প্রাণের দান (praner dan)

অব্যক্তের অন্তঃপুরে উঠেছিলে জেগে,

তার পর হতে তরু, কী ছেলেখেলায়

নিজেরে ঝরায়ে চল চলাহীন বেগে,

পাওয়া দেওয়া দুই তব হেলায়-ফেলায়।

প্রাণের উৎসাহ নাহি পায় সীমা খুঁজি

মর্মরিত মাধুর্যের সৌরভসম্পদে।

মৃত্যুর উৎসাহ সেও অফুরন্ত বুঝি

জীবনের বিত্তনাশ করে পদে পদে।

আপনার সার্থকতা আপনার প্রতি

আনন্দিত ঔদাসীন্যে; পাও কোন্‌ সুধা

রিক্ততায়; পরিতাপহীন আত্মক্ষতি

মিটায় জীবনযজ্ঞে মরণের ক্ষুধা।

এমনি মৃত্যুর সাথে হোক মোর চেনা,

প্রাণেরে সহজে তার করিব খেলেনা।      

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

মানসী
Verses
    মনে নেই, বুঝি হবে অগ্রহান মাস,
               তখন তরণীবাস
                   ছিল মোর পদ্মাবক্ষ-'পরে।
               বামে বালুচরে
     সর্বশূন্য শুভ্রতার না পাই অবধি।
               ধারে ধারে নদী
কলরবধারা দিয়ে নিঃশব্দেরে করিছে মিনতি।
      ওপারেতে আকাশের প্রশান্ত প্রণতি
          নেমেছে মন্দিরচূড়া-'পরে।
     হেথা-হোথা পলিমাটিস্তরে
               পাড়ির নিচের তলে
         ছোলা-খেত ভরেছে ফসলে।
অরণ্যে নিবিড় গ্রাম নীলিমার নিম্নান্তের পটে;
               বাঁধা মোর নৌকাখানি জনশূন্য বালুকার তটে।
                   পূর্ণ যৌবনের বেগে
          নিরুদ্দেশ বেদনার জোয়ার উঠেছে মনে জেগে
                   মানসীর মায়ামূর্তি বহি।
          ছন্দের বুনানি গেঁথে অদেখার সাথে কথা কহি।
                   ম্লানরৌদ্র অপরাহ্নবেলা
          পান্ডুর জীবন মোর হেরিলাম প্রকান্ড একেলা
               অনারব্ধ সৃজনের বিশ্বকর্তা-সম।
                        সুদূর দুর্গম
                   কোন্‌ পথে যায় শোনা
               অগোচর চরণের স্বপ্নে আনাগোনা।
প্রলাপ বিছায়ে দিনু আগন্তুক অচেনার লাগি,
     আহ্বান পাঠানু শূন্যে তারি পদপরশন মাগি।
          শীতের কৃপণ বেলা যায়।
                   ক্ষীণ কুয়াশায়
                        অস্পষ্ট হয়েছে বালি।
          সায়াহ্নের মলিন সোনালি
                        পলে পলে
     বদল করিছে রঙ মসৃণ তরঙ্গহীন জলে।
     বাহিরেতে বাণী মোর হল শেষ,
অন্তরের তারে তারে ঝংকারে রহিল তার রেশ।
     অফলিত প্রতীক্ষার সেই গাথা আজি
কবিরে পশ্চাতে ফেলি শূন্যপথে চলিয়াছে বাজি।
               কোথায় রহিল তার সাথে
     বক্ষস্পন্দে-কম্পমান সেই স্তব্ধ রাতে
                   সেই সন্ধ্যাতারা।
               জন্মসাথিহারা
কাব্যখানি পাড়ি দিল চিহ্নহীন কালের সাগরে
                   কিছুদিন তরে;
               শুধু একখানি
                   সূত্রছিন্ন বাণী
          সেদিনের দিনান্তের মগ্নস্মৃতি হতে
                        ভেসে যায় স্রোতে।
আরো দেখুন
49
Verses
IN THE WORLD'S dusty road I lost my heart, but you picked it up in your hand.
I gleaned sorrow while seeking for joy, but the sorrow which you sent to me has turned to joy in my life.
My desires were scattered in pieces, you gathered them and strung them in your love.
And while I wandered from door to door, every step led me to your gate.
আরো দেখুন
ফাঁক
Verses
    আমার বয়সে
         মনকে বলবার সময় এল--
                 কাজ নিয়ে কোরো না বাড়াবাড়ি
                         ধীরে সুস্থে চলো,
                 যথোচিত পরিমাণে ভুলতে করো শুরু
             যাতে ফাঁক পড়ে সময়ের মাঝে মাঝে।
         বয়স যখন অল্প ছিল
কর্তব্যের বেড়ায় ফাঁক ছিল যেখানে সেখানে।
         তখন যেমন-খুশির ব্রজধামে
             ছিল বালগোপালের লীলা।
                     মথুরার পালা এল মাঝে,
                            কর্তব্যের রাজাসনে।
আজ আমার মন ফিরেছে
         সেই কাজ-ভোলার অসাবধানে।
কী কী আছে দিনের দাবি
         পাছে সেটা যাই এড়িয়ে
      বন্ধু তার ফর্দ রেখে যায় টেবিলে।
         ফর্দটাও দেখতে ভুলি,
             টেবিলে এসেও বসা হয় না--
                 এম্‌নিতরো ঢিলে অবস্থা।
গরম পড়েছে ফর্দে এটা না ধরলেও
         মনে আনতে বাধে না।
      পাখা কোথায়,
             কোথায় দার্জিলিঙের টাইম-টেবিলটা,
--এমনতরো হাঁপিয়ে ওঠবার ইশারা ছিল
         থার্মোমিটারে।
                 তবু ছিলেম স্থির হয়ে।
             বেলা দুপুর,
      আকাশ ঝাঁ ঝাঁ করছে,
             ধূ ধূ করছে মাঠ,
         তপ্ত বালু উড়ে যায় হূহু করে--
             খেয়াল হয় না।
      বনমালী ভাবে দরজা বন্ধ করাটা
             ভদ্রঘরের কায়দা--
         দিই তাকে এক ধমক।
      পশ্চিমের সাশির ভিতর দিয়ে
         রোদ ছড়িয়ে পড়ে পায়ের কাছে।
             বেলা যখন চারটে
      বেহারা এসে খবর নেয়, চিট্‌ঠি?
         হাত উলটিয়ে বলি, নাঃ।
      ক্ষণকালের জন্য খটকা লাগে
                 চিঠি লেখা উচিত ছিল--
      ক্ষণকালটা যায় পেরিয়ে,
ডাকের সময় যায় তার পিছন পিছন।
      এ দিকে বাগানে পথের ধারে
                 টগর গন্ধরাজের পুঁজি ফুরোয় না,
      এরা ঘাটে-জটলা-করা বউদের মতো
         পরস্পর হাসাহাসি ঠেলাঠেলিতে
                 মাতিয়ে তুলেছে কুঞ্জ আমার।
কোকিল ডেকে ডেকে সারা--
         ইচ্ছে করে তাকে বুঝিয়ে বলি,
             অত একান্ত জেদ কোরো না
                 বনান্তরের উদাসীনকে মনে রাখবার জন্যে।
মাঝে মাঝে ভুলো, মাঝে মাঝে ফাঁক বিছিয়ে রেখো জীবনে;
                 মনে রাখার মানহানি কোরো না
                     তাকে দুঃসহ ক'রে।
             মনে আনবার অনেক দিন-ক্ষণ আমারো আছে,
                     অনেক কথা, অনেক দুঃখ।
তার ফাঁকের ভিতর দিয়েই
             নতুন বসন্তের হাওয়া আসে
      রজনীগন্ধার গন্ধে বিষণ্ন হয়ে;
         তারি ফাঁকের মধ্যে দিয়ে
             কাঁঠালতলার ঘন ছায়া
                 তপ্ত মাঠের ধারে
         দূরের বাঁশি বাজায়
                 অশ্রুত মূলতানে।
      তারি ফাঁকে ফাঁকে দেখি--
ছেলেটা ইস্কুল পালিয়ে খেলা করছে
             হাঁসের বাচ্ছা বুকে চেপে ধ'রে
                     পুকুরের ধারে
         ঘাটের উপর একলা ব'সে
                 সমস্ত বিকেল বেলাটা।
তারি ফাঁকের ভিতর দিয়ে দেখতে পাই
         লিখছে চিঠি নূতন বধূ,
             ফেলছে ছিঁড়ে, লিখছে আবার।
      একটুখানি হাসি দেখা দেয় আমার মুখে,
             আবার একটুখানি নিশ্বাসও পড়ে।
আরো দেখুন