৬৪ (tabo nabo probhater)

তব নব প্রভাতের রক্তরাগখানি

মধ্যাহ্নে জাগায় যেন জ্যোতির্ময়ী বাণী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

অন্তর্হিতা
Verses
প্রদীপ যখন নিবেছিল,
       আঁধার যখন রাতি,
দুয়ার যখন বন্ধ ছিল,
       ছিল না কেউ সাথি--
    মনে হল অন্ধকারে
    কে এসেছে বাহির-দ্বারে,
মনে হল শুনি যেন
       পায়ের ধ্বনি কার,
রাতের হাওয়ায় বাজল বুঝি
       কঙ্কণঝংকার।
বারেক শুধু মনে হল
       খুলি, দুয়ার খুলি।
ক্ষণেক পরে ঘুমের ঘোরে
       কখন গেনু ভুলি।
    "কোন্‌ অতিথি দ্বারের কাছে
    একলা রাতে বসে আছে?'
ক্ষণে ক্ষণে তন্দ্রা ভেঙে
       মন শুধাল যবে
বলেছিলেম, "আর কিছু নয়,
       স্বপ্ন আমার হবে।'
মাঝ-গগনে সপ্ত-ঋষি
       স্তব্ধ গভীর রাতে
জানলা হতে আমায় যেন
       ডাকল ইশারাতে।
    মনে হল "শয়ন ফেলে,
    দিই-না কেন আলো জ্বেলে'--
আলসভরে রইনু শুয়ে
       হল না দীপ জ্বালা।
প্রহর পরে কাটল প্রহর,
       বন্ধ রইল তালা।
জাগল কখন দখিন-হাওয়া
       কাঁপল বনের হিয়া,
স্বপ্নে কথা-কওয়ার মতো
       উঠল মর্মরিয়া।
    যুথীর গন্ধ ক্ষণে ক্ষণে
    মূর্ছিল মোর বাতায়নে,
শিহর দিয়ে গেল আমার
       সকল অঙ্গ চুমে।
জেগে উঠে আবার কখন
       ভরল নয়ন ঘুমে।
ভোরের তারা পুব-গগনে
       যখন হল গত
বিদায়রাতির একটি ফোঁটা
       চোখের জলের মতো,
    হঠাৎ মনে হল তবে--
    যেন কাহার করুণ রবে
শিরীষ ফুলের গন্ধে আকুল
       বনের বীথি ব্যেপে
শিশির-ভেজা তৃণগুলি
       উঠল কেঁপে কেঁপে।
শয়ন ছেড়ে উঠে তখন
       খুলে দিলেম দ্বার--
হায় রে, ধুলায় বিছিয়ে গেছে
        যূথীর মালা কার।
    ওই যে দূরে, নয়ন নত,
    বনের ছায়ায় ছায়ার মতো
মায়ার মতো মিলিয়ে গেল
       অরুণ-আলোয় মিশে,
ওই বুঝি মোর বাহির-দ্বারের
       রাতের অতিথি সে।
আজ হতে মোর ঘরের দুয়ার
       রাখব খুলে রাতে।
প্রদীপখানি রইবে জ্বালা
       বাহির-জানালাতে।
    আজ হতে কার পরশ লাগি
    পথ তাকিয়ে রইব জাগি--
আর কোনোদিন আসবে না কি
       আমার পরান ছেয়ে
যূথীর মালার গন্ধখানি
       রাতের বাতাস বেয়ে।
আরো দেখুন
21
Verses
       ঘাটে বসে আছি আনমনা,
              যেতেছে বহিয়া সুসময়।
       এ বাতাসে তরী ভাসাব না
              তোমা-পানে যদি নাহি বয়।
                             দিন যায় ওগো দিন যায়,
                                    দিনমণি যায় অস্তে।
                             নাহি হেরি বাট, দূরতীরে মাঠ
                                    ধূসর গোধূলিধূলিময়।
ঘরের ঠিকানা হল না গো,
       মন করে তবু যাই-যাই।
ধ্রুবতারা তুমি যেথা জাগ'
       সে দিকের পথ চিনি নাই।
                             এত দিন তরী বাহিলাম,
                                    বাহিলাম তরী যে পথে,
                             শতবার তরী ডুবুডুবু করি
                                    সে পথে ভরসা নাহি পাই।
তীর-সাথে হেরো শত ডোরে
       বাঁধা আছে মোর তরীখান।
রশি খুলে দেবে কবে মোরে,
       ভাসিতে পারিলে বাঁচে প্রাণ।
                             কোথা বুক-জোড়া খোলা হাওয়া,
                                    সাগরের খোলা হাওয়া কই!
                             কোথা মহাগান ভরি দিবে কান,
                                    কোথা সাগরের মহাগান!
আরো দেখুন
ক্ষণিকা
Verses
খোলো খোলো, হে আকাশ, স্তব্ধ তব নীল যবনিকা --
খুঁজে নিতে দাও সেই আনন্দের হারানো কণিকা।
কবে সে যে এসেছিল আমার হৃদয়ে যুগান্তরে
গোধূলিবেলার পান্থ জনশূন্য এ মোর প্রান্তরে
          লয়ে তার ভীরু দীপশিখা।
দিগন্তের কোন্‌ পারে চলে গেল আমার ক্ষণিকা।
ভেবেছিনু গেছি ভুলে; ভেবেছিনু পদচিহ্নগুলি
পদে পদে মুছে নিল সর্বনাশী অবিশ্বাসী ধূলি।
আজ দেখি সেদিনের সেই ক্ষীণ পদধ্বনি তার
আমার গানের ছন্দ গোপনে করেছে অধিকার;
          দেখি তারি অদৃশ্য অঙ্গুলি
স্বপ্নে অশ্রুসরোবরে ক্ষণে ক্ষণে দেয় ঢেউ তুলি।
বিরহের দূতী এসে তার সে স্তিমিত দীপখানি
চিত্তের অজানা কক্ষে কখন্‌ রাখিয়া দিল আনি।
সেখানে যে বীণা আছে অকস্মাৎ একটি আঘাতে
মুহূর্ত বাজিয়াছিল; তার পরে শব্দহীন রাতে
              বেদনাপদ্মের বীণাপাণি
সন্ধান করিছে সেই অন্ধকারে-থেমে-যাওয়া বাণী।
সেদিন ঢেকেছে তারে কী-এক ছায়ার সংকোচন,
নিজের অধৈর্য দিয়ে পারে নি তা করিতে মোচন।
তার সেই ত্রস্ত আঁখি সুনিবিড় তিমিরের তলে
যে রহস্য নিয়ে চলে গেল, নিত্য তাই পলে পলে
           মনে মনে করি যে লুণ্ঠন।
চিরকাল স্বপ্নে মোর খুলি তার সে অবগুণ্ঠন।
হে আত্মবিস্মৃত, যদি দ্রুত তুমি না যেতে চমকি,
বারেক ফিরায়ে মুখ পথমাঝে দাঁড়াতে থমকি,
তা হলে পড়িত ধরা রোমাঞ্চিত নিঃশব্দ নিশায়
দুজনের জীবনের ছিল যা চরম অভিপ্রায়।
          তা হলে পরমলগ্নে, সখী,
সে ক্ষণকালের দীপে চিরকাল উঠিত আলোকি!
হে পান্থ, সে পথে তব ধূলি আজ করি যে সন্ধান --
বঞ্চিত মুহূর্তখানি পড়ে আছে, সেই তব দান।
অপূর্ণের লেখাগুলি তুলে দেখি, বুঝিতে না পারি --
চিহ্ন কোনো রেখে যাবে, মনে তাই ছিল কি তোমারি।
           ছিন্ন ফুল, এ কি মিছে ভান।
কথা ছিল শুধাবার, সময় হল যে অবসান।
গেল না ছায়ার বাধা; না-বোঝার প্রদোষ-আলোকে
স্বপ্নের চঞ্চল মূর্তি জাগায় আমার দীপ্ত চোখে
সংশয়মোহের নেশা -- সে মূর্তি ফিরিছে কাছে কাছে
আলোতে আঁধারে মেশা, তবু সে অনন্ত দূরে আছে
          মায়াচ্ছন্ন লোকে।
অচেনার মরীচিকা আকুলিছে ক্ষণিকার শোকে।
খোলো খোলো, হে আকাশ, স্তব্ধ তব নীল যবনিকা।
খুঁজিব তারার মাঝে চঞ্চলের মালার মণিকা।
খুঁজিব সেথায় আমি যেথা হতে আসে ক্ষণতরে
আশ্বিনে গোধূলি-আলো, যেথা হতে নামে পৃথ্বী-'পরে
          শ্রাবণের সায়াহ্নযূথিকা,
যেথা হতে পরে ঝড় বিদ্যুতের ক্ষণদীপ্ত টিকা।
আরো দেখুন