১৯৭ (mrittika khoraki diye)

মৃত্তিকা খোরাকি দিয়ে

      বাঁধে বৃক্ষটারে,

আকাশ আলোক দিয়ে

      মুক্ত রাখে তারে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

আগন্তুক
Verses
এসেছি সুদূর কাল থেকে।
                 তোমাদের কালে
                     পৌঁছলেম যে সময়ে
                       তখন আমার সঙ্গী নেই।
            ঘাটে ঘাটে কে কোথায় নেবে গেছে।
               ছোটো ছোটো চেনা সুখ যত,
                   প্রাণের উপকরণ,
                       দিনের রাতের মুষ্টিদান
                   এসেছি নিঃশেষ করে বহুদূর পারে।
              এ জীবনে পা দিয়েছি প্রথম যে কালে
                 সে কালের 'পরে অধিকার
                     দৃঢ় হয়েছিল দিনে দিনে
                       ভাবে ও ভাষায়
                            কাজে ও ইঙ্গিতে,
                 প্রণয়ের প্রাত্যহিক দেনাপাওনায়।
হেসে খেলে কোনোমতে সকলের সঙ্গে বেঁচে থাকা,
                 লোকযাত্রারথে
      কিছু কিছু গতিবেগ দেওয়া,
শুধু উপস্থিত থেকে প্রাণের আসরে
      ভিড় জমা করা,
           এই তো যথেষ্ট ছিল।
      আজ তোমাদের কালে
           প্রবাসী অপরিচিত আমি।
                 আমাদের ভাষার ইশারা
      নিয়েছে নূতন অর্থ তোমাদের মুখে।
           ঋতুর বদল হয়ে গেছে, --
      বাতাসের উলটো-পালটা ঘ'টে
           প্রকৃতির হল বর্ণভেদ।
      ছোটো ছোটো বৈষম্যের দল
                 দেয় ঠেলা,
           করে হাসাহাসি।
           রুচি আশা অভিলাষ
                 যা মিশিয়ে জীবনের স্বাদ,
           তার হল রসবিপর্যয়।
      আমাদের সেকালকে যে সঙ্গ দিয়েছি
           যতই সামান্য হোক মূল্য তার
      তবু সেই সঙ্গসূত্রে গাঁথা হয়ে মানুষে মানুষে
                 রচেছিল যুগের স্বরূপ, --
           আমার সে সঙ্গ আজ
      মেলে না যে তোমাদের প্রত্যহের মাপে।
      কালের নৈবেদ্যে লাগে যে-সকল আধুনিক ফুল
           আমার বাগানে ফোটে না সে।
      তোমাদের যে বাসার কোণে থাকি
           তার খাজনার কড়ি হাতে নেই।
      তাই তো আমাকে দিতে হবে
           বড়ো কিছু দান
                দানের একান্ত দুঃসাহসে।
      উপস্থিত কালের যা দাবি
           মিটাবার জন্যে সে তো নয়,
      তাই যদি সেই দান তোমাদের রুচিতে না লাগে,
           তবে তার বিচার সে পরে হবে।
      তবু যা সম্বল আছে তাই দিয়ে
      একালের ঋণ শোধ করে অবশেষে
           ঋণী তারে রেখে যাই যেন।
      যা আমার লাভক্ষতি হতে বড়ো,
           যা আমার সুখদুঃখ হতে বেশি--
      তাই যেন শেষ করে দিয়ে চলে যাই
           স্তুতি নিন্দা হিসাবের অপেক্ষা না রেখে।
আরো দেখুন
সমাপ্তি
Verses
  বন্ধ হয়ে এল স্রোতের ধারা,
           শৈবালেতে আটক প'ল তরী।
  নৌকা-বাওয়া এবার করো সারা--
           নাই রে হাওয়া, পাল নিয়ে কী করি।
  এখন তবে চলো নদীর তটে,
           গোধূলিতে আকাশ হল রাঙা।
  পশ্চিমেতে আঁকা আগুন-পটে
           বাব্‌লাবনে ওই দেখা যায় ডাঙা।
                ভেসো না আর, যেয়ো না আর ভেসে--
                চলো এখন, যাবে যে দূরদেশে।
  এখন তোমায় তারার ক্ষীণালোকে
           চলতে হবে মাঠের পথে একা।
  গিরি কানন পড়বে কি আর চোখে,
           কুটিরগুলি যাবে কি আর দেখা।
           পিছন হতে দখিন-সমীরণে
           ফুলের গন্ধ আসবে আঁধার বেয়ে,
  অসময়ে হঠাৎ ক্ষণে ক্ষণে
           আবেশেতে দিবে হৃদয় ছেয়ে।
                চলো এবার, কোরো না আর দেরি--
                মেঘের আভাস আকাশ-কোণে হেরি।
  হাটের সাথে ঘাটের সাথে আজি
           ব্যাবসা তোর বন্ধ হয়ে গেল।
  এখন ঘরে আয় রে ফিরে মাঝি,
           আঙিনাতে আসনখানি মেলো।
  ভুলে যা রে দিনের আনাগোনা,
           জ্বালতে হবে সারা রাতের আলো।
  শ্রান্ত ওরে, রেখে দে জাল-বোনা,
           গুটিয়ে ফেলো সকল মন্দ ভালো।
                ফিরিয়ে আনো ছড়িয়ে-পড়া মন--
                সফল হোক সকল সমাপন।
আরো দেখুন
মুক্তি
Verses
     ডাক্তারে যা বলে বলুক নাকো,
               রাখো রাখো খুলে রাখো,
শিয়রের ওই জানলা দুটো,--গায়ে লাগুক হাওয়া।
     ওষুধ? আমার ফুরিয়ে গেছে ওষুধ খাওয়া।
     তিতো কড়া কত ওষুধ খেলেম এ জীবনে,
               দিনে দিনে ক্ষণে ক্ষণে।
          বেঁচে থাকা, সেই যেন এক রোগ;
          কত রকম কবিরাজি, কতই মুষ্টিযোগ,
     একটুমাত্র অসাবধানেই, বিষম কর্মভোগ।
     এইটে ভালো, ঐটে মন্দ, যে যা বলে সবার কথা মেনে,
                   নামিয়ে চক্ষু, মাথায় ঘোমটা টেনে,
        বাইশ বছর কাটিয়ে দিলেম এই তোমাদের ঘরে।
                   তাই তো ঘরে পরে,
               সবাই আমায় বললে লক্ষ্মী সতী,
                   ভালোমানুষ অতি!
          এ সংসারে এসেছিলেম ন-বছরের মেয়ে,
          তার পরে এই পরিবারের দীর্ঘ গলি বেয়ে
দশের ইচ্ছা বোঝাই-করা এই জীবনটা টেনে টেনে শেষে
               পৌঁছিনু আজ পথের প্রান্তে এসে।
                   সুখের দুখের কথা
               একটুখানি ভাবব এমন সময় ছিল কোথা।
এই জীবনটা ভালো, কিংবা মন্দ, কিংবা যা-হ'ক-একটা-কিছু
          সে-কথাটা বুঝব কখন, দেখব কখন ভেবে আগুপিছু।
                    একটানা এক ক্লান্ত সুরে
               কাজের চাকা চলছে ঘুরে ঘুরে।
          বাইশ বছর রয়েছি সেই এক-চাকাতেই বাঁধা
                   পাকের ঘোরে আঁধা।
     জানি নাই তো আমি যে কী, জানি নাই এ বৃহৎ বসুন্ধরা
               কী অর্থে যে ভরা।
          শুনি নাই তো মানুষের কী বাণী
     মহাকালের বীণায় বাজে। আমি কেবল জানি,
     রাঁধার পরে খাওয়া, আবার খাওয়ার পরে রাঁধা,
          বাইশ বছর এক-চাকাতেই বাঁধা।
     মনে হচ্ছে সেই চাকাটা--ঐ যে থামল যেন;
          থামুক তবে। আবার ওষুধ কেন।
     বসন্তকাল বাইশ বছর এসেছিল বনের আঙিনায়।
               গন্ধে বিভোল দক্ষিণ বায়
          দিয়েছিল জলস্থলের মর্ম-দোলায় দোল;
          হেঁকেছিল, "খোল্‌ রে দুয়ার খোল্‌।"
সে যে কখন আসত যেত জানতে পেতেম না যে।
                   হয়তো মনের মাঝে
          সংগোপনে দিত নাড়া; হয়তো ঘরের কাজে
          আচম্বিতে ভুল ঘটাত; হয়তো বাজত বুকে
          জন্মান্তরের ব্যথা; কারণ-ভোলা দুঃখে সুখে
হয়তো পরান রইত চেয়ে যেন রে কার পায়ের শব্দ শুনে,
                   বিহ্বল ফাল্গুনে।
          তুমি আসতে আপিস থেকে, যেতে সন্ধ্যাবেলায়
               পাড়ায় কোথা শতরঞ্জ খেলায়।
                   থাক্‌ সে-কথা।
আজকে কেন মনে আসে প্রাণের যত ক্ষণিক ব্যাকুলতা।
          প্রথম আমার জীবন এই বাইশ বছর পরে
               বসন্তকাল এসেছে মোর ঘরে।
          জানলা দিয়ে চেয়ে আকাশ-পানে
     আনন্দে আজ ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠছে প্রাণে--
               আমি নারী, আমি মহীয়সী,
আমার সুরে সুর বেঁধেছে জ্যোৎস্না-বীণায় নিদ্রাবিহীন শশী।
          আমি নইলে মিথ্যা হত সন্ধ্যাতারা ওঠা,
               মিথ্যা হত কাননে ফুল-ফোটা।
                   বাইশ বছর ধরে
     মনে ছিল বন্দী আমি অনন্তকাল তোমাদের এই ঘরে।
          দুঃখ তবু ছিল না তার তরে,
অসাড় মনে দিন কেটেছে, আরো কাটত আরো বাঁচলে পরে।
                   যেথায় যত জ্ঞাতি
          লক্ষ্মী বলে করে আমার খ্যাতি;
     এই জীবনে সেই যেন মোর পরম সার্থকতা--
          ঘরের কোণে পাঁচের মুখের কথা!
               আজকে কখন মোর
               কাটল বাঁধন-ডোর।
     জনম-মরণ এক হয়েছে ওই যে অকূল বিরাট মোহানায়,
               ঐ অতলে কোথায় মিলে যায়
               ভাঁড়ার-ঘরের দেয়াল যত
                   একটু ফেনার মতো।
               এতদিনে প্রথম যেন বাজে
          বিয়ের বাঁশি বিশ্ব-আকাশ মাঝে।
তুচ্ছ বাইশ বছর আমার ঘরের কোণের ধুলায় পড়ে থাক।
          মরণ-বাসরঘরে আমায় যে দিয়েছে ডাক
     দ্বারে আমার প্রার্থী সে যে, নয় সে কেবল প্রভু,
               হেলা আমায় করবে না সে কভু।
                   চায় সে আমার কাছে
     আমার মাঝে গভীর গোপন যে সুধারস আছে
               গ্রহতারার সভার মাঝখানে সে
ঐ যে আমার মুখে চেয়ে দাঁড়িয়ে হোথায় রইল নির্নিমেষে।
                   মধুর ভুবন, মধুর আমি নারী,
          মধুর মরণ, ওগো আমার অনন্ত ভিখারি।
                   দাও, খুলে দাও দ্বার,
     ব্যর্থ বাইশ বছর হতে পার করে দাও কালের পারাবার।
আরো দেখুন