২৫২ (hasimukhe shuktara)

হাসিমুখে শুকতারা

     লিখে গেল ভোররাতে

আলোকের আগমনী

     আঁধারের শেষপাতে।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

স্নেহগ্রাস
Verses
অন্ধ মোহবন্ধ তব দাও মুক্ত করি--
রেখো না বসায়ে দ্বারে জাগ্রত প্রহরী
হে জননী, আপনার স্নেহ-কারাগারে
সন্তানেরে চিরজন্ম বন্দী রাখিবারে।
বেষ্টন করিয়া তারে আগ্রহ-পরশে,
জীর্ণ করি দিয়া তারে লালনের রসে,
মনুষ্যত্ব-স্বাধীনতা করিয়া শোষণ
আপন ক্ষুধিত চিত্ত করিবে পোষণ?
দীর্ঘ গর্ভবাস হতে জন্ম দিলে যার
স্নেহগর্ভে গ্রাসিয়া কি রাখিবে আবার?
চলিবে সে এ সংসারে তব পিছু-পিছু?
সে কি শুধু অংশ তব, আর নহে কিছু?
নিজের সে, বিশ্বের সে, বিশ্বদেবতার--
সন্তান নহে, গো মাতঃ, সম্পত্তি তোমার।
আরো দেখুন
কেন গান গাই
Verses
গুরুভার মন লয়ে                  কত বা বেড়াবি ব'য়ে?
                   এমন কি কেহ তোর নাই,
যাহার হৃদয়-'পরে                 মিলিবে মুহূর্ত তরে
          হৃদয়টি রাখিবার ঠাঁই?
          "কেহ না, কেহ না!'
          সংসারে যে দিকে ফিরে চাই
          এমন কি কেহ তোর নাই--
তোর দিন শেষ হলে,             স্মৃতিখানি লয়ে কোলে,
          শোয়াইয়া বিষাদের কোমল শয়নে,
বিমল শিশির-মাখা                 প্রেম-ফুলে দিয়ে ঢাকা
          চেয়ে রবে আনত নয়নে?
          হৃদয়েতে রেখে দিবে তুলে,
          প্রতিদিন ঢেকে দিবে ফুলে,
মনোমাঝে প্রবেশিয়ে               বিন্দু বিন্দু অশ্রু দিয়ে
          বৃন্ত-ছিন্ন প্রেম-ফুলগুলি
          রাখিবেক জিয়াইয়া তুলি?
          এমন কি কেহ তোর নাই?
          "কেহ না, কেহ না!'
প্রাণ তুই খুলে দিলি              ভালোবাসা বিলাইলি
          কেহ তাহা তুলে না লইল,
          ভূমিতলে পড়িয়া রহিল;
          ভালোবাসা কেন দিলি তবে
          কেহ যদি কুড়ায়ে না লবে?
               কেন সখা কেন?
               "জানি না, জানি না!'
বিজনে বনের মাঝে                ফুল এক আছে ফুটে
          শুধাইতে গেনু তার কাছে,
"ফুল, তুই এ আঁধারে  পরিমল দিস কারে,
          এ কাননে কে বা তোর আছে!
               যখন পড়িবি তুই ঝরে,
শুকাইয়া দলগুলি                  ধূলিতে হইবে ধূলি,
          মনে কি করিবে কেহ তোরে!
তবে কেন পরিমল                 ঢেলে দিস অবিরল
          ছোটো মনখানি ভ'রে ভ'রে?
               কেন, ফুল, কেন?
          সেও বলে, "জানি না। জানি না!'
          সখা, তুমি গান গাও কেন?
          কেহ যদি শুনিতে না চায়?
ওই দেখো পথমাঝে               যে যাহার নিজ কাজে
          আপনার মনে চলে যায়।
          কেহ যদি শুনিতে না চায়
          কেন তবে, কেন গাও গান,
আকাশে ঢালিয়া দাও প্রাণ?
গান তব ফুরাইবে যবে,
রাগিণী কারো কি মনে রবে?
          বাতাসেতে স্বরধার                খেলিয়াছে অনিবার,
                   বাতাসে সমাধি তার হবে।
কাহারো মনেও নাহি রবে,
কেন সখা গান গাও তবে?
   কেন, সখা, কেন?
      "জানি না, জানি না!'
          বিজন তরুর শাখে                 একাকি পাখিটি ডাকে,
                   শুধাইতে গেনু তার কাছে,
          "পাখি তুই এ আঁধারে            গান শুনাইবি কারে?
                   এ কাননে কে বা তোর আছে!
যখনি ফুরাবে তোর প্রাণ,
যখনি থামিবে তোর গান,
বন ছিল যেমন নীরবে,
তেমনি নীরব পুন হবে।
          যেমনি থামিবে গীত,              অমনি সে সচকিত
                   প্রতিধ্বনি আকাশে মিলাবে,
                   তোর গান তোরি সাথে যাবে!
                   আকাশে ঢালিয়া দিয়া প্রাণ,
                   তবে, পাখি, কেন গাস গান?
                        কেন, পাখি, কেন?
                   সেও বলে, "জানি না, জানি না!'
আরো দেখুন
21
Verses
রক্তমাখা দন্তপংক্তি হিংস্র সংগ্রামের
শত শত নগরগ্রামের
অন্ত্র আজ ছিন্ন ছিন্ন করে;
ছুটে চলে বিভীষিকা মূর্ছাতুর দিকে দিগন্তরে।
বন্যা নামে যমলোক হতে,
রাজ্যসাম্রাজ্যের বাঁধ লুপ্ত করে সর্বনাশা স্রোতে।
যে লোভ-রিপুরে
লয়ে গেছে যুগে যুগে দূরে দূরে
সভ্য শিকারীর দল পোষমানা শ্বাপদের মতো,
দেশবিদেশের মাংস করেছে বিক্ষত,
লোলজিহ্বা সেই কুকুরের দল
অন্ধ হয়ে ছিঁড়িল শৃঙ্খল,
ভুলে গেল আত্মপর;
আদিম বন্যতা তার উদ্‌বারিয়া উদ্দাম নখর
পুরাতন ঐতিহ্যের পাতাগুলা ছিন্ন করে,
ফেলে তার অক্ষরে অক্ষরে
পঙ্কলিপ্ত চিহ্নের বিকার।
অসন্তুষ্ট বিধাতার
ওরা দূত বুঝি,
শত শত বর্ষের পাপের পুঁজি
ছড়াছড়ি করে দেয় এক সীমা হতে সীমান্তরে,
রাষ্ট্রমদমত্তদের মদ্যভান্ড চূর্ণ করে
আবর্জনাকুণ্ডতলে।
মানব আপন সত্তা ব্যর্থ করিয়াছে দলে দলে,
বিধাতার সংকল্পের নিত্যই করেছে বিপর্যয়
ইতিহাসময়।
সেই পাপে
আত্মহত্যা-অভিশাপে
আপনার সাধিছে বিলয়।
হয়েছে নির্দয়
আপন ভীষণ শত্রু আপনার 'পরে,
ধূলিসাৎ করে
ভুরিভোজী বিলাসীর
ভাণ্ডারপ্রাচীর।
শ্মশানবিহারবিলাসিনী
ছিন্নমস্তা,মুহূর্তেই মানুষের সুখস্বপ্ন জিনি
বক্ষ ভেদি দেখা দিল আত্মহারা,
শতস্রোতে নিজ রক্তধারা
নিজে করি পান।
এ কুৎসিত লীলা যবে হবে অবসান,
বীভৎস তান্ডবে
এ পাপযুগের অন্ত হবে,
মানব তপস্বীবেশে
চিতাভস্মশয্যাতলে  এসে
নবসৃষ্টি-ধ্যানের আসনে
স্থান লবে নিরাসক্তমনে--
আজি সেই সৃষ্টির আহ্বান
ঘোষিছে কামান।
আরো দেখুন