প্রাচী (prachi)

                 জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!

           ঢেকেছে তোমারে নিবিড় তিমির

           যুগযুগব্যাপী অমারজনীর;

           মিলেছে তোমার সুপ্তির তীর

                       লুপ্তির কাছাকাছি।

                 জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!

           জীবনের যত বিচিত্র গান

           ঝিল্লিমন্ত্রে হল অবসান;

           কবে আলোকের শুভ আহ্বান

                       নাড়ীতে উঠিবে নাচি।

           জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!

           সঁপিবে তোমারে নবীন প্রাণী কে।

           নবপ্রভাতের পরশমানিকে

           সোনা করি দিবে ভুবনখানিকে,

                       তারি লাগি বসি আছি।

           জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!

           জরার জড়িমা-আবরণ টুটে

           নবীন রবির জ্যোতির মুকুটে

           নব রূপ তব উঠুক-না ফুটে,

                      করপুটে এই যাচি।

                 জাগো হে প্রাচীন প্রাচী।

           "খোলো খোলো দ্বার, ঘুচুক আঁধার',

           নবযুগ আসি ডাকে বার বার --

           দুঃখ-আঘাতে দীপ্তি তোমার

                       সহসা উঠুক বাঁচি।

           জাগো হে প্রাচীন প্রাচী!

           ভৈরবরাগে উঠিয়াছে তান,

           ঈশানের বুঝি বাজিল বিষাণ,

           নবীনের হাতে লহো তব দান

                       জ্বালাময় মালাগাছি

           জাগো হে প্রাচীন প্রাচী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

15
Verses
মনে পড়ে,শৈলতটে তোমাদের নিভৃত কুটির;
হিমাদ্রি যেথায় তার সমুচ্চ শান্তির
আসনে নিস্তব্ধ নিত্য, তুঙ্গ তার শিখরের সীমা
লঙ্ঘন করিতে চায় দূরতম শূন্যের মহিমা।
অরণ্য যেতেছে নেমে উপত্যকা বেয়ে;
নিশ্চল সবুজবন্যা, নিবিড় নৈ:শব্দ্যে রাখে ছেয়ে  
ছায়াপুঞ্জ তার। শৈলশৃঙ্গ-অন্তরালে
প্রথম অরুণোদয়-ঘোষণার কালে
অন্তরে আনিতে স্পন্দ বিশ্বজীবনের
সদ্যস্ফূর্ত চঞ্চলতা। নির্জন বনের
গূঢ় আনন্দের যত ভাষাহীন বিচিত্র সংকেতে
লভিতাম হৃদয়েতে
যে বিস্ময় ধরণীর প্রাণের আদিম সূচনায়।
সহসা নাম-না-জানা পাখিদের চকিত পাখায়
চিন্তা মোর যেত ভেসে
শুভ্রহিমরেখাঙ্কিত মহানিরুদ্দেশে।
বেলা যেত,লোকালয়
তুলিত ত্বরিত করি সুপ্তোত্থিত শিথিল সময়।
গিরিগাত্রে পথ গেছে বেঁকে,
বোঝা বহি চলে লোক,গাড়ি ছুটে চলে থেকে থেকে।
পার্বতী জনতা
বিদেশী প্রাণযাত্রার খন্ড খন্ড কথা
মনে যায়  রেখে,
রেখা-রেখা অসংলগ্ন ছবি যায় এঁকে।
শুনি মাঝে মাঝে
অদূরে ঘণ্টার ধ্বনি বাজে,
কর্মের দৌত্য সে করে
প্রহরে প্রহরে।
প্রথম আলোর স্পর্শ লাগে,
আতিথ্যের সখ্য জাগে
ঘরে ঘরে। স্তরে স্তরে দ্বারের সোপানে
নানারঙা ফুলগুলি অতিথির প্রাণে।
গৃহিণীর যত্ন বহি প্রকৃতির লিপি নিয়ে আসে
আকাশে বাতাসে।
কলহাস্যে মানুষের স্নেহের বারতা
যুগযুগান্তের মৌনে হিমাদ্রির আনে সার্থকতা।
আরো দেখুন
সূচনা
Verses
আমার কাব্যের ঋতুপরিবর্তন ঘটেছে বারে বারে। প্রায়ই সেটা ঘটে নিজের অলক্ষ্যে। কালে কালে ফুলের ফসল বদল হয়ে থাকে, তখন মৌমাছির মধু-যোগান নতুন পথ নেয়। ফুল চোখে দেখবার পূর্বেই মৌমাছি ফুলগন্ধের সূক্ষ্ম নির্দেশ পায়, সেটা পায় চারদিকের হাওয়ায়। যারা ভোগ করে এই মধু তারা এই বিশিষ্টতা টের পায় স্বাদে। কোনো কোনো বনের মধু বিগলিত তার মাধুর্যে, তার রঙ হয় রাঙা; কোনো পাহাড়ি মধু দেখি ঘন, আর তাতে রঙের আবেদন নেই, সে শুভ্র; আবার কোনো আরণ্য সঞ্চয়ে একটু তিক্ত স্বাদেরও আভাস থাকে।
কাব্যে এই যে হাওয়াবদল থেকে সৃষ্টিবদল এ তো স্বাভাবিক, এমনি স্বাভাবিক যে এর কাজ হতে থাকে অন্যমনে। কবির এ সম্বন্ধে খেয়াল থাকে না। বাইরে থেকে সমজদারের কাছে এর প্রবণতা ধরা পড়ে। সম্প্রতি সেই সমজদারের সাড়া পেয়েছিলুম। আমার একশ্রেণীর কবিতার এই বিশিষ্টতা আমার স্নেহভাজন বন্ধু অমিয়চন্দ্রের দৃষ্টিতে পড়েছিল। ঠিক কী ভাবে তিনি এদের বিশ্লেষণ করে পৃথক করেছিলেন তা আমি বলতে পারি নে। হয়তো দেখেছিলেন, এরা বসন্তের ফুল নয়; এরা হয়তো প্রৌঢ় ঋতুর ফসল, বাইরে থেকে মন ভোলাবার দিকে এদের ঔদাসীন্য। ভিতরের দিকের মননজাত অভিজ্ঞতা এদের পেয়ে বসেছে। তাই যদি না হবে তা হলে তো ব্যর্থ হবে পরিণত বয়সের প্রেরণা। কিন্তু এ আলোচনা আমার পক্ষে সংগত নয়। আমি তাই নবজাতক গ্রন্থের কাব্যগ্রন্থনের ভার অমিয়চন্দ্রের উপরেই দিয়েছিলুম। নিশ্চিন্ত ছিলুম, কারণ দেশবিদেশের সাহিত্যে ব্যাপকক্ষেত্রে তাঁর সঞ্চরণ।
আরো দেখুন
একাকিনী
Verses
একাকিনী বসে থাকে আপনারে সাজায়ে যতনে।
                বসনে ভূষণে
          যৌবনেরে করে মূল্যবান।
             নিজেরে করিবে দান
                  যার হাতে
          সে অজানা তরুণের সাথে
        এই যেন দূর হতে তার কথা-বলা।
                 এই প্রসাধনকলা,
          নয়নের এ-কজ্জললেখা,
উজ্জ্বল বসন্তীরঙা অঞ্চলের এ-বঙ্কিমরেখা
          মণ্ডিত করেছে দেহ প্রিয়সম্ভাষণে।
                  দক্ষিণপবনে
অস্পষ্ট উত্তর আসে শিরীষের কম্পিত ছায়ায়।
      এইমতো দিন যায়,
             ফাগুনের গন্ধে ভরা দিন।
      সায়াহ্নিক দিগন্তের সীমন্তে বিলীন
            কুঙ্কুম-আভায় আনে
                 উৎকণ্ঠিত প্রাণে
                    তুলি' দীর্ঘশ্বাস--
          অভাবিত মিলনের আরক্ত আভাস।
আরো দেখুন