৮৫ (chahichhe keet moumachhir)

চাহিছে কীট মৌমাছির

      পাইতে অধিকার--

করিল নত ফুলের শির

      দারুণ প্রেম তার।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

জল
Verses
                                  ধরাতলে
                 চঞ্চলতা সব-আগে নেমেছিল জলে।
                       সবার প্রথম ধ্বনি উঠেছিল জেগে
                                        তারি স্রোতোবেগে।
                                  তরঙ্গিত গতিমত্ত সেই জল
                            কলোল্লোলে উদ্‌বেল উচ্ছল
                       শৃঙ্খলিত ছিল স্তব্ধ পুকুরে আমার,
                 নৃত্যহীন ঔদাসীন্যে অর্থহীন শূন্যদৃষ্টি তার।
                       গান নাই, শব্দের তরণী হোথা ডোবা,
                                        প্রাণ হোথা বোবা।
                 জীবনের রঙ্গমঞ্চে ওখানে রয়েছে পর্দা টানা,
                       ওইখানে কালো বরনের মানা।
                            ঘটনার স্রোত নাহি বয়,
                                  নিস্তব্ধ সময়।
                 হোথা হতে তাই মনে দিত সাড়া
                                  সময়ের বন্ধ-ছাড়া
                       ইতিহাস-পলাতক কাহিনীর কত
                            সৃষ্টিছাড়া সৃষ্টি নানামতো।
                                  উপরের তলা থেকে
                                           চেয়ে দেখে
                 না-দেখা গভীরে ওর মায়াপুরী এঁকেছিনু মনে।
                       নাগকন্যা মানিকদর্পণে
                            সেথায় গাঁথিছে বেণী,
                       কুঞ্চিত লহরিকার শ্রেণী
                            ভেসে যায় বেঁকে বেঁকে
                 যখন বিকেলে হাওয়া জাগিয়া উঠিত থেকে থেকে।
                       তীরে যত গাছপালা পশুপাখি
                    তারা আছে অন্যলোকে, এ শুধু একাকী।
                                        তাই সব
                       যত কিছু অসম্ভব
                             কল্পনার মিটাইত সাধ,
                 কোথাও ছিল না তার প্রতিবাদ।
                            তার পরে মনে হল একদিন,
                 সাঁতারিতে পেল যারা পৃথিবীতে তারাই স্বাধীন,
                            বন্দী তারা যারা পায় নাই।
                                  এ আঘাত প্রাণে নিয়ে চলিলাম তাই
                 ভূমির নিষেধগণ্ডি হতে পার।
                       অনাত্মীয় শত্রুতার
                            সংশয় কাটিল ধীরে ধীরে,
                                  জলে আর তীরে
                 আমারে মাঝেতে নিয়ে হল বোঝাপড়া।
                                  আঁকড়িয়া সাঁতারের ঘড়া
                       অপরিচয়ের বাধা উত্তীর্ণ হয়েছি দিনে দিনে,
                            অচেনার প্রান্তসীমা লয়েছিনু চিনে।
                                  পুলকিত সাবধানে
                            নামিতাম স্নানে,
                       গোপন তরল কোন্‌ অদৃশ্যের স্পর্শ সর্ব গায়ে
                                  ধরিত জড়ায়ে।
                            হর্ষ-সাথে মিলি ভয়
                                  দেহময়
                       রহস্য ফেলিত ব্যাপ্ত করি।
                       পূর্বতীরে বৃদ্ধ বট প্রাচীন প্রহরী
                 গ্রন্থিল শিকড়গুলো কোথায় পাঠাত নিরালোকে
                            যেন পাতালের নাগলোকে।
                       এক দিকে দূর আকাশের সাথে
                                  দিনে রাতে
                       চলে তার আলোকছায়ার আলাপন,
                 অন্য দিকে দূর নিঃশব্দের তলে নিমজ্জন
                                  কিসের সন্ধানে
                       অবিচ্ছিন্ন প্রচ্ছন্নের পানে।
                                  সেই পুকুরের
                       ছিনু আমি দোসর দূরের
                                  বাতায়নে বসি নিরালায়,
                 বন্দী মোরা উভয়েই জগতের ভিন্ন কিনারায়;
                       তার পরে দেখিলাম, এ পুকুর এও বাতায়ন--
                 এক দিকে সীমা বাঁধা, অন্য দিকে মুক্ত সারাক্ষণ।
                            করিয়াছি পারাপার
                                  যত শত বার
                       ততই এ তটে-বাঁধা জলে
                                  গভীরের বক্ষতলে
                       লভিয়াছি প্রতি ক্ষণে বাধা-ঠেলা স্বাধীনের জয়,
                                  গেছে চলি ভয়।
আরো দেখুন
রাত্রি
Verses
মোরে করো সভাকবি ধ্যানমৌন তোমার সভায়
           হে শর্বরী, হে অবগুণ্ঠিতা!
তোমার আকাশ জুড়ি যুগে যুগে জপিছে যাহারা
          বিরচিত তাহাদের গীতা।
তোমার তিমিরতলে যে বিপুল নিঃশব্দ উদ্‌যোগ
          ভ্রমিতেছে জগতে জগতে
আমারে তুলিয়া লও সেই তার ধ্বজচক্রহীন
          নীরবঘর্ঘর মহারথে।
তুমি একেশ্বরী রানী বিশ্বের অন্তর-অন্তঃপুরে
          সুগম্ভীরা হে শ্যামাসুন্দরী,
দিবসের ক্ষয়হীন বিরাট ভাণ্ডারে প্রবেশিয়া
          নীরবে রাখিছ ভাণ্ড ভরি।
নক্ষত্র-রতন-দীপ্ত নীলাকান্ত সুপ্তিসিংহাসনে
          তোমার মহান্‌ জাগরণ।
আমারে জাগায়ে রাখো সে নিস্তব্ধ জাগরণতলে
          নির্নিমেষ পূর্ণ সচেতন।
কত নিদ্রাহীন চক্ষু যুগে যুগে তোমার আঁধারে
          খুঁজেছিল প্রশ্নের উত্তর।
তোমার নির্বাক মুখে একদৃষ্টে চেয়েছিল বসি
          কত ভক্ত জুড়ি দুই কর।
দিবস মুদিলে চক্ষু, ধীরপদে কৌতূহলীদল
          অঙ্গনে পশিয়া সাবধানে
তব দীপহীন কক্ষে সুখদুঃখ জন্মমরণের
          ফিরিয়াছে গোপন সন্ধানে।
স্তম্ভিত তমিস্রপুঞ্জ কম্পিত করিয়া অকস্মাৎ
          অর্ধরাত্রে উঠেছে উচ্ছ্বাসি
সদ্যস্ফুট ব্রহ্মমন্ত্র আন্দোলিত ঋষিকণ্ঠ হতে
          আন্দোলিয়া ঘন তন্দ্রারাশি।
পীড়িত ভুবন লাগি মহাযোগী করুণাকাতর,
          চকিতে বিদ্যুৎরেখাবৎ
তোমার নিখিললুপ্ত অন্ধকারে দাঁড়ায়ে একাকী
          দেখেছে বিশ্বের মুক্তিপথ।
জগতের সে-সব যামিনীর জাগরূকদল
          সঙ্গীহীন তব সভাসদ্‌
কে কোথা বসিয়া আছে আজি রাত্রে ধরণীর মাঝে,
          গনিতেছে গোপন সম্পদ--
কেহ কারে নাহি জানে, আপনার স্বতন্ত্র আসনে
          আসীন স্বাধীন স্তব্ধচ্ছবি--
হে শর্বরী, সেই তব বাক্যহীন জাগ্রত সভায়
          মোরে করি দাও সভাকবি।
আরো দেখুন
বাণীহারা
Verses
ওগো মোর      নাহি যে বাণী
     আকাশে হৃদয় শুধু বিছাতে জানি।
          আমি অমাবিভাবরী আলোকহারা
               মেলিয়া তারা
          চাহি নিঃশেষ পথপানে
               নিষ্ফল আশা নিয়ে প্রাণে।
          বহুদূরে বাজে তব বাঁশি,
             সকরুণ সুর আসে ভাসি
                   বিহ্বল বায়ে
               নিদ্রাসমুদ্র পারায়ে।
          তোমারি সুরের প্রতিধ্বনি
               দিই যে ফিরায়ে--
          সে কি তব স্বপ্নের তীরে
               ভাঁটার স্রোতের মতো
          লাগে ধীরে, অতি ধীরে ধীরে।
আরো দেখুন