১৫৫ (boroshe boroshe shiulitolay)

বরষে বরষে শিউলিতলায়

     ব'স অঞ্জলি পাতি,

ঝরা ফুল দিয়ে মালাখানি লহ গাঁথি;

     এ কথাটি মনে জানো--

দিনে দিনে তার ফুলগুলি হবে ম্লান,

     মালার রূপটি বুঝি

মনের মধ্যে রবে কোনোখানে

     যদি দেখ তারে খুঁজি।

     সিন্দুকে রহে বন্ধ,

হঠাৎ খুলিলে আভাসেতে পাও

     পুরানো কালের গন্ধ।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

স্মৃতি-প্রতিমা
Verses
আজ কিছু করিব না আর,
সমুখেতে চেয়ে চেয়ে      গুন গুন গেয়ে গেয়ে
          বসে বসে ভাবি এক বার।
আজি বহু দিন পরে          যেন সেই দ্বিপ্রহরে
          সেদিনের বায়ু বহে যায়,
হা রে হা শৈশবমায়া,         অতীত প্রাণের ছায়া,
          এখনো কি আছিস হেথায়?
এখনো কি থেকে থেকে     উঠিস রে ডেকে ডেকে,
          সাড়া দিবে সে কি আর আছে?
যা ছিল তা আছে সেই,       আমি যে সে আমি নেই,
          কেন রে আসিস মোর কাছে?
কেন রে পুরানো স্নেহে      পরানের শূন্য গেহে
          দাঁড়ায়ে মুখের পানে চাস?
অভিমানে ছলছল              নয়নে কী কথা বল,
          কেঁদে ওঠে হৃদয় উদাস।
আছিল যে আপনার সে বুঝি রে নাই আর,
          সে বুঝি রে হয়ে গেছে পর,
তবু সে কেমন আছে,       শুধাতে আসিস কাছে,
          দাঁড়ায়ে কাঁপিস থর্‌ থর্‌।
আয় রে আয় রে অয়ি,      শৈশবের স্মৃতিময়ী,
          আয় তোর আপনার দেশে,
যে প্রাণ আছিল তোরি       তাহারি দুয়ার ধরি
          কেন আজ ভিখারিনী, বেশে।
আগুসরি ধীরি ধীরি        বার বার চাস ফিরি,
          সংশয়েতে চলে না চরণ,
ভয়ে ভয়ে মুখপানে       চাহিস আকুল প্রাণে,
          ম্লান মুখে  না সরে বচন।
দেহে যেন নাহি বল,      চোখে পড়ে-পড়ে জল,
          এলো চুলে, মলিন বসনে--
কথা কেহ বলে পাছে      ভয়ে না আসিস কাছে,
          চেয়ে রোস আকুল নয়নে।
সেই ঘর সেই দ্বার        মনে পড়ে বার বার
          কত যে করিলি খেলাধূলি,
খেলা ফেলে গেলি চলে,  কথাটি না গেলি বলে,
          অভিমানে নয়ন আকুলি।
যেথা যা গেছিলি রেখে      ধুলায় গিয়েছে ঢেকে,
          দেখ্‌ রে তেমনি আছে পড়ি,
সেই অশ্রু সেই গান           সেই হাসি অভিমান,
          ধুলায় যেতেছে গড়াগড়ি।
তবে রে বারেক আয়     বোস হেথা পুনরায়,
          ধুলিমাখা অতীতের মাঝে--
শূন্য গৃহ জনহীন          পড়ে আছে কত দিন,
          আর হেথা বাঁশি নাহি বাজে।
কেন তবে আসিবি নে    কেন কাছে বসিবি নে
          এখনো বাসিস যদি ভালো!
আয় রে ব্যাকুল প্রাণে     চাই দুঁহু মুখপানে,
          গোধূলিতে নিব-নিব আলো।
নিবিছে সাঁঝের ভাতি,     আসিছে আঁধার রাতি
       এখনি ছাইবে চারি ভিতে--
রজনীর অন্ধকারে           মরণসাগর-পারে
       কেহ কারে নারিব দেখিতে।
আকাশের পানে চাই--    চন্দ্র নাই, তারা নাই,
       একটু না বহিছে বাতাস,
শুধু দীর্ঘ দীর্ঘ নিশি        দুজনে আঁধারে মিশি
       শুনিব দোঁহার দীর্ঘশ্বাস।
এক বার চেয়ে দেখি,      কোন্‌খানে আছে যে কী,
       কোন্‌খানে করেছিনু খেলা,
শুকানো এ মালাগুলি       রাখি রে কণ্ঠেতে তুলি,
       কখন চলিয়া যাবে বেলা।
আয় তবে আয় হেথা,      কোলে তোর রাখি মাথা,
       কেশপাশে মুখ দে রে ঢেকে
বিন্দু বিন্দু ধীরে ধীরে        অশ্রু পড়ে অশ্রুনীরে,
       নিশ্বাস উঠিছে থেকে থেকে।
সেই পুরাতন স্নেহে        হাতটি বুলাও দেহে,
       মাথাটি বুকেতে তুলে রাখি--
কথা কও নাহি কও,        চোখে চোখে চেয়ে রও,
       আঁখিতে ডুবিয়া যাক আঁখি।
আরো দেখুন
89
Verses
NO MORE NOISY, loud words from me-such is my master's will. Henceforth I deal in whispers. The speech of my heart will be carried on in murmurings of a song.
Men hasten to the King's market. All the buyers and sellers are there. But I have my untimely leave in the middle of the day, in the thick of work.
Let then the flowers come out in my garden, though it is not their time; and let the midday bees strike up their lazy hum.
Full many an hour have I spent in the strife of the good and the evil, but now it is the pleasure of my playmate of the empty days to draw my heart on to him; and I know not why is this sudden call to what useless inconsequence!
আরো দেখুন
তেঁতুলের ফুল
Verses
             জীবনের অনেক, ধন পাই নি,
                    নাগালের বাইরে তারা;
             হারিয়েছি তার চেয়ে অনেক বেশি
                         হাত পাতি নি ব'লেই।
                    সেই চেনা সংসারে
                       অসংস্কৃত পল্লীরূপসীর মতো
                         ছিল এই ফুল মুখঢাকা,
             অকাতরে উপেক্ষা করেছে উপেক্ষাকে
                         এই তেঁতুলের ফুল।
          বেঁটে গাছ পাঁচিলের ধারে,
           বাড়তে পারে নি কৃপণ মাটিতে;
             উঠেছে ঝাঁকড়া ডাল মাটির কাছ ঘেঁষে।
                  ওর বয়স হয়েছে যায় নি বোঝা।
          অদূরে ফুটেছে নেবু ফুল,
             গাছ ভরেছে গোলকচাঁপায়,
               কোণের গাছে ধরেছে কাঞ্চন,
                    কুড়চি-শাখা ফুলের তপস্যায় মহাশ্বেতা।
                       স্পষ্ট ওদের ভাষা,
             ওরা আমাকে ডাক দিয়ে করেছে আলাপ।
        আজ যেন হঠাৎ এল কানে
             কোন্‌ ঘোমটার নীচে থেকে চুপিচুপি কথা।
                  দেখি পথের ধারে তেঁতুলশাখার কোণে
                       লাজুক একটি মঞ্জরী,
                           মৃদু বসন্তী রঙ,
                                মৃদু একটি গন্ধ,
                           চিকন লিখন তার পাপড়ির-গায়ে।
শহরের বাড়িতে আছে
             শিশুকাল থেকে চেনাশোনা অনেক কালের তেঁতুল গাছ,
                     দিক্‌পালের মতো দাঁড়িয়ে
                       উত্তরপশ্চিম কোণে,
                  পরিবারের যেন পুরোনো কালের সেবক,
                         প্রপিতামহের বয়সী।
                  এই বাড়ির অনেক জন্মমৃত্যুর পর্বের পর পর্বে
                       সে দাঁড়িয়ে আছে চুপ করে,
                           যেন বোবা ইতিহাসের সভাপণ্ডিত।
                  ওই গাছে ছিল যাদের নিশ্চিত দখল কালে কালে
                      তাদের কত লোকের নাম
                       আজ ওর ঝরা পাতার চেয়েও ঝরা,
                           তাদের কত লোকের স্মৃতি
                                ওর ছায়ার চেয়েও ছায়া।
            একদিন ঘোড়ার আস্তাবল ছিল ওর তলায়
                         খুরের-খট্‌খটানিতে-অস্থির
                  খোলার-চালা-দেওয়া ঘরে।
           কবে চলে গেছে সহিসের হাঁক ডাকা।
               সেই ঘোড়া-বাহনের যুগ
                        ইতিবৃত্তের ও পারে।
           আজ চুপ হয়েছে হ্রেষাধ্বনি,
               রঙ বদল করেছে কালের ছবি।
           সর্দার কোচম্যানের সযত্নসজ্জিত দাড়ি,
                  চাবুক হাতে তার সগর্ব উদ্ধত পদক্ষেপ,
           সেদিনকার শৌখিন সমারোহের সঙ্গে
                  গেছে সাজ-পরিবর্তনের মহানেপথ্যে।
               দশটা বেলার প্রভাত-রৌদ্রে
               ওই তেঁতুলতলা থেকে এসেছে দিনের পর দিন
অবিচলিত নিয়মে ইস্কুলে যাবার গাড়ি।
          বালকের নিরুপায় অনিচ্ছার বোঝাটা
            টেনে নিয়ে গেছে রাস্তার ভিড়ের মাঝখান দিয়ে।
              আজ আর চেনা যাবে না সেই ছেলেকে--
                  না দেহে, না মনে, না অবস্থায়।
          কিন্তু চিরদিন দাঁড়িয়ে আছে যেই আত্মসমাহিত তেঁতুল গাছ
                         মানবভাগ্যের ওঠানামার প্রতি
                              ভ্রূক্ষেপ না ক'রে।
    মনে আছে একদিনের কথা।
        রাত্রি থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি;
              ভোরের বেলায় আকাশের রঙ
                  যেন পাগলের চোখের তারা।
        দিক্‌হারানো ঝড় বইছে এলোমেলো,
             বিশ্বজোড়া অদৃশ্য খাঁচায় মহাকায় পাখি
                  চার দিকে ঝাপট মারছে পাখা।
                       রাস্তায় দাঁড়ালো জল,
                  আঙিনা গেছে ভেসে।
               বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখছি,
        ক্রুদ্ধ মুনির মতো ওই গাছ মাথা তুলেছে আকাশে,
                  তার শাখায় শাখায় ভর্ৎসনা।
        গলির দুই ধারে কোঠাবাড়িগুলো হতবুদ্ধির মতো,
               আকাশের অত্যাচারে
           প্রতিবাদ করবার ভাষা নেই তাদের।
         একমাত্র ওই গাছটার পত্রপুঞ্জের আন্দোলনে
               আছে বিদ্রোহের বাণী,
             আছে স্পর্ধিত অভিসম্পাত।
    অন্তহীন ইঁটকাঠের মূক জড়তার মধ্যে
           ওই ছিল একা মহারণ্যের প্রতিনিধি--
    সেদিন দেখেছি তার বিক্ষুব্ধ মহিমা বৃষ্টিপাণ্ডুর দিগন্তে।
কিন্তু যখন বসন্তের পর বসন্ত এসেছে,
                    অশোক বকুল পেয়েছে সম্মান;
           ওকে জেনেছি যেন ঋতুরাজের বাহির-দেউড়ির দ্বারী,
                     উদাসীন, উদ্ধত।
             সেদিন কে জেনেছিল--
                  ওই রূঢ় বৃহতের অন্তরে সুন্দরের নম্রতা,
             কে জেনেছিল বসন্তের সভায় ওর কৌলীন্য
        ফুলের পরিচয়ে আজ ওকে দেখছি।
          যেন গন্ধর্ব চিত্ররথ,
               যে ছিল অর্জুনবিজয়ী মহারথী
         গানের সাধন করছে সে আপন মনে একা
              নন্দনবনের ছায়ার আড়ালে গুন গুন সুরে।
           সেদিনকার কিশোর কবির চোখে
               ওই প্রৌঢ় গাছের গোপন যৌবনমদিরতা
                  যদি ধরা পড়ত উপযুক্ত লগ্নে,
                    মনে আসছে, তবে
                  মৌমাছির পাখা-উতল-করা
                   কোন্‌-এক পরম দিনের তরুণ প্রভাতে
                                একটি ফুলের গুচ্ছ করতেম চুরি
                           পরিয়ে দিতেম কেঁপে-ওঠা আঙুল দিয়ে
                       কোন্‌ একজনের আনন্দে-রাঙা কর্ণমূলে।
                          যদি সে শুধাত, কী নাম,
                                   হয়তো বলতেম--
        ওই যে রৌদ্রের এক টুকরো পড়েছে তোমার চিবুকে
               ওর যদি কোনো নাম তোমার মুখে আসে
                       একেও দেব সেই নামটি।
আরো দেখুন