১৫ (tomar srishtir poth rekheccho)

তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি

বিচিত্র ছলনাজালে,

হে ছলনাময়ী।

মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে

সরল জীবনে।

এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহ্নিত;

তার তরে রাখ নি গোপন রাত্রি।

তোমার জ্যোতিষ্ক তা'রে

যে-পথ দেখায়

সে যে তার অন্তরের পথ,

সে যে চিরস্বচ্ছ,

সহজ বিশ্বাসে সে যে

করে তা'রে চিরসমুজ্জল।

বাহিরে কুটিল হোক অন্তরে সে ঋজু,

এই নিয়ে তাহার গৌরব।

লোকে তা'রে বলে বিড়ম্বিত।

সত্যেরে সে পায়

আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে।

কিছুতে পারে না তা'রে প্রবঞ্চিতে,

শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে

আপন ভান্ডারে।

অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে

সে পায় তোমার হাতে

শান্তির অক্ষয় অধিকার।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

59
Verses
আমরা কোথায় আছি, কোথায় সুদূরে
দীপহীন জীর্ণভিত্তি অবসাদপুরে
ভগ্নগৃহে, সহস্রের ভ্রূকুটির নীচে
কুব্জপৃষ্ঠে নতশিরে, সহস্রের পিছে
চলিয়াছি প্রভুত্বের তর্জনী-সংকেতে
কটাক্ষে কাঁপিয়া--লইয়াছি শির পেতে
সহস্রশাসনশাস্ত্র।
সংকুচিত-কায়া
কাঁপিতেছে রচি নিজ কল্পনার ছায়া।
সন্ধ্যার আঁধারে বসি নিরানন্দ ঘরে
দীন-আত্মা মরিতেছে শত লক্ষ ডরে।
পদে পদে ত্রস্তচিত্তে হয়ে লুণ্ঠ্যমান
ধূলিতলে, তোমারে যে করি অপ্রমাণ।
যেন মোরা পিতৃহারা ধাই পথে পথে
অনীশ্বর অরাজক ভয়ার্ত জগতে।
আরো দেখুন
অসময়
Verses
বৈকালবেলা ফসল-ফুরানো
          শূন্য খেতে
বৈশাখে যবে কৃপণ ধরণী
          রয়েছে তেতে,
ছেড়ে তার বন জানি নে কখন
         কী ভুল ভুলি
শুষ্ক ধূলির ধূসর দৈন্যে
          এসেছিল বুল্‌বুলি।
সকালবেলার স্মৃতিখানি মনে
          বহিয়া বুঝি
তরুণ দিনের ভরা আতিথ্য
          বেড়ালো খুঁজি।
অরুণে শ্যামলে উজ্জ্বল সেই
          পূর্ণতারে
মিথ্যা ভাবিয়া ফিরে যাবে সে কি
          রাতের অন্ধকারে।
তবুও তো গান করে গেল দান
          কিছু না পেয়ে।
সংশয়-মাঝে কী শুনায়ে গেল
          কাহারে চেয়ে।
যাহা গেছে সরে কোনো রূপ ধ'রে
          রয়েছে বাকি,
এই সংবাদ বুঝি মনে মনে
          জানিতে পেরেছে পাখি।
প্রভাতবেলার যে ঐশ্বর্য
          রাখে নি কণা,
এসেছিল সে যে, হারায় না কভু
          সে সান্ত্বনা।
সত্য যা পাই ক্ষণেকের তরে
          ক্ষণিক নহে।
সকালের পাখি বিকালের গানে
          এ আনন্দই বহে।
আরো দেখুন
পাষাণী
Verses
        জগতের বাতাস করুণা,
        করুণা যে রবিশশীতারা,
        জগতের শিশির করুণা--
        জগতের বৃষ্টিবারিধারা।
        জননীর স্নেহধারা-সম
        এই-যে জাহ্নবী বহিতেছে,
        মধুরে তটের কানে কানে
        আশ্বাস-বচন কহিতেছে--
        এও সেই বিমল করুণা
        হৃদয় ঢালিয়া বহে যায়,  
        জগতের তৃষা নিবারিয়া
        গান গাহে করুণ ভাষায়।
        কাননের ছায়া সে করুণা,
        করুণা সে উষার কিরণ,
        করুণা সে জননীর আঁখি,
        করুণা সে প্রেমিকের মন।
        এমন যে মধুর করুণা,
        এমন যে কোমল করুণা,
        জগতের হৃদয়জড়ানো
        এমন যে বিমল করুণা--
        দিন দিন বুক ফেটে যায়,
        দিন দিন দেখিবারে পাই,
        যারে ভালোবাসি প্রাণপণে
   সে করুণা তার মনে নাই।
   পরের নয়নজলে    তার না হৃদয় গলে,
        দুখেরে সে করে উপহাস,
        দুখেরে সে করে অবিশ্বাস।
    দেখিয়া হৃদয় মোর তরাসে শিহরি উঠে,
    প্রেমের কোমল প্রাণে শত শত শেল ফুটে,
    হৃদয় কাতর হয়ে নয়ন মুদিতে চায়,
        কাঁদিয়া সে বলে, " হায় হায়,
        এ তো নহে আমার দেবতা,
        তবে কেন রয়েছে হেথায়?"
        তুমি নও সে জন তো নও,
        তবে তুমি কোথা হতে এলে?
        এলে যদি এসো তবে কাছে,
        এ হৃদয়ে যত অশ্রু আছে
        একবার সব দিই ঢেলে,
        তোমার সে কঠিন পরান
        যদি তাহে একতিল গলে,
        কোমল হইয়া আসে মন
        সিক্ত হয়ে অশ্রুজলে-জলে।
        কাঁদিবারে শিখাই তোমায়--
        পরদুঃখে ফেলিতে নিশ্বাস,
        করুণার সৌন্দর্য অতুল
        ও নয়নে করে যেন বাস।
        প্রতিদিন দেখিয়াছি আমি
        করুণারে করেছ পীড়ন,
        প্রতিদিন ওই মুখ হতে
        ভেঙে গেছে রূপের মোহন।
কুবলয়-আঁখির মাঝারে
সৌন্দর্য পাই না দেখিবারে,
        হাসি তব আলোকের প্রায়
        কোমলতা নাহি যেন তায়,
        তাই মন প্রতিদিন কহে,
"নহে নহে, এ জন সে নহে।"
    শোনো বন্ধু, শোনো, আমি করুণারে ভালোবাসি।
    সে যদি না থাকে তবে ধূলিময় রূপরাশি।
    তোমারে যে পূজা করি, তোমারে যে দিই ফুল,
    ভালোবাসি বলে যেন কখনো কোরো না ভুল।
    যে জন দেবতা মোর কোথা সে আছে না জানি,
    তুমি তো কেবল তার পাষাণপ্রতিমাখানি।
    তোমার হৃদয় নাই, চোখে নাই অশ্রু-ধার,
    কেবল রয়েছে তব পাষাণ-আকার তার।
আরো দেখুন