৪৭ (kothin pathor kati)

কঠিন পাথর কাটি

      মূর্তিকর গড়িছে প্রতিমা।

অসীমের রূপ দিক্‌

      জীবনের বাধাময় সীমা।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

252
Verses
হাসিমুখে শুকতারা
     লিখে গেল ভোররাতে
আলোকের আগমনী
     আঁধারের শেষপাতে।
আরো দেখুন
চৌরপঞ্চাশিকা
Verses
ওগো সুন্দর চোর,
বিদ্যা তোমার কোন্‌ সন্ধ্যার
       কনকচাঁপার ডোর!
কত বসন্ত চলি গেছে হায়,
কত কবি আজি কত গান গায়,
কোথা রাজবালা চিরশয্যায়--
       ওগো সুন্দর চোর,
কোনো গানে আর ভাঙে না যে তার
       অনন্ত ঘুমঘোর।
       ওগো সুন্দর চোর,
কত কাল হল কবে সে প্রভাতে
       তব প্রেমনিশি ভোর!
কবে নিবে গেছে নাহি তাহা লিখা
তোমার বাসরে দীপানলশিখা,
খসিয়া পড়েছে সোহাগলতিকা--
       ওগো সুন্দর চোর,
শিথিল হয়েছে নবীন প্রেমের
       বাহুপাশ সুকঠোর।
       তবু সুন্দর চোর,
মৃত্যু হারায়ে কেঁদে কেঁদে ঘুরে
       পঞ্চাশ শ্লোক তোর।
পঞ্চাশ বার ফিরিয়া ফিরিয়া
বিদ্যার নাম ঘিরিয়া ঘিরিয়া
তীব্র ব্যথায় মর্ম চিরিয়া
       ওগো সুন্দর চোর,
যুগে যুগে তারা কাঁদিয়া মরিছে
       মূঢ় আবেগে ভোর।
       ওগো সুন্দর চোর,
অবোধ তাহারা, বধির তাহারা,
       অন্ধ তাহারা ঘোর।
দেখে না শোনে না কে আসে কে যায়,
জানে না কিছুই কারে তারা চায়,
শুধু এক নাম এক সুরে গায়--
       ওগো সুন্দর চোর,
না জেনে না বুঝে ব্যর্থ ব্যথায়
       ফেলিছে নয়নলোর।
       ওগো সুন্দর চোর,
এক সুরে বাঁধা পঞ্চাশ গাথা
       শুনে মনে হয় মোর--
রাজভবনের গোপনে পালিত,
রাজবালিকার সোহাগে লালিত,
তব বুকে বসি শিখেছিল গীত
       ওগো সুন্দর চোর,
পোষা শুক সারী মধুরকণ্ঠ
       যেন পঞ্চাশ-জোড়।
       ওগো সুন্দর চোর,
তোমারি রচিত সোনার ছন্দ-
       পিঞ্জরে তারা ভোর।
দেখিতে পায় না কিছু চারি ধারে,
শুধু চিরনিশি গাহে বারে বারে
তোমাদের চির শয়নদুয়ারে--
       ওগো সুন্দর চোর,
আজি তোমাদের দুজনের চোখে
       অনন্ত ঘুমঘোর।
আরো দেখুন
বিদায়
Verses
তবে আমি যাই গো তবে যাই
     ভোরের বেলা শূন্য কোলে
     ডাকবি যখন খোকা বলে,
বলব আমি, "নাই সে খোকা নাই।'
          মা গো, যাই।
     হাওয়ার সঙ্গে হাওয়া হয়ে
     যাব মা, তোর বুকে বয়ে,
ধরতে আমায় পারবি নে তো হাতে।
     জলের মধ্যে হব মা, ঢেউ,
     জানতে আমায় পারবে না কেউ --
স্নানের বেলা খেলব তোমার সাথে।
     বাদলা যখন পড়বে ঝরে
     রাতে শুয়ে ভাববি মোরে,
ঝর্‌ঝরানি গান গাব ওই বনে।
     জানলা দিয়ে মেঘের থেকে
     চমক মেরে যাব দেখে,
আমার হাসি পড়বে কি তোর মনে।
খোকার লাগি তুমি মা গো,
          অনেক রাতে যদি জাগ
     তারা হয়ে বলব তোমায়, "ঘুমো!'
          তুই ঘুমিয়ে পড়লে পরে
          জ্যোৎস্না হয়ে ঢুকব ঘরে,
     চোখে তোমার খেয়ে যাব চুমো।
          স্বপন হয়ে আঁখির ফাঁকে
         দেখতে আমি আসব মাকে,
     যাব তোমার ঘুমের মধ্যিখানে।
          জেগে তুমি মিথ্যে আশে
          হাত বুলিয়ে দেখবে পাশে --
     মিলিয়ে যাব কোথায় কে তা জানে।
          পুজোর সময় যত ছেলে
          আঙিনায় বেড়াবে খেলে,
     বলবে "খোকা নেই রে ঘরের মাঝে'।
          আমি তখন বাঁশির সুরে
          আকাশ বেয়ে ঘুরে ঘুরে
     তোমার সাথে ফিরব সকল কাজে।
          পুজোর কাপড় হাতে ক'রে
          মাসি যদি শুধায় তোরে,
     "খোকা তোমার কোথায় গেল চলে।'
          বলিস "খোকা সে কি হারায়,
          আছে আমার চোখের তারায়,
     মিলিয়ে আছে আমার বুকে কোলে।'
আরো দেখুন