২২ (e osim gogoner tire)

     এ অসীম গগনের তীরে

          মৃৎকণা জানি ধরণীরে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

8
Verses
আমি চঞ্চল হে,
আমি সুদূরের পিয়াসি।
        দিন চলে যায়, আমি আনমনে
        তারি আশা চেয়ে থাকি বাতায়নে,
        ওগো প্রাণে মনে আমি যে তাহার
              পরশ পাবার প্রয়াসী।
              আমি সুদূরের পিয়াসি।
ওগো             সুদূর,বিপুল সুদূর,  তুমি যে
                         বাজাও ব্যাকুল বাঁশরি।
                 মোর ডানা নাই, আছি এক ঠাঁই,
                        সে কথা যে যাই পাসরি।
আমি উৎসুক হে,
হে সুদূর, আমি প্রবাসী।
        তুমি দুর্লভ দুরাশার মতো
        কী কথা আমায় শুনাও সতত।
        তব ভাষা শুনে তোমারে হৃদয়
              জেনেছে তাহার স্বভাষী।
                 হে সুদূর,আমি প্রবাসী।
     ওগো         সুদূর,বিপুল সুদূর, তুমি যে
                         বাজাও ব্যাকুল বাঁশরি।
                 নাহি জানি পথ, নাহি মোর রথ
                      সে কথা যে যাই পাসরি। '
আমি উন্মনা হে,
হে সুদূর,আমি উদাসী।
        রৌদ্র-মাখানো অলস বেলায়
        তরুমর্মরে, ছায়ার খেলায়,
       কী মুরতি তব নীলাকাশশায়ী
            নয়নে উঠে গো আভাসি।
            হে সুদূর,আমি উদাসী।
ওগো            সুদূর, বিপুল সুদূর,  তুমি যে
                    বাজাও ব্যাকুল বাঁশরি।
                 কক্ষে আমার রুদ্ধ দুয়ার
                    সে কথা যে যাই পাসরি।
আরো দেখুন
প্রাচী
Verses
                 জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!
           ঢেকেছে তোমারে নিবিড় তিমির
           যুগযুগব্যাপী অমারজনীর;
           মিলেছে তোমার সুপ্তির তীর
                       লুপ্তির কাছাকাছি।
                 জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!
           জীবনের যত বিচিত্র গান
           ঝিল্লিমন্ত্রে হল অবসান;
           কবে আলোকের শুভ আহ্বান
                       নাড়ীতে উঠিবে নাচি।
           জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!
           সঁপিবে তোমারে নবীন প্রাণী কে।
           নবপ্রভাতের পরশমানিকে
           সোনা করি দিবে ভুবনখানিকে,
                       তারি লাগি বসি আছি।
           জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!
           জরার জড়িমা-আবরণ টুটে
           নবীন রবির জ্যোতির মুকুটে
           নব রূপ তব উঠুক-না ফুটে,
                      করপুটে এই যাচি।
                 জাগো হে প্রাচীন প্রাচী।
           "খোলো খোলো দ্বার, ঘুচুক আঁধার',
           নবযুগ আসি ডাকে বার বার --
           দুঃখ-আঘাতে দীপ্তি তোমার
                       সহসা উঠুক বাঁচি।
           জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!
           ভৈরবরাগে উঠিয়াছে তান,
           ঈশানের বুঝি বাজিল বিষাণ,
           নবীনের হাতে লহো তব দান
                       জ্বালাময় মালাগাছি
           জাগো হে প্রাচীন প্রাচী।
আরো দেখুন
খেলা
Verses
ছেলেতে মেয়েতে করে খেলা
ঘাসের 'পরে সাঁঝের বেলা।
ঘোর ঘোর গাছের তলে তলে,
     ফাঁকায় পড়েছে মলিন আলো,
কোথাও যেন সোনার ছায়া ছায়া
     কোথাও যেন আঁধার কালো কালো।
আকাশের ধারে ধারে ঘিরে,
     বসেছে রাঙা মেঘের মেলা-
শ্যামল ঘাসের 'পরে, সাঁঝে
আলো-আঁধারের মাঝে মাঝে,
     ছেলেতে মেয়েতে করে খেলা।
ওরা যে কেন হেসে সারা,
          কেন যে করে অমনধারা,
              কেন যে লুটোপুটি,
              কেন যে ছুটোছুটি,
              কেন যে আহ্লাদে কুটিকুটি।
              কেহ বা ঘাসে গড়ায়,
              কেহ বা নেচে বেড়ায়,
              সাঁঝের সোনা-আকাশে
              হাসির সোনা ছড়ায়।
              আঁখি দুটি নৃত্য করে,
              নাচে চুল পিঠের 'পরে,
          হাসিগুলি চোখে মুখে লুকোচুরি খেলা করে।
যেন          মেঘের কাছে ছুটি পেয়ে
              বিদ্যুতেরা এল ধেয়ে,
          আনন্দে হল রে আপন-হারা।
ওদের        হাসি দেখে খেলা দেখে
              আকাশের এক ধারে থেকে
          মৃদু মৃদু হাসছে একটি তারা।
          ঝাউগাছে পাতাটি নড়ে না,
          কামিনীর পাপড়িটি পড়ে না।
              আঁধার কাকের দল
              সাঙ্গ করি কোলাহল
              কালো কালো গাছের ছায়,
              কে কোথায় মিশায়ে যায়--
          আকাশেতে পাখিটি ওড়ে না।
              সাড়াশব্দ কোথায় গেল,
              নিঝুম হয়ে এল এল
          গাছপালা বন গ্রামের আশেপাশে।
শুধু খেলার কোলাহল,
       শিশুকন্ঠের কলকল,
হাসির ধ্বনি উঠেছে আকাশে।
       কত আর খেলবি ও রে,
       নেচে নেচে হাতে ধ'রে
যে যায় ঘরে চলে আয় ঝাট্‌,
আঁধার হয়ে এল পথঘাট।
       সন্ধ্যাদীপ জ্বলল ঘরে,
       চেয়ে আছে তোদের তরে-
তোদের না হেরিলে মার কোলে
ঘরের প্রাণ কাঁদে সন্ধে হলে।
আরো দেখুন