

মনে পড়ে, যখন সঙ্গহারা সায়াহ্নের অন্ধকারে

সূর্যাস্তের ওপার থেকে বেজে ওঠে

ধ্বনিহীন বীণার বেদনা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

94
Verses
কেন      তোমরা আমায় ডাক, আমার
                     মন না মানে।
            পাই নে সময় গানে গানে।
                  পথ আমারে শুধায় লোকে,
                  পথ কি আমার পড়ে চোখে,
                       চলি যে কোন্‌ দিকের পানে
                               গানে গানে।
         দাও না ছুটি, ধর ত্রুটি, নিই  নে কানে
         মন ভেসে যায় গানে গানে।
                               আজ যে কুসুম-ফোটার বেলা,
              আকাশে আজ রঙের মেলা,
                     সকল দিকেই আমায় টানে
                               গানে গানে।
আরো দেখুন
মাকাল
Verses
গৌরবর্ণ নধর দেহ, নাম শ্রীযুক্ত রাখাল,
জন্ম তাহার হয়েছিল, সেই যে-বছর আকাল।
       গুরুমশায় বলেন তারে,
       "বুদ্ধি যে নেই একেবারে;
  দ্বিতীয়ভাগ করতে সারা ছ'মাস ধরে নাকাল।"
  রেগেমেগে বলেন, "বাঁদর, নাম দিনু তোর মাকাল।"
  নামটা শুনে ভাবলে প্রথম বাঁকিয়ে যুগল ভুরু;
  তারপর সে বাড়ি এসে নৃত্য করলে শুরু।
         হঠাৎ ছেলের মাতন দেখি
         সবাই তাকে শুধায়, এ কী!
  সকলকে সে জানিয়ে দিল, নাম দিয়েছেন গুরু--
  নতুন নামের উৎসাহে তার বক্ষ দুরুদুরু।
  কোলের 'পরে বসিয়ে দাদা বললে কানে-কানে,
  "গুরুমশায় গাল দিয়েছেন, বুঝিসনে তার মানে!"
         রাখাল বলে, "কখ্‌খোনো না,
         মা যে আমায় বলেন সোনা,
  সেটা তো গাল নয় সে কথা পাড়ার সবাই জানে।
  আচ্ছা, তোমায় দেখিয়ে দেব, চলো তো ঐখানে।"
  টেনে নিয়ে গেল তাকে পুকুরপাড়ের কাছে,
  বেড়ার 'পরে লতায় যেথা মাকাল ফ'লে আছে।
         বললে, "দাদা সত্যি বোলো,
         সোনার চেয়ে মন্দ হল?
  তুমি শেষে বলতে কি চাও, গাল ফলেছে গাছে।"
  "মাকাল আমি" ব'লে রাখাল দু হাত তুলে নাচে।
  দোয়াত কলম নিয়ে ছোটে, খেলতে নাহি চায়,
  লেখাপড়ায় মন দেখে মা অবাক হয়ে যায়।
         খাবার বেলায় অবশেষে
         দেখে ছেলের কাণ্ড এসে--
  মেঝের 'পরে ঝুঁকে প'ড়ে খাতার পাতাটায়
  লাইন টেনে লিখছে শুধু-- মাকালচন্দ্র রায়।
আরো দেখুন
1
Verses
BID ME AND I shall gather my fruits to bring them in full baskets into your courtyard, though some are lost and some not ripe.
For the season grows heavy with its fulness, and there is a plaintive shepherd's pipe in the shade.
Bid me and I shall set sail on the river.
The March wind is fretful, fretting the languid waves into murmurs.
The garden has yielded its all, and in the weary hour of evening the call comes from your house on the shore in the sunset.
আরো দেখুন