৫ (aro ekbar jodi pari)

আরো একবার যদি পারি

খুঁজে দেব সে আসনখানি

যার কোলে রয়েছে বিছানো

বিদেশের আদরের বাণী।

অতীতের পালানো স্বপন

আবার করিবে সেথা ভিড়,

অস্ফুট গুঞ্জনস্বরে

আরবার রচি দিবে নীড়।

সুখস্মৃতি ডেকে ডেকে এনে

জাগরণ করিবে মধুর,

যে বাঁশি নীরব হয়ে গেছে

ফিরায়ে আনিবে তার সুর।

বাতায়নে রবে বাহু মেলি

বসন্তের সৌরভের পথে,

মহানিঃশব্দের পদধ্বনি

শোনা যাবে নিশীথজগতে।

বিদেশের ভালোবাসা দিয়ে

যে প্রেয়সী পেতেছে আসন

চিরদিন রাখিবে বাঁধিয়া

কানে কানে তাহারি ভাষণ।

ভাষা যার জানা ছিল নাকো,

আঁখি যার কয়েছিল কথা,

জাগায়ে রাখিবে চিরদিন

সকরুণ তাহারি বারতা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পূর্ণিমা
Verses
পড়িতেছিলাম গ্রন্থ বসিয়া একেলা
সঙ্গীহীন প্রবাসের শূন্য সন্ধ্যাবেলা
করিবারে পরিপূর্ণ। পণ্ডিতের লেখা
সমালোচনার তত্ত্ব; পড়ে হয় শেখা
সৌন্দর্য কাহারে বলে-- আছে কী কী বীজ
কবিত্বকলায়; শেলি, গেটে, কোল্‌রীজ
কার কোন্‌ শ্রেণী। পড়ি পড়ি বহুক্ষণ
তাপিয়া উঠিল শির, শ্রান্ত হল মন,
মনে হল সব মিথ্যা, কবিত্ব কল্পনা
সৌন্দর্য সুরুচি রস সকলি জল্পনা
লিপিবণিকের-- অন্ধ গ্রন্থকীটগণ
বহু বর্ষ ধরি শুধু করিছে রচন
শব্দমরীচিকাজাল, আকাশের 'পরে
অকর্ম আলস্যাবেশে দুলিবার তরে
দীর্ঘ রাত্রিদিন।
                         অবশেষে শ্রান্তি মানি
তন্দ্রাতুর চোখে, বন্ধ করি গ্রন্থখানি
ঘড়িতে দেখিনু চাহি দ্বিপ্রহর রাতি,
চমকি আসন ছাড়ি নিবাইনু বাতি।
যেমন নিবিল আলো, উচ্ছ্বসিত স্রোতে
মুক্ত দ্বারে, বাতায়নে, চতুর্দিক হতে
চকিতে পড়িল কক্ষে বক্ষে চক্ষে আসি
ত্রিভুবনবিপ্লাবিনী মৌন সুধাহাসি।
হে সুন্দরী, হে প্রেয়সী, হে পূর্ণপূর্ণিমা,
অনন্তের অন্তরশায়িনী, নাহি সীমা
তব রহস্যের। এ কী মিষ্ট পরিহাসে
সংশয়ীর শুষ্ক চিত্ত সৌন্দর্য-উচ্ছ্বাসে
মুহূর্তে ডুবালে। কখন দুয়ারে এসে
মুখানি বাড়ায়ে, অভিসারিকার বেশে
আছিলে দাঁড়ায়ে, এক প্রান্তে, সুররানী,
সুদূর নক্ষত্র হতে সাথে করে আনি
বিশ্বভরা নীরবতা। আমি গৃহকোণে
তর্কজালবিজড়িত ঘন বাক্যবনে
শুষ্কপত্রপরিকীর্ণ অক্ষরের পথে
একাকী ভ্রমিতেছিনু শূন্য মনোরথে
তোমারি সন্ধানে। উদ্‌ভ্রান্ত এ ভকতেরে
এতক্ষণ ঘুরাইলে ছলনার ফেরে।
কী জানি কেমন করে লুকায়ে দাঁড়ালে
একটি ক্ষণিক ক্ষুদ্র দীপের আড়ালে
হে বিশ্বব্যাপিনী লক্ষ্মী। মুগ্ধ কর্ণপুটে
গ্রন্থ হইতে গুটিকত বৃথা বাক্য উঠে
আচ্ছন্ন করিয়াছিল, কেমনে না জানি,
লোকলোকান্তরপূর্ণ তব মৌনবাণী।
আরো দেখুন
23
Verses
আমারে তুমি অশেষ করেছ
       এমনি লীলা তব।
ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ
       জীবন নব নব।
কত যে গিরি কত যে নদীতীরে
বেড়ালে বহি ছোটো এ বাঁশিটিরে,
কত যে তান বাজালে ফিরে ফিরে
       কাহারে তাহা কব।
তোমারি ওই অমৃতপরশে
        আমার হিয়াখানি
হারালো সীমা বিপুল হরষে
        উথলি' উঠে বাণী।
আমার শুধু একটি মুঠি ভরি
দিতেছ দান দিবসবিভাবরী,
হল না সারা কত-না যুগ ধরি,
        কেবলি আমি লব।
আরো দেখুন
সম্পূর্ণ
Verses
প্রথম তোমাকে দেখেছি তোমার
     বোনের বিয়ের বাসরে
          নিমন্ত্রণের আসরে।
সেদিন তখনো দেখেও তোমাকে দেখি নি,
     তুমি যেন ছিলে সূক্ষ্মরেখিণী
          ছবির মতো--
পেন্সিলে-আঁকা ঝাপসা ধোঁয়াটে লাইনে
     চেহারার ঠিক ভিতর দিকের
          সন্ধানটুকু পাই নে।
     নিজের মনের রঙ মেলাবার বাটিতে
          চাঁপালি খড়ির মাটিতে
      গোলাপি খড়ির রঙ হয় নি যে গোলা,
সোনালি রঙের মোড়ক হয় নি খোলা।
দিনে দিনে শেষে সময় এসেছে আগিয়ে,
     তোমার ছবিতে আমারি মনের
          রঙ যে দিয়েছি লাগিয়ে।
বিধাতা তোমাকে সৃষ্টি করতে এসে
          আনমনা হয়ে শেষে
               কেবল তোমার ছায়া
     রচে দিয়ে, ভুলে ফেলে গিয়েছেন--
          শুরু করেন নি কায়া।
     যদি শেষ করে দিতেন, হয়তো
          হত সে তিলোত্তমা,
               একেবারে নিরুপমা।
     যত রাজ্যের যত কবি তাকে
          ছন্দের ঘের দিয়ে
     আপন বুলিটি শিখিয়ে করত
          কাব্যের পোষা টিয়ে।
আমার মনের স্বপ্নে তোমাকে
          যেমনি দিয়েছি দেহ
     অমনি তখন নাগাল পায় না
সাহিত্যিকেরা কেহ।
     আমার দৃষ্টি তোমার সৃষ্টি
          হয়ে গেল একাকার।
মাঝখান থেকে বিশ্বপতির ঘুচে গেল অধিকার।
     তুমি যে কেমন আমিই কেবল জানি,
          কোনো সাধারণ বাণী
               লাগে না কোনোই কাজে।
     কেবল তোমার নাম ধ'রে মাঝে-মাঝে
          অসময়ে দিই ডাক,
     কোনো প্রয়োজন থাক্‌ বা নাই-বা থাক্‌।
        অমনি তখনি কাঠিতে-জড়ানো উলে
হাত কেঁপে গিয়ে গুন্‌তিতে যাও ভুলে।
কোনো কথা আর নাই কোনো অভিধানে
     যার এত বড়ো মানে।
আরো দেখুন