১৮ (alo elo je dware tobo)

আলো            এল-যে দ্বারে তব

        ওগো        মাধবীবনছায়া--

দোঁহে     মিলিয়া নব নব

        তৃণে         বিছায়ে গাঁথো মায়া।

চাঁপা,          তোমার আঙিনাতে

        ফেরে   বাতাস কাছে কাছে--

আজি      ফাগুনে এক-সাথে

        দোলা   লাগিয়ো নাচে নাচে।

বধূ,       তোমার দেহলীতে

        বর      আসিছে দেখিছ কি?

আজি      তাহার বাঁশরিতে

        হিয়া         মিলায়ে দিয়ো সখী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

10
Verses
মৃত্যুদূত এসেছিল হে প্রলয়ংকর, অকস্মাৎ
তব সভা হতে। নিয়ে গেল বিরাট প্রাঙ্গণে তব;
চক্ষে দেখিলাম অন্ধকার; দেখি নি অদৃশ্য আলো
আঁধারের স্তরে স্তরে অন্তরে অন্তরে, যে আলোক
নিখিল জ্যোতির জ্যোতি; দৃষ্টি মোর ছিল আচ্ছাদিয়া
আমার আপন ছায়া। সেই আলোকের সামগান
মন্দ্রিয়া উঠিবে মোর সত্তার গভীর গুহা হতে
সৃষ্টির-সীমান্ত-জ্যোতির্লোকে, তারি লাগি ছিল মোর
আমন্ত্রণ। লব আমি চরমের কবিত্বমর্যাদা
জীবনের রঙ্গভূমে, এরি লাগি সেধেছিনু তান।
বাজিল না রুদ্রবীণা নিঃশব্দ ভৈরব নবরাগে,
জাগিল না মর্মতলে ভীষণের প্রসন্ন মুরতি,
তাই ফিরাইয়া দিলে। আসিবে আরেক দিন যবে
তখন কবির বাণী পরিপক্ব ফলের মতন
নিঃশব্দে পড়িবে খসি আনন্দের পূর্ণতার ভারে
অনন্তের অর্ঘ্যডালি-'পরে। চরিতার্থ হবে শেষে
জীবনের শেষ মূল্য, শেষ যাত্রা, শেষ নিমন্ত্রণ।
আরো দেখুন
চলতি ছবি
Verses
রোদ্‌দুরেতে ঝাপসা দেখায় ওই-যে দূরের গ্রাম
                   যেমন ঝাপসা না-জানা ওর নাম।
          পাশ দিয়ে যাই উড়িয়ে ধূলি, শুধু নিমেষ-তরে
                   চলতি ছবি পড়ে চোখের প'রে।
দেখে গেলেম গ্রামের মেয়ে কলসি-মাথায়-ধরা,
                             রঙিন-শাড়ি পরা;
          দেখে গেলেম পথের ধারে ব্যাবসা চালায় মুদি;
          দেখে গেলেম নতুন বধূ আধেক দুয়ার রুধি
          ঘোমটা থেকে ফাঁক করে তার কালোচোখের কোণা
                   দেখছে চেয়ে পথের আনাগোনা।
          বাঁধানো বট-গাছের তলায় পড়তি রোদের বেলায়
          গ্রামের ক'জন মাতব্বরে মগ্ন তাসের খেলায়।
                   এইটুকুতে চোখ বুলিয়ে আবার চলি ছুটে,
                   এক মুহূর্তে গ্রামের ছবি ঝাপসা হয়ে উঠে।
          ওই না-জানা গ্রামের প্রান্তে সকালবেলায় পুবে
          সূর্য ওঠে, সন্ধেবেলায় পশ্চিমে যায় ডুবে।
                             দিনের সকল কাজে,
                   স্বপ্ন-দেখা রাতের নিদ্রামাঝে,
                             ওই ঘরে, ওই মাঠে,
          ওইখানে জল-আনার পথে ভিজে পায়ের ঘাটে,
                   পাখি-ডাকা ওই গ্রামেরই প্রাতে,
          ওই গ্রামেরই দিনের অন্তে স্তিমিতদীপ রাতে
                   তরঙ্গিত দুঃখসুখের নিত্য ওঠা-নাবা--
          কোনোটা বা গোপন মনে, বাইরে কোনোটা বা।
          তারা যদি তুলত ধ্বনি, তাদের দীপ্ত শিখা
                   ওই আকাশে লিখত যদি লিখা,
          রাত্রিদিনকে-কাঁদিয়ে-তোলা ব্যাকুল প্রাণের ব্যথা
                   পেত যদি ভাষার উদ্‌বেলতা,
তবে হোথায় দেখা দিত পাথর-ভাঙা স্রোতে
          মানবচিত্ত-তুঙ্গশিখর হতে
সাগর-খোঁজা নির্ঝর সেই, গর্জিয়া নর্তিয়া
          ছুটছে যাহা নিত্যকালের বক্ষে আবর্তিয়া
                             কান্নাহাসির পাকে--
তাহা হলে তেমনি করেই দেখে নিতেম তাকে
          চমক লেগে হঠাৎ পথিক দেখে যেমন ক'রে
                   নায়েগারার জলপ্রপাত অবাক দৃষ্টি ভ'রে।
          যুদ্ধ লাগল স্পেনে;
চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।
          সংবাদ তার মুখর হল দেশ-মহাদেশ জুড়ে
                   সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে
                             দিকে দিকে যন্ত্রগরুড়রথে
                   উদয়রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।
                             কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,
                   কন্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,
          সেই-যে লক্ষ-কোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,
                             তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
তাদের চিত্তমহাসাগর উদ্দাম উত্তাল
          মগ্ন করে অন্তবিহীন কাল;
          ওই তো তাহা সম্মুখেতেই, চার দিকে বিস্তৃত
                   পৃথ্বীজোড়া মহাতুফান, তবু দোলায় নি তো
                             তাহারই মাঝখানে-বসা আমার চিত্তখানি।
                                      এই প্রকাণ্ড জীবননাট্যে কে দিয়েছে টানি
                                                প্রকাণ্ড এক অটল যবনিকা।
          ওদের আপন ক্ষুদ্র প্রাণের শিখা
                   যে আলো দেয় একা,
          পূর্ণ ইতিহাসের মূর্তি যায় না তাহে দেখা।
এই পৃথিবীর প্রান্ত হতে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি
          জেনেছে আজ তারার বক্ষে উজ্জ্বালিত সৃষ্টি
                   উন্মথিত বহ্নিসিন্ধু-প্লাবননির্ঝরে
          কোটিযোজন দূরত্বেরে নিত্য লেহন করে।
          কিন্তু এই-যে এই মুহূর্তে বেদন-হোমানল
                   আলোড়িছে বিপুল চিত্ততল
                             বিশ্বধারায় দেশে-দেশান্তরে
                                      লক্ষ লক্ষ ঘরে--
আলোক তাহার, দাহন তাহার, তাহার প্রদক্ষিণ
          যে অদৃশ্য কেন্দ্র ঘিরে চলছে রাত্রিদিন
                   তাহা মর্তজনের কাছে
          শান্ত হয়ে স্তব্ধ হয়ে আছে।
যেমন শান্ত যেমন স্তব্ধ দেখায় মুগ্ধ চোখে
          বিরামহীন জ্যোতির ঝঞ্ঝা নক্ষত্র-আলোকে।
আরো দেখুন
ত্যাগ
Verses
ওগো মা,
           রাজার দুলাল গেল চলি মোর
                   ঘরের সমুখপথে,
           প্রভাতের আলো ঝলিল তাহার
                   স্বর্ণশিখর রথে।
           ঘোমটা খসায়ে বাতায়নে থেকে
           নিমেষের লাগি নিয়েছি মা দেখে,
           ছিঁড়ি মণিহার ফেলেছি তাহার
                  পথের ধুলার 'পরে।
        মা গো,      কী হল তোমার, অবাক নয়নে
                         চাহিস কিসের তরে!
        মোর      হার-ছেঁড়া মণি নেয় নি কুড়ায়ে,
                   রথের চাকায় গেছে সে গুঁড়ায়ে
                   চাকার চিহ্ন ঘরের সমুখে
                   পড়ে আছে শুধু আঁকা।
        আমি     কী দিলেম কারে জানে না সে কেউ--
                         ধুলায় রহিল ঢাকা।
        তবু           রাজার দুলাল গেল চলি মোর
                         ঘরের সমুখপথে--
        মোর      বক্ষের মণি না ফেলিয়া দিয়া
                         রহিব বলো কী মতে।
আরো দেখুন