সমাপ্তি (somapti)

  বন্ধ হয়ে এল স্রোতের ধারা,

           শৈবালেতে আটক প'ল তরী।

  নৌকা-বাওয়া এবার করো সারা--

           নাই রে হাওয়া, পাল নিয়ে কী করি।

  এখন তবে চলো নদীর তটে,

           গোধূলিতে আকাশ হল রাঙা।

  পশ্চিমেতে আঁকা আগুন-পটে

           বাব্‌লাবনে ওই দেখা যায় ডাঙা।

                ভেসো না আর, যেয়ো না আর ভেসে--

                চলো এখন, যাবে যে দূরদেশে।

 

  এখন তোমায় তারার ক্ষীণালোকে

           চলতে হবে মাঠের পথে একা।

  গিরি কানন পড়বে কি আর চোখে,

           কুটিরগুলি যাবে কি আর দেখা।

           পিছন হতে দখিন-সমীরণে

           ফুলের গন্ধ আসবে আঁধার বেয়ে,

  অসময়ে হঠাৎ ক্ষণে ক্ষণে

           আবেশেতে দিবে হৃদয় ছেয়ে।

                চলো এবার, কোরো না আর দেরি--

                মেঘের আভাস আকাশ-কোণে হেরি।

 

  হাটের সাথে ঘাটের সাথে আজি

           ব্যাবসা তোর বন্ধ হয়ে গেল।

  এখন ঘরে আয় রে ফিরে মাঝি,

           আঙিনাতে আসনখানি মেলো।

  ভুলে যা রে দিনের আনাগোনা,

           জ্বালতে হবে সারা রাতের আলো।

  শ্রান্ত ওরে, রেখে দে জাল-বোনা,

           গুটিয়ে ফেলো সকল মন্দ ভালো।

                ফিরিয়ে আনো ছড়িয়ে-পড়া মন--

                সফল হোক সকল সমাপন।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

73
Verses
III. 26. ayau din gaune ka ho
THE PALANQUIN came to take me away to my husband's home, and it sent through my heart a thrill of joy;
But the bearers have brought me into the lonely forest, where I have no one of my own.
O bearers, I entreat you by your feet, wait but a moment longer: let me go back to my kinsmen and friends, and take my leave of them.
The servant Kabir sings: 'O Sadhu! finish your buying and selling, have done with your good and your bad: for there are no markets and no shops in the land to which you go.'
আরো দেখুন
বিচিত্র সাধ
Verses
আমি যখন পাঠশালাতে যাই
    আমাদের এই বাড়ির গলি দিয়ে,
দশটা বেলায় রোজ দেখতে পাই
    ফেরিওলা যাচ্ছে ফেরি নিয়ে।
"চুড়ি চা--ই, চুড়ি চাই' সে হাঁকে,
চীনের পুতুল ঝুড়িতে তার থাকে,
যায় সে চলে যে পথে তার খুশি,
    যখন খুশি খায় সে বাড়ি গিয়ে।
দশটা বাজে, সাড়ে দশটা বাজে,
    নাইকো তাড়া হয় বা পাছে দেরি।
ইচ্ছে করে সেলেট ফেলে দিয়ে
    অম্‌নি করে বেড়াই নিয়ে ফেরি।
আমি যখন হাতে মেখে কালি
    ঘরে ফিরি, সাড়ে চারটে বাজে,
কোদাল নিয়ে মাটি কোপায় মালী
    বাবুদের ওই ফুল-বাগানের মাঝে।
কেউ তো তারে মানা নাহি করে
কোদাল পাছে পড়ে পায়ের 'পরে।
গায়ে মাথায় লাগছে কত ধুলো,
    কেউ তো এসে বকে না তার কাজে।
মা তারে তো পরায় না সাফ জামা,
    ধুয়ে দিতে চায় না ধুলোবালি।
ইচ্ছে করে আমি হতেম যদি
    বাবুদের ওই ফুল-বাগানের মালী।
একটু বেশি রাত না হতে হতে
       মা আমারে ঘুম পাড়াতে চায়।
  জানলা দিয়ে দেখি চেয়ে পথে
       পাগড়ি প'রে পাহারওলা যায়।
  আঁধার গলি, লোক বেশি না চলে,
  গ্যাসের আলো মিট্‌মিটিয়ে জ্বলে,
  লণ্ঠনটি ঝুলিয়ে নিয়ে হাতে
       দাঁড়িয়ে থাকে বাড়ির দরজায়।
  রাত হয়ে যায় দশটা এগারোটা
       কেউ তো কিছু বলে না তার লাগি।
  ইচ্ছে করে পাহারওলা হয়ে
       গলির ধারে আপন মনে জাগি।
আরো দেখুন
আরম্ভ ও শেষ
Verses
শেষ কহে, একদিন সব শেষ হবে,
হে আরম্ভ, বৃথা তব অহংকার তবে।
আরম্ভ কহিল ভাই, যেথা শেষ হয়
সেইখানে পুনরায় আরম্ভ-উদয়।
আরো দেখুন