৪০ (bhorer belay je jon pathale)

ভোরের বেলায় যে জন পাঠালে রঙিন মেঘের পাঁতি

আজ সে কি সাড়া দিয়েছে তোমায় শুভ্র আলোর সাথী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

দ্বিধা
Verses
     এসেছিলে তবু আস নাই, তাই
                        জানায়ে গেলে
     সমুখের পথে পলাতকা পদ-পতন ফেলে।
               তোমার সে উদাসীনতা
        উপহাসভরে জানালো কি মোর দীনতা।
সে কি ছল-করা অবহেলা, জানি না সে--
                   চপল চরণ সত্য কি ঘাসে ঘাসে
                             গেল উপেক্ষা মেলে।
          পাতায় পাতায় ফোঁটা ফোঁটা ঝরে জল,
                   ছলছল করে শ্যাম বনান্ততল।
                        তুমি কোথা দূরে কুঞ্জছায়াতে
                             মিলে গেলে কলমুখর মায়াতে,
                   পিছে পিছে তব ছায়ারৌদ্রের
                             খেলা গেলে তুমি খেলে।
আরো দেখুন
বসন্ত
Verses
ওগো বসন্ত, হে ভুবনজয়ী,
বাজে বাণী তব "মাভৈঃ মাভৈঃ',
             বন্দীরা পেল ছাড়া।
দিগন্ত হতে শুনি তব সুর
মাটি ভেদ করি উঠে অঙ্কুর,
             কারাগারে দিল নাড়া।
জীবনের রণে নব অভিযানে
ছুটিতে হবে-যে নবীনেরা জানে,
দলে দলে আসে আমের মুকুল
             বনে বনে দেয় সাড়া।
কিশলয়দল হল চঞ্চল,
উতল প্রাণের কলকোলাহল
             শাখায় শাখায় উঠে।
মুক্তির গানে কাঁপে চারি ধার,
কানা দানবের মানা-দেওয়া দ্বার
              আজ গেল সব টুটে।
মরুযাত্রার পাথেয়-অমৃতে
পাত্র ভরিয়া আসে চারিভিতে
অগণিত ফুল, গুঞ্জনগীতে
              জাগে মৌমাছিপাড়া।
ওগো বসন্ত, হে ভুবনজয়ী,
দুর্গ কোথায়, অস্ত্র বা কই,
              কেন সুকুমার বেশ।
মৃত্যুদমন শৌর্য আপন
কী মায়ামন্ত্রে করিলে গোপন,
              তূণ তব নিঃশেষ।
বর্ম তোমার পল্লবদলে,
আগ্নেয়বাণ বনশাখাতলে
জ্বলিছে শ্যামল শীতল অনলে
              সকল তেজের বাড়া।
জড়দৈত্যের সাথে অনিবার
চিরসংগ্রামঘোষণা তোমার
              লিখিছ ধূলির পটে--
মনোহর রঙে লিপি ভূমিতলে
যুদ্ধের বাণী বিস্তারি চলে
              সিন্ধুর তটে তটে।
হে অজেয়, তব রণভূমি-'পরে
সুন্দর তার উৎসব করে,
দক্ষিণবায়ু মর্মর স্বরে
              বাজায় কাড়া-নাকাড়া।
আরো দেখুন
শরতের শুকতারা
Verses
একাদশী রজনী
                   পোহায় ধীরে ধীরে--
রাঙা মেঘ দাঁড়ায়
                   উষারে ঘিরে ঘিরে।
ক্ষীণ চাঁদ নভের
                   আড়ালে যেতে চায়,
মাঝখানে দাঁড়ায়ে
                   কিনারা নাহি পায়।
বড়ো ম্লান হয়েছে
                   চাঁদের মুখখানি,
আপনাতে আপনি
                   মিশাবে অনুমানি।
হেরো দেখো কে ওই
                   এসেছে তার কাছে,
শুকতারা চাঁদের
                   মুখেতে চেয়ে আছে।
মরি মরি কে তুমি
                   একটুখানি প্রাণ,
কী না জানি এনেছ
                   করিতে ওরে দান।
চেয়ে দেখো আকাশে
                   আর তো কেহ নাই,
তারা যত গিয়েছে
                   যে যার নিজ ঠাঁই।
সাথীহারা চন্দ্রমা
                   হেরিছে চারি ধার,
শূন্য আহা নিশির
                   বাসর-ঘর তার!
শরতের প্রভাতে
                   বিমল মুখ নিয়ে
তুমি শুধু রয়েছে
                   শিয়রে দাঁড়াইয়ে।
ও হয়তো দেখিতে
                   পেলে না মুখ তোর!
ও হয়তো তারার
                   খেলার গান গায়,
ও হয়তো বিরাগে
                   উদাসী হতে চায়!
ও কেবল নিশির
                   হাসির অবশেষ!
ও কেবল অতীত
                   সুখের স্মৃতিলেশ!
দ্রুতপদে তাহারা
                   কোথায় চলে গেছে--
সাথে যেতে পারে নি
                   পিছনে পড় আছে!
কত দিন উঠেছ
                   নিশির শেষাশেষি,
দেখিয়াছ চাঁদেতে
                   তারাতে মেশামেশি!
দুই দণ্ড চাহিয়া
                   আবার চলে যেতে,
মুখখানি লুকাতে
                   উষার আঁচলেতে।
পুরবের একান্তে
                   একটু দিয়ে দেখা,
কী ভাবিয়া তখনি
                   ফিরিতে একা একা।
আজ তুমি দেখেছ
                   চাঁদের কেহ নাই,
স্নেহময়, আপনি
                   এসেছ তুমি তাই!
দেহখানি মিলায়
                   মিলায় বুঝি তার!
হাসিটুকু রহে না
                   রহে না বুঝি আর!
দুই দণ্ড পরে তো
                   রবে না কিছু হায়!
কোথা তুমি, কোথায়
                   চাঁদের ক্ষীণকায়!
কোলাহল তুলিয়া
                   গরবে আসে দিন,
দুটি ছোটো প্রাণের
                   লিখন হবে লীন।
সুখশ্রমে মলিন
                   চাঁদের একসনে
নবপ্রেম মিলাবে
                   কাহার রবে মনে!
আরো দেখুন